অবরুদ্ধ ঈদ

এরকম কি আগে কখনও ঘটেছে !?! ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় কিংবা কোন প্রাকৃতিক দূর্যোগের সময় !!! প্রাকৃতিক দূর্যোগ অবশ্য পুরো দেশকে স্থবির করে না, হয়তো কোন একটি জনপদ। তবে যুদ্ধের সময় হয়তো পুরো দেশই হয়তো কম-বেশী অবরুদ্ধ থাকে। আমাদের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় আমি নিতান্তই বালক। তাই স্মৃতি খূব একটা স্পষ্ট না। হয়তো কোন ঘটনা বেশ ভাল-ভাবে মনে আছে আবার কোন ঘটনা আবছা।

১৯৭১ সালে আমাদের অবস্থান ছিলো তেজগাঁও পলিটেকনিক ইনষ্টিটিউট এর সিনিয়র ষ্টাফ কোয়ার্টার এ। এটির অবস্থান পলিচেকনিক ইনষ্টিটিউট থেকে আরেকটু সামনে বেগ রাবার ইন্ডাষ্ট্রিজ এর গলিতে। অবশ্য বেগ রাবার ইন্ডাষ্ট্রিজ এখনও আছে কিনা খেয়াল করি নাই। যাই হোক। এই কোয়ার্টারেই আমরা নয় মাসের প্রায় পুরোটা সময় কাটিয়েছি। একবারে ডিসেম্বর মাসে যখন বিমান থেকে বোমা ফেলা শুরু হলো তখন এখান থেকে বুয়েটে বড় চাচার বাসায় চলে গিয়েছিলাম। সত্যি কথা বলতে কি এই কোয়ার্টারে থেকে যুদ্ধের যে ভয়াবহতা সেটা ধরতে গেলে আমাদের সে ভাবে দেখতে হয়নি। তবে ২/৩টি ঘটনা হয়তো ঘটেছিলো। আর সেসব ঘটনা যুদ্ধের ভয়াবহতা বুঝার জন্য যথেষ্টই ছিলো।

বলছিলাম অবরুদ্ধ অবস্থায় ঈদ উদযাপনের কথা। ঈদের কথা একটু একটু মনে আছে। তবে সেটি রোজার ঈদ না কোরবানির, তা আর মনে নেই। কেবল মনে আছে আব্বার সাথে নামাজ পড়তে গিয়েছিলাম। সিনিয়র ষ্টাফ কোয়ার্টারের ঠিক পিছনেই পলিটেকনিক ইনষ্টিটিউট এর একটি ছাত্রাবাস আছে। নাম মনে নেই। সেখানেই ছোট একটি মসজিদ, কোয়ার্টারের সবাই সেখানেই নামাজ পড়তো। আমার কেবল মনে আছে সেবার ঈদে নামাজ পড়তে গিয়ে ট্রাকে করে পাকিস্তানি সৈন্যদের ঘুরাঘুরি করতে দেখেছিলাম। কেউ কেউ অস্ত্র সহ মসজিদের আশে-পাশেই অবস্থান করছিলো। নামাজের পরে আব্বা যখন তার পরিচিতজনদের সাথে কুশল বিনিময় করছিলো, আমি তখন এক ফাঁকে আব্বাকে বলে বাসার দিকে রওনা দেই। গেটে অস্ত্রধারী সন্যের অস্ত্রটি কাছ থেকে দেখার জন্য তার খূব কাছে চলে গিয়েছিলাম। সে আমাকে উর্দূতে কিছু একটা বলেছিলো। আমি কিছুই বুঝি নাই। তবে সেটাকে বকা ধরে নিয়ে সোজা বাসায় চলে এসেছিলাম। বাসায় এসে যথারীতি আম্মাকে এ ঘটনা বলার পর আম্মা তো আমাকে উল্টা বকা। কেন অস্ত্র দেখার শখ হলো, যদি গুলি করে দিতো। সেই সাথে আব্বাকে ছাড়া কেন আসলাম সেটা নিয়েও গজ গজ করছিলো। স্মৃতি বলতে এতোটুকুই। আগে-পরের আর কিছু মনে নেই।

এবারের ঈদ অনেকটাই এরকম। যদিও অনেকেই মসজিদে গেছেন নামাজ পড়তে। অনেকে আত্মীয়-স্বজনদের বাসায় ও যাচ্ছে। আবার অনেকেই করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে বাসাতেই অবস্থান করছে। আত্মীয়-স্বজনদের খোজ খবর নিচ্ছে ফোনে। এই অদৃশ্য আততায়ীর বিরুদ্ধে যারা সচেতন তারাই হয়তো এযাত্রা বেঁচে যাবে এ যুদ্ধে।

ভাল থাকুন, নিরাপদে ঘরে থাকুন। ঈদ মুবারক।

রিফাত জামিল ইউসুফজাই

জাতিতে বাঙ্গালী, তবে পূর্ব পূরুষরা নাকি এসেছিলো আফগানিস্তান থেকে - পাঠান ওসমান খানের নেতৃত্বে মোঘলদের বিরুদ্ধে লড়াই করতে। লড়াই এ ওসমান খান নিহত এবং তার বাহিনী পরাজিত ও পর্যূদস্ত হয়ে ছড়িয়ে পড়ে টাঙ্গাইলের ২২ গ্রামে। একসময় কালিহাতি উপজেলার চারাণ গ্রামে থিতু হয় তাদেরই কোন একজন। এখন আমি থাকি বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকায়। কোন এককালে শখ ছিলো শর্টওয়েভ রেডিও শোনা। প্রথম বিদেশ ভ্রমণে একমাত্র কাজ ছিলো একটি ডিজিটাল রেডিও কেনা। ১৯৯০ সালে ষ্টকহোমে কেনা সেই ফিলিপস ডি ২৯৩৫ রেডিও এখনও আছে। দিন-রাত রেডিও শুনে রিসেপশন রিপোর্ট পাঠানো আর QSL কার্ড সংগ্রহ করা - নেশার মতো ছিলো সেসময়। আস্তে আস্তে সেই শখ থিতু হয়ে আসে। জায়গা নেয় ছবি তোলা। এখনও শিখছি এবং তুলছি নানা রকম ছবি। কয়েক মাস ধরে শখ হয়েছে ক্র্যাফটিং এর। মূলত গয়না এবং নানা রকম কার্ড তৈরী, সাথে এক-আধটু স্ক্র্যাপবুকিং। সাথে মাঝে মধ্যে ব্লগ লেখা আর জাবর কাটা। এই নিয়েই চলছে জীবন বেশ।