আম্মা

সেদিন ঠিক কি বার ছিলো মনে নেই। মনে আছে কোন সরকারী ছুটির দিন ছিলো, খূব সম্ভবত ঈদে মিলাদুন্নবীর ছুটি। তারিখ ছিলো ১৮ই ডিসেম্বর, ১৯৮৩ সাল। কয়েকমাস আগে আমার এইচএসসি’র রেজাল্ট দিয়েছে। এজ এক্সপেক্টেড ডাব্বা মেরেছিলাম। ডাব্বা মানে অকৃতকার্য না অবশ্য, ৩য় বিভাগ পেয়েছিলাম। রেজাল্ট বের হওয়ার কয়েকমাস আগে একমাত্র বোনের বিয়ে হয়েছে। সেদিন সে ছিলো শ্বশুর বাড়ীতে, গেন্ডারিয়ায়। বেইলী স্কয়ারের বাসায় কেবল আব্বা, আম্মা, ছোট ভাই আর আমি। আব্বা অবশ্য সকালেই কোথায় যেন গিয়েছে। দূপুরের আগেই চলে আসার কথা। বিকালে আমার বোনের বাসায় যাওয়ার কথা।

ঠিক কয়টা বাজে তখন মনে নেই, আব্বা বাসায় এসেছে, হাতে বাজারের ব্যাগ। আমাকে বললো আম্মাকে ডেকে দিতে, মাছ ফ্রিজে রাখতে হবে। আম্মা গোসল করতে ঢুকেছিলো। আমি দেখতে গেলাম আম্মার গোসল শেষ হয়েছে কিনা দেখতে। বাথরুমের কাছে গিয়ে দেখলাম দরজা কিছুটা খোলা, আম্মা শাড়ীর কুঁচি ঠিক করছে। বললাম আব্বা ডাকছে, মাছ নিয়ে এসেছে। আমি ঠিক ভালভাবে খেয়াল করি নাই তখন। বলেই চলে আসছি।

দুই মিনিটও মনে হয় হয়নি, আব্বার চিৎকার শুনতে পেলাম – রঞ্জু তাড়াতাড়ি আসো। আমি দৌড়ে ঘরে গিয়ে বুঝলাম আব্বা-আম্মা বারান্দায়। গিয়ে দেখি আম্মা একটা চেয়ারের উপর বসা, আব্বা তাকে ধরে আছে। আব্বা বললো মনে হয় তোমার আম্মার ষ্ট্রোক করেছে। তুমি এখানে তোমার আম্মা’কে ধরে রাখো। আমি মিতুল’কে দেখি ফোনে পাই কিনা। মিতুল দাদা আমার কাজিন, তখন মনে হয় ঢাকা মেডিকেল কলেজে ইন্টার্ন করছে।

আমি তখন খেয়াল করলাম আম্মার মূখ বাঁকা হয়ে যাচ্ছে আর আম্মা কি যেন বলার চেষ্টা করছে। আম্মা বলতে চাইছে আমার আব্বার মতো হয়ে যাচ্ছে। আমার নানা’রও ষ্ট্রোক করেছিলো, কয়েক ঘন্টা মাত্র বেঁচে ছিলেন। আম্মার মূখের এই অবস্থা দেখে বুঝলাম দ্রুত কিছু একটা করতে হবে। তখন তো ল্যান্ডফোনের যুগ, আমাদের বাসায় তখন ফোন নাই। চিন্তা করলাম আব্বা যদি ফোনে মিতুল দাদা’কে না পায় কিংবা পেলেও বুয়েটের বাসা থেকে আসতেও তো সময় লাগবে। বেইলী স্কয়ারে তখন কয়েকজন ডাক্তার থাকতেন। যদিও কাউকে সেরকম ভাবে চিনতাম না। বন্ধু শাহিনের পাশের বাসায় থাকতেন ডাঃ মোবিন খান, প্রখ্যাত কিডনি বিশেষজ্জ। আমি ছোট ভাইকে বললাম তুমি আম্মাকে ধরে দাড়াও, আমি দেখি কোয়ার্টারের কোন ডাক্তারকে পাই কিনা। মিতুল দাদার আশায় বসে থেকে লাভ নাই।

ছোট ভাই কে বসিয়ে রেখে দরজা চাপিয়ে দৌড় দিলাম ৬ নাম্বার বিল্ডিং এর দিকে। যদি ডাঃ মবিন খানকে পাওয়া যায়। শহিনের বাসায় আগে নক করলাম। শাহিন বাসায় নাই, খালাম্মা’কে বলতেই খালাম্মা ডাঃ মবিন খানের বাসায় নক করলেন। মিসেস মবিন খান জানালেন ডাক্তার সাহেব বাসায় নাই। তবে মহিলা জানালেন আমাদের পাশের বিল্ডিং ৯ নাম্বারের ৬ তলায় একজন মহিলা ডাক্তার থাকেন। আমি ধন্যবাদ জানিয়ে ছুটলাম ৯ নাম্বারের দিকে। পথে মাঠের মধ্যে আব্বার সাথে দেখা। বললেন ডাঃ মবিন খান’কে খূজতে যাচ্ছেন। মিতুল দাদা তখনও বাসায় ফিরে নাই। আমি তাকে বাসায় পাঠিয়ে দিলাম। ৯ নাম্বার বািল্ডিং এর ৬ তলায় উঠে গেলাম দৌড়াতে দৌড়াতে। দরজায় নক করতেই কাজের মেয়ে দরজা খুলে দিলো। আমি তো ডাক্তfর মহিলার নাম জানি না, বললাম ডাক্তার ম্যাডাম আছেন। আমার কথা শুনেই একজন ভদ্রমহিলা সামনে আসলেন। এক নিঃশ্বাসে সব বলে ফেললাম। মহিলা তখন বললেন একটু দাড়াও আমি কেবল কাপড়টা চেঞ্জ করে নেই। ডাক্তার আন্টি খূব দ্রুতই শাড়ী পাল্টে আসলেন, হাতে বিপি মেশিন আর ষ্টেথো। সিড়ি দিয়ে নামতে নামতে বললেন ‘আমি কিন্তু ডাক্তারি করি না কয়েক বছর। ঢাকা মেডিকেলে পড়াই।’ তারপর জিজ্ঞাসা করলেন ষ্ট্রোক হয়েছে কিভাবে বুঝলে ?’ বললাম প্রথমত আব্বা বললো আর দ্বিতীয়ত মূখ বাঁকা হয়ে যাচ্ছে দেখে সিরিয়াস কিছু হয়েছে এটা বুঝেছি। আন্টি তখন বললেন ষ্ট্রোক হয়েছে বুঝার পর প্রথম কাজ হলো দ্রুত রোগীকে হাসাপাতালে নিয়ে যাওয়া। কারণ ডাক্তার বাসায় এসে খূব একটা কিছু করতে পারবে না।

বাসায় ঢুকে দেখলাম প্রতিবেশী দুই মহিলা চলে এসেছেন। তাদের সহায়তায় আব্বা আম্মাকে ঘরে এনে বিছানায় শুইয়ে দিয়েছেন। ডাক্তার আন্টি প্রেশার মেপেই বললেন প্রেশার তো প্রচন্ড হাই। তারপর কাগজ চেয়ে নিয়ে একটা ঔষধ লিখে নিজের নাম আর ডেজিগনেশন লিখে আমার হাতে দিয়ে বললেন এটা নিয়ে আসার চেষ্টা করো। দিতে চাইবে না তোমাকে, আমার নাম পদবি লিখে দিলাম এই জন্য। দেখলাম প্যাথেডিন ইঞ্জেকশন লেখা। আন্টি বললেন তিনি বাসায় গিয়ে তার ঢাক্তার ভাই’কে পাঠিয়ে দিবেন যদি এর মধ্যে চলে আসে। আর আব্বাকে বললেন দেরী না করে এখনই হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করতে। আমি দেরী না করে আব্বার কাছ থেকে টাকা নিয়ে বের হলাম প্যাথেডিন ইঞ্জেকশন জোগাড় করার জন্য

জীবনে মনে হয় সেদিনের মতো এতোটা বেকায়দা অবস্থায় পড়ি নাই। বেইলী স্কয়ার থেকে মগবাজার, সেখান থেকে মৌচাক, মৌচাক থেকে মালিবাগ মোর, আবার মৌচাক, এরপর মালিবাগ রেলগেট। রেলগেট থেকে আবার মৌচাক, সেখান থেকে আবার মগবাজারের দিকে – এবার অবশ্য অন্য সাইড দিয়ে। কিন্তু কোন দোকানদার আমার কাছে প্যাথেডিন বিক্রি করবে না। অথচ শুনি এই ইঞ্জেকশন দিয়ে লোকজন নাকি নেশা করে, ফার্মেসিওয়ালারা বিক্রি না করলে পায় কোথায়। কেউ কেউ অবশ্য বলছিলো প্রেসক্রিপশন আনতে পারলে দিবে। প্রেসক্রিপশন না থাকার ব্যাখ্যা স্বভাবতই তারা বিশ্বাস করে নাই। অবশেষে রাশমনো পলি ক্লিনিকের পাশের এক ফার্মেসি’তে বয়স্ক একজন ভদ্রলোকের দয়া হলো। তাকেও অবশ্য প্রেসক্রিপশন না থাকার ব্যাখ্যা দিতে হয়েছিলো। সব শুনে তিনি বললেন তোমার চেহারা দেখে মনে হচ্ছে তুমি সত্যি কথাই বলছো। নিয়ে যাও, আমি বিশ্বাস করেই দিলাম। আমি ভদ্রলোকের হাত ধরে কিছু বলতে চাইছিলাম, পারি নাই। চোখ দিয়ে পানি বের হয়ে এসেছিলো।

অথচ সেদিন শান্তিনগরে বন্ধু আরিফের বাসার নিচতলায় যে ওদের ‘শান্তিনগর ক্লিনিক’ নামের ফার্মেসি ছিলো, সেটার কথা একবারের জন্যও মাথায় আসে নাই। এমনকি মালিবাগ মোর পর্যন্ত যাওয়ার পরেও। সেই ফার্মেসি’তে দুলাল ভাই বসতেন। তাকেও ভাল করে চিনতাম। কি আর করা।

বাসায় পৌছে দেখি মিতুল দাদা আর ডাক্তার আন্টির ভাই চলে এসেছেন। তবে তারা জানালেন আপাতত ইঞ্জেকশন দিবেন না, আগে হাসপাতালে ট্রান্সফার করবেন। এম্বুলেন্স খবর দেয়া হয়েছে। চলে আসবে তিছুক্ষণের মধ্যেই। আব্বা আমাকে ডেকে হাতে কিছু টাকা দিয়ে বললেন গেন্ডারিয়া বোনের বাসায় যেতে। তাকে নিয়ে যেন সরাসরি ঢাকা মেডিকেলের ইমার্জেন্সিতে চলে যাই।

এম্বুলেন্স আম্মাকে নিয়ে চলে গেলো। আমি তাড়াতাড়ি একটু খেয়ে নিয়ে রওনা দিলাম বোনের বাসার দিকে। আম্মা সেদিন রান্না শেষ করেই গোসল করতে ঢুকেছিলেন। বোনের বাসায় ঢুকে দুলাভাই’কে আগে জানালাম। বোন-দূলাভাই সহ আরো কয়েকজন রওনা হলাম মেডিকেলের দিকে। পথে মামার সাথে দেখা, তিনিও বোনের বাসার দিকে যাচ্ছিলেন। তিনি জানালেন আম্মাকে পিজি’তে নেয়া হয়েছে। আমাদের পিজি’তে যেতে হবে। মামা বোন-দূলাভাইকে তার ভাড়া করা বেবী ট্যাক্সিতে তুলে নিলেন।

পিজি’র ইমার্জেন্সিতে ঢুকে দেখি আত্মীয়-স্বজন অনেকেই চলে এসেছেন। আম্মাকে স্যালাইন দেয়া হচ্ছে। আম্মা কিছুক্ষণ পর পর কেবল ডান হাতটা নাড়াচ্ছে আর গোঁ গোঁ করে একধরণের আওয়াজ করছে। আমার পাশে নানু আর বোন বসা, দূজনেই কাঁদতেছে। মুরুব্বি কয়জনের সাথে কথা বলে বুঝলাম এখনও অবস্থা ক্রিটিক্যাল। যদি ৭২ গণ্টা পার করতে পারে তবে হয়তো টিকে যাবে। পরে জাহাঙ্গীর নানার কাছে শুনেছিলাম ষ্ট্রোক হওয়ার পর পর আরো কয়েকটা ষ্ট্রোক হতে পারে, মৃদু, মাঝারি বা বড় ধরণের। এই মৃদু ষ্ট্রোকগুলোই মারাত্মক ক্ষতি করে। অনেকটা ভূমিকম্পের মতো। বড়ো ভূমিকম্পের পর ছোট ছোট ভূমিকম্পগুলো আরো বেশী ক্ষতি করে। আমরা সবাই অধীর আগ্রহে ৭২ ঘন্টা পার হওয়ার আশায় রইলাম।

আম্মা সেই ৭২ ঘন্টা তো পার করলেনই, পার করলেন আরো ৩৫ বছর। আম্মা এখনও বেঁচে আছেন। যদিও অবস্থা খূব ভাল না এখন। এখন আর হাঁটা-চলা করতে পারেন না। ডায়বেটিস থাকায় কিডনি, চোখ সবই আক্রান্ত। চোখে দেখেন না, কথা প্রায় বলেনই না, হয়তো বুঝেন ও না। সব মিলিয়ে খূব একটা ভাল নেই। তারপর চোখের সামনে আছেন, প্রতিদিন দেখতে পাই – এটা বড় ধরণের সান্তনা আমাদের জন্য। যেসব বন্ধু-বান্ধব তাদের বাবা-মা’কে হারিয়েছে, তারা যখন তাদের বাবা-মা’কে স্মরণ করে আবেগাপ্লুত হয় তখন আরো বেশী করে অনুভব করি এই নিজের চোখের সামনে দেখার মর্মার্থ।

আম্মা যে এতোদিন টিকে গেলো, তার মূল কৃতিত্ব আমার একমাত্র বোন আর দূলাভাই এর। দূলাভাই আর তার পরিবার’কে কৃতিত্ব একটু বেশী দিতে চাই, কারণ তারা সহযোগীতা না করলে আমার বোনের পক্ষে সম্ভব হতো না আম্মার কাছে থাকার। আম্মা পিজি হাসপাতাল থেকে বেইলী স্কয়ারের বাসায় আসার পর পরই দূলাভাই আপাকে নিয়ে চলে আসেন সে বাসায়। তার পরিবারও পূর্ণ সম্মতি জানায় এব্যাপারে। বোনের ৩ জন বাচ্চা হয়েছে, তারা বড় হয়েছে। আব্বা রিটায়ার করার পর বাবর রোডে গেলাম, সেখান থেকে আদাবর। আপা-দূলাভাই আর তার ৩ ছেলে-মেয়ে আমাদের সাথেই। পরে দূলাভাই আব্বার সাথে কথা বলে তার উত্তরার বাসায় আমাদের সবাই’কে নিয়ে আসে। একমাত্র ছোট ভাই আছে আব্বার একমাত্র ফ্ল্যাটে, সেটা উত্তরাতেই। তবে আব্বা কিন্তু এখন বোনের বাসাতেই। মানে আব্বা, আম্মা আর আমি আপা দূলাভাই এর সাথে। আব্বার অবস্থাও খূব একটা ভাল না। এখন আর হাটাচলা করতে পারেন না। বিছানা টু বাথরুম বা বারান্দা – এই তার হাটার রেঞ্জ। ডায়বেটিসের কারণে কিডনি প্রব সহ আরো নানা প্রব তো আছেই। বোনের ৩ ছেলেমেয়ে পড়াশুনা শেষ করে প্রতিষ্ঠিত। বড় মেয়ে মাষ্টার্স করেছে হোম ইকনমিক্সে, আপাতত গৃহবধূ। এক মেয়ের মা। ছোট মেয়ে আর্কিটেক্ট, বিয়ের সূত্রে আপাতত ফিনল্যান্ড। একমাত্র ছেলে সফটওয়্যার প্রোগ্রামার। আছে একটি টেলকো’তে। সেও বিয়ে করেছে। ছেলে বউ সহ এবাসাতেই। দূলাভাই ব্যাংকের চাকরি থেকে অবসর নিয়েছেন কয়েকবছর আগে। বিয়ের সময় তিনি ছিলেন সোনালি ব্যাংকের প্রিন্সিপাল অফিসার, অবসর নিয়েছেন রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংকের এমডি হিসেবে।

আম্মাকে কয়েকদিন আগে আবার হাসপাতালে নিতে হয়েছিলো কিছু জটিলতার কারণে। মোটামুটি সব ধরণের চিকিৎসা শেষে বাসায় ফেরত আনা হয়েছে। তবে খূব একটা ভাল নেই। নাকে নল লাগানো হয়েছিলো খাওয়ানোর জন্য, ২ ঘন্টা পর পর খাওয়াতে হয়। সেই নল টেনে খূলে ফেলেছে। এখন মূখে খাওয়াতে গেলে রীতিমতো যুদ্ধ করতে হয়। এখন আবার কথা বলছে অনেক, স্মৃতি থেকে অনেক কিছু বলছে। তবে তাকে যে হাসপাতাল থেকে বাসায় ফেরত আনা হয়েছে সেটাই বুঝানো যাচ্ছে না। মনে করছে হাসপাতালেই আছে।

১৯৮৩ সালের ১৮ই ডিসেম্বর থেকে ২০১৮ সালের ১৮ই ডিসেম্বর – ৩৫ বছর পার করে ৩৬ বছর হতে চললো। আমার আম্মা এবং সকলের আম্মা ভাল থাকুন সব সময় এই কামনাই করি। ভাল থাকবেন।

রিফাত জামিল ইউসুফজাই

জাতিতে বাঙ্গালী, তবে পূর্ব পূরুষরা নাকি এসেছিলো আফগানিস্তান থেকে - পাঠান ওসমান খানের নেতৃত্বে মোঘলদের বিরুদ্ধে লড়াই করতে। লড়াই এ ওসমান খান নিহত এবং তার বাহিনী পরাজিত ও পর্যূদস্ত হয়ে ছড়িয়ে পড়ে টাঙ্গাইলের ২২ গ্রামে। একসময় কালিহাতি উপজেলার চারাণ গ্রামে থিতু হয় তাদেরই কোন একজন। এখন আমি থাকি বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকায়। কোন এককালে শখ ছিলো শর্টওয়েভ রেডিও শোনা। প্রথম বিদেশ ভ্রমণে একমাত্র কাজ ছিলো একটি ডিজিটাল রেডিও কেনা। ১৯৯০ সালে ষ্টকহোমে কেনা সেই ফিলিপস ডি ২৯৩৫ রেডিও এখনও আছে। দিন-রাত রেডিও শুনে রিসেপশন রিপোর্ট পাঠানো আর QSL কার্ড সংগ্রহ করা - নেশার মতো ছিলো সেসময়। আস্তে আস্তে সেই শখ থিতু হয়ে আসে। জায়গা নেয় ছবি তোলা। এখনও শিখছি এবং তুলছি নানা রকম ছবি। কয়েক মাস ধরে শখ হয়েছে ক্র্যাফটিং এর। মূলত গয়না এবং নানা রকম কার্ড তৈরী, সাথে এক-আধটু স্ক্র্যাপবুকিং। সাথে মাঝে মধ্যে ব্লগ লেখা আর জাবর কাটা। এই নিয়েই চলছে জীবন বেশ।