আলাপন ২০-৪-১৮

দিন দিন অলস হয়ে যাচ্ছি। সাইট যখন তৈরী করছিলাম, তখন নানা রকম প্ল্যান প্রোগ্রাম মাথায় গিজ গিজ করতো। প্রাথমিক সাইট তৈরী হওয়ার পর ঠিক করলাম ধীরে ধীরে সব করবো আগে পোষ্ট করা শুরু করি। সপ্তাহে কমপক্ষে ২/৩টা পোষ্ট তো করবোই। শুরুতে পুরাতন সাইট থেকে লেখা কপি পেষ্ট করবো ঠিক করলাম। সেটা আর কার্যকর হয়নি। যখন লেখা দেয়ার সময় আসলো তখন রাজ্যের অলসতা পেয়ে বসলো। তাও কিছু কিছু লিখলাম। শেষ পর্যন্ত কয়েকমাস কোন পোষ্টই দেয়া হয়নি। আবার নতুন করে পরিকল্পনা করলাম এপ্রিল থেকে নিয়মিত লিখবো। সারা সপ্তাহ চিন্তা করি এই লিখবো, সেই লিখবো। লেখার সময় হলে হাত আর চলে না, মাথাও কেমন যেন ফাঁকা হয়ে যায়।

লেখার এই ঝামেলা মাথায় নিয়ে চিন্তা করলাম – লিখবো না, এবার থেকে বলবো। আমি ইউটিউবের বড় ভক্ত। প্রতিদিনই ৫/৬টা ভিডিও দেখি, কোন কোন দিন আরো বেশী। কয়েকমাস হলো বিভিন্ন জনপ্রিয় চ্যানেল ফলো করছি আর ভাবছি এরকম একটা চ্যানেল করলে কেমন হয়। যদিও কথা বলায় খূব একটা পারঙ্গম না।

শুরুতেই ইকুইপমেন্ট নিয়ে পড়লাম। নিজের ক্যামেরা আছে, বেশ কয়েকটাই। তারপরও চিন্তা করছিলাম নতুন কিছু কিনবো কি না। ডিএসএলআর যেটা আছে সেটা বেশ ভালই। সমস্যা একটাই ওয়াইড এঙ্গেল লেন্স দরকার ওয়াইড এপারচার সহ। আমার রুম পিছনের দিকে এক কোনায়। দিনের বেলাতেও লাইট জ্বালাতে হয়। পাশের দুই বিল্ডিং এর কারণে জানালা দিয়ে খূব একটা আলো পৌছায় না। আর একটা জানালা তো সব সময় বন্ধ রাখতে হয়, কারণ সেই জানালা বরাবর পাশের বিল্ডিং এর রান্নাঘর। সুতরাং ওয়াইড এপারচার না হলে আলাদা লাইটিং এর ব্যবস্থা করতে হবে। সমস্যা আরো একটা আছে। এই ক্যামেরা নিয়ে বাইরে ভিডিও করা বিরাট পেইন। ওজন এতো বেশী যে বেশীক্ষণ হাতে ধরে রাখা যায় না। অথচ অনেক ইউটিউবার গরিলা পডে ডিএসএলআর ক্যামেরা বসিয়ে দিব্বি হাতে নিয়ে ভিডিও করে যাচ্ছে। সেরকম শেক ও হয় না। অথচ আমি এই ক্যামেরা নিয়ে ৫ মিনিট হাটলেই কাহিল হয়ে যাই। চিন্তা করলাম হালকা কিছু নিবো।

হালকা ক্যামেরার কথা মাথায় আসতেই চিন্তা করলাম একটা ক্যামকর্ডার নিবো। ব্যাকপ্যাকে সার্চ করতেই ৪.৫ হাজার থেকে ১১ হাজার টাকার মধ্যে বেশ কয়েকটা মডেল চলে আসলো। আরো বেশী দামেরও আছে। সেগুলো বাদ দিয়ে হাজার দশেক টাকা দামের মডেলগুলো দেখলাম। ফুল এইচডি, ২৪ মেগা পিক্সেল, ১৬এক্স জুম, আলাদা অডিও ইনপুট আছে। কোনটায় আবার ইনফ্রারেড ফ্যাসিলিটিও আছে। সব মিলিয়ে খূব একটা খারাপ মনে হলো না। আবার ২৪ মেগাপিক্সেল সেন্সর, ৮/১৬ এক্স জুম নিয়ে কিছু পয়েন্ট এন্ড শুট ক্যামেরাও আছে। দাম ১২/১৩ হাজার টাকা। দোটানায় পড়লাম। পরিচিত বন্ধুবান্ধব বলছে নিলে ব্র্যান্ড ক্যামেরা বা ক্যামকর্ডার নেয়াই ভাল। ক্যাননের একটা ক্যামকর্ডার মডেল আছে ব্যাকপ্যাকে ২৫ হাজার টাকার মধ্যে। ইউটিউবেও বেশ ভাল বলে রিভিউ আছে। কথা হলো ২৫ হাজার টাকা দিয়ে ক্যামকর্ডার  কিনবো নাকি নতুন লেন্স কিনবো ডিএসএলআর এর জন্য। একটা ১০০ মিমি ম্যাক্রো লেন্স কেনার ইচ্ছে অনেক দিন ধরে।

এরমধ্যে আজ আবার সনির একটা মিররলেস ক্যামেরার রিভিউ দেখলাম। ফ্লিপআউট স্ক্রিন আছে। বেশ হালকাও। ডাকায় এই মডেল নেই এখন। পরের সডেল মনে হয় হাজার পঞ্চাশেক টাকা দাম কিট লেন্স সহ। আবারও দোটানা। চিন্তা ভাবনা সব ডিএসএলআর-পয়েন্ট এন্ড শুট-ক্যামকর্ডার নিয়ে ঘুরপাক খাচ্ছে তখন ইউটিউবে দেখলাম অনেকেই ওয়েবক্যাম দিয়ে ভিডিও করছে। ল্যাপটপের বিল্টইন ওয়েবক্যাম বা ডেস্কটপের তারওয়ালা ওয়েবক্যাম দিয়ে আগে ভিডিও করেছি। যাচ্ছে তাই অবস্থা। রেজ্যুলিউশন এতো কম যে ইউটিউব ফুল স্ক্রিনে দিলে মনে হয় বৃষ্টির মধ্যে ভিডিও করা হচ্ছিলো, এতো নয়েজ। বাসার কাছের কম্পিউটার মার্কেটে গিয়ে খোঁজ নিলাম। এখন আর কেউ ওয়েবক্যাম আনে না, যে ২/৩টা আছে সবই পুরাতন মডেল। কেন আনে না জিজ্ঞেস করতেই বললো – ঘরে ঘরে এখন ল্যাপটপ আর স্মার্টফোন। ওয়েবক্যামের বেইল নাই।

ইউটিউবে লজিটেক এর ওয়েবক্যামের দারুন সুনাম। সি৯২০ আর সি৯৩০ই এর কথা প্রায় সব ইউটিউবারই বলেছেন। ব্যাকপ্যাকে প্রথমটার দাম প্রায় ৫৮০০ টাকা আর দ্বিতীয়টা ৮৫০০ টাকা। শেষ পর্যন্ত লজিটেক সি৯২০ অর্ডার করে দিয়েছি ঘরে ভিডিও করার জন্য। এটা অবশ্য বাইরেও নিয়ে যাওয়া যাবে। পিঠে ব্যাকপ্যাকে ল্যাপটপ নিয়ে ওয়েবক্যামটা মিনি ট্রাইপডে লাগিয়ে হাতে নিয়ে ঘোরা যাবে। তবে বাইরে ভিডিও করার জন্য আপাতত আমার পুরাতন একশন ক্যামই চলবে।

শেস পর্যন্ত কি হয় বলা মুশকিল। হয়তো কোন পরিকল্পনাই আর বাস্তবে রুপ নিবে না, আগের গুলোর মতোই।

রিফাত জামিল ইউসুফজাই

জাতিতে বাঙ্গালী, তবে পূর্ব পূরুষরা নাকি এসেছিলো আফগানিস্তান থেকে - পাঠান ওসমান খানের নেতৃত্বে মোঘলদের বিরুদ্ধে লড়াই করতে। লড়াই এ ওসমান খান নিহত এবং তার বাহিনী পরাজিত ও পর্যূদস্ত হয়ে ছড়িয়ে পড়ে টাঙ্গাইলের ২২ গ্রামে। একসময় কালিহাতি উপজেলার চারাণ গ্রামে থিতু হয় তাদেরই কোন একজন। এখন আমি থাকি বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকায়। কোন এককালে শখ ছিলো শর্টওয়েভ রেডিও শোনা। প্রথম বিদেশ ভ্রমণে একমাত্র কাজ ছিলো একটি ডিজিটাল রেডিও কেনা। ১৯৯০ সালে ষ্টকহোমে কেনা সেই ফিলিপস ডি ২৯৩৫ রেডিও এখনও আছে। দিন-রাত রেডিও শুনে রিসেপশন রিপোর্ট পাঠানো আর QSL কার্ড সংগ্রহ করা - নেশার মতো ছিলো সেসময়। আস্তে আস্তে সেই শখ থিতু হয়ে আসে। জায়গা নেয় ছবি তোলা। এখনও শিখছি এবং তুলছি নানা রকম ছবি। কয়েক মাস ধরে শখ হয়েছে ক্র্যাফটিং এর। মূলত গয়না এবং নানা রকম কার্ড তৈরী, সাথে এক-আধটু স্ক্র্যাপবুকিং। সাথে মাঝে মধ্যে ব্লগ লেখা আর জাবর কাটা। এই নিয়েই চলছে জীবন বেশ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *