ওজন সমাচার

অক্টোবর এর ১৫ তারিখ এক ডাক্তারের চেম্বারে ওজন মেপে দেখলাম ৮৫ কেজি। এদিকে ব্লাড সুগারও কিঞ্চিত বেশী দেখাচ্ছিলো র‍্যান্ডম এ। এক ডাক্তারের সাথে যেগাযোগ করলাম। তিনি বললেন নিজেকে চ্যালেঞ্জ করুন – ৩ মাসে ১৫ কেজি ওজন কমাবেন। খাওয়া কন্ট্রোল এবং নিয়মিত হাটার পরামর্শ দিলেন। এর কয়েকদিন পর থেকেই হাটা এবং খাওয়া কমাতে শুরু করলাম।

আগে সকালে নাস্তায় ৩-৪টি আটার রুটি, সবজি, ডিম ভাঁজি সাথে কখনও কখনও মিষ্টি জাতীয় কিছু। দূপুরে ভাত, সবজি, মাছ, ডাল। রাতে রুটি সকালের মতোই ৩-৪টি, সবজি, মাংস (মুরগী প্রায় সময়), ডাল। কখনও কখনও রাতে চাইনিজ / বিরিয়ানী / পিজ্জা (সপ্তাহে একদিন এটলিষ্ট)। রুটির সংখ্যা কখনও কখনও ৬/৭টিও হতো যদি বুটের ডাল দিয়ে মাংস রান্না হতো বা অন্য কোন মুখোরোচক কিছু থাকতো। আর ছিলো চকলেট, মিষ্টির প্রতি আসক্তি। কোল্ড ড্রিংকস ৭/৮ বছর আগেই ছেড়েছিলাম, কালেভদ্রে হয়তো ডায়েট কোক। চায়ে চিনি খাই না তাও বছর দূ’য়েক হবে।

খাওয়া কন্ট্রোল করতে করতে এখন সকালে একপিস আটার রুটি, সবজি, কখনও ডিম ভাঁজি, পোঁচ অথবা সিদ্ধ। দূপুরে সবজি, মাছ, ডাল। রাতে একপিস আটার রুটি, সবজি, মাংস, ডাল। ভাত গত একমাস হলো খাচ্ছি না। এর মধ্যে একদিন শুধু আত্মীয় বাড়ী থেকে ইলিশ পোলাও পাঠানো হয়েছিলো। ইলিশের সাথে একমুঠ পোলাও খেয়েছিলাম। আর সপ্তাহে একদিন চাইনিজ / বিরিয়ানী / পিজ্জা এখনও বাসায় আসে। আমি রাইস বাদ দিয়েই খাই। পিজ্জা একপিস খে্যেছিলাম একদিন। আর বিকালে চা খাই একপিস মেরি বিস্কিট দিয়ে। কখনও সাথে নুডলস বা স্যুপ থাকে। তবে তা হঠাৎ হঠাৎ। মিষ্টি / চকলেট একবারেই বাদ।

বাসার লোকজন চিন্তিত। সারাদিনে ২ পিস রুটি খেয়ে অসুস্থ হয়ে পরবো, এই আশংকায় ভুগছে সবাই। সকালে এবং বিকালে নিয়ম করে হাটছি। যদিও গত ২ সপ্তাহে আব্বার অসুস্থতার করানে কন্টিনিউ করতে একটু প্রব হচ্ছে। তারপরও ৮-১০ হাজার ষ্টেপস হাটছি, দোকান, হাসপাতাল, ডাক্তারের চেম্বার সব জায়গায় যাই হেটে, আসি হেটে। সন্ধ্যার পর এলাকায় একটা চক্কর দেই। আর কিছু না পারলে এই রুম থেকে সেই রুম করি আধ ঘন্টা, যদিও খূব জোরে হাটা হয় না।

২ মাসে মোটামুটি ১০ কেজি কমেছে ওজন। আশা করছি সামনের মাসে আরো ৫ কেজি কমিয়ে বিএমআই ২৫ এর নিচে নিয়ে আসতে পারবো।

ভাল থাকবেন।

ফটো ক্রেডিট : Thought Catalog

রিফাত জামিল ইউসুফজাই

জাতিতে বাঙ্গালী, তবে পূর্ব পূরুষরা নাকি এসেছিলো আফগানিস্তান থেকে - পাঠান ওসমান খানের নেতৃত্বে মোঘলদের বিরুদ্ধে লড়াই করতে। লড়াই এ ওসমান খান নিহত এবং তার বাহিনী পরাজিত ও পর্যূদস্ত হয়ে ছড়িয়ে পড়ে টাঙ্গাইলের ২২ গ্রামে। একসময় কালিহাতি উপজেলার চারাণ গ্রামে থিতু হয় তাদেরই কোন একজন। এখন আমি থাকি বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকায়। কোন এককালে শখ ছিলো শর্টওয়েভ রেডিও শোনা। প্রথম বিদেশ ভ্রমণে একমাত্র কাজ ছিলো একটি ডিজিটাল রেডিও কেনা। ১৯৯০ সালে ষ্টকহোমে কেনা সেই ফিলিপস ডি ২৯৩৫ রেডিও এখনও আছে। দিন-রাত রেডিও শুনে রিসেপশন রিপোর্ট পাঠানো আর QSL কার্ড সংগ্রহ করা - নেশার মতো ছিলো সেসময়। আস্তে আস্তে সেই শখ থিতু হয়ে আসে। জায়গা নেয় ছবি তোলা। এখনও শিখছি এবং তুলছি নানা রকম ছবি। কয়েক মাস ধরে শখ হয়েছে ক্র্যাফটিং এর। মূলত গয়না এবং নানা রকম কার্ড তৈরী, সাথে এক-আধটু স্ক্র্যাপবুকিং। সাথে মাঝে মধ্যে ব্লগ লেখা আর জাবর কাটা। এই নিয়েই চলছে জীবন বেশ।