করোনার টিকা এবং সচেতনতা

ঘটনা ১ : স্থানীয় এক ডায়াগনস্টিক সেন্টারে আব্বার রুটিন কিছু টেষ্ট করা হয়। আজ হেলথ টেকনোলজিষ্ট স্যাম্পল কালেক্ট করতে বাসায় আসার পর জিজ্ঞাসা করলাম করোনার টিকা নিয়েছে কিনা। সে উল্টা আমাকে জিজ্ঞাসা করে টিকা নিলে মুখ বাঁকা হয়ে যায় এরকম কিছু শুনেছি কিনা। আমি তাকে আমার মুখ ভাল করে দেখতে বললাম, বাঁকা কিনা। সে একটু লজ্জা পেয়ে বললো অফিস থেকে নোটিস দিয়েছে নিজ দায়িত্বে রেজিষ্ট্রেশন করে টিকা নেয়ার জন্য।
 
ঘটনা ২ : একই প্রতিষ্ঠানের এক আয়া বাসায় আসে আম্মার পরিচর্যার জন্য। করেনার ডামাডোলে অনেকদিন তাকে ডাকা হয় নাই। বোন ফোন করে তাকে জিজ্ঞাসা করেছে টিকা নিয়েছে কি না। সে জানালো তার হাই ব্লাড প্রেশার আর এজমা। তাই নিতে পারবে না।
 
টিকা সংক্রান্ত গুজব যেমন হেলথ টেকনোলজিষ্ট এর মাথায় ঢুকেছে তেমনি স্বল্প শিক্ষিত আয়ার কাছেও সঠিক তথ্য পৌছায় নাই। পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া এবং কে নিতে পারবে আর কে নিতে পারবে না এসকল তথ্য আরো বেশী প্রচার হওয়া দরকার।

যারা এখনও দ্বিধায় আছেন টিকা নেয়া ঠিক হবে কিনা তারা নিচের অংশটুকু পড়ে দেখেন, প্লিজ
“কোভিড-১৯ ভ্যাক্সিন কারা নিতে পারবেন, কারা পারবেননা, এ নিয়ে অনেকেই ধন্দে আছেন। আপনারা সকলেই খুব ভাল করে জানেন কোভিড-১৯ রোগটি সাধারনত বয়স্ক ও কো-মরবিড দের ক্ষেত্রে মারাত্মক আকার ধারন করে এবং ৮০ শতাংশ মানুষ উপসর্গহীন বা মৃদু উপসর্গযক্ত হয়ে থাকেন। ফলে ভ্যাক্সিনটির টার্গেট গ্রুপ হচ্ছে মূলত বয়স্ক ও কোমর্বিডরা।
 
যারা ভ্যক্সিন নিতে পারবেনঃ
যাদের হার্ট , লিভার, কিডনীতে রোগ আছে
এজমা আক্রান্ত রোগী
ক্যান্সারে আক্রান্ত রোগী
ডায়াবেটিস ও উচ্চরক্তচাপে আক্রান্ত (যাদের অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস বা উচ্চরক্তচাপ আছে, তারা নিয়ন্ত্রনের পর ভ্যাক্সিন দিতে পারবেন।)
যারা রোগপ্রতিরোধ কমে যায় এমন ঔষধ সেবন করেন।
যারা কেমোথেরাপী নিচ্ছেন
যারা কোভিড-১৯ পজিটিভ হয়েছেন, আক্রান্ত হওয়ার ৬ সপ্তাহ পরে ভ্যাক্সিন নিতে পারবেন
 
যারা ভ্যক্সিন নিতে পারবেন নাঃ
যাদের বয়স ১৮ বছরের নীচে
গর্ভবতী ও দুগ্ধদানকারী মা। সিডিসি মতে, দুগ্ধদানকারী মা যাদের কোভিড১৯ রোগীর সংস্পর্শে নিয়মিত আসতে হয় তারা চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে ভ্যাক্সিন নিতে পারবেন। উচ্চ ঝুঁকি সম্পন্ন গর্ভবতী নারী এ বিষয়ে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে পারেন।
 
অনেকেই জানতে চান, যাদের এলার্জি আছে, তারা ভ্যাক্সিন নিতে পারবেন কি না? একেকজন মানুষ একেকটি বস্তুতে এলার্জিক। কারো খাবারে, কারো কোন নির্দিষ্ট ঔষধে, কারো ধুলাবালিতে কারো বা ঠান্ডায়। তাই ভ্যাক্সিনে এলার্জি আছে কিনা তা প্রথম ডোজ দেয়ার আগে বোঝা সম্ভব নয়। যে কোন এলার্জেনের ক্ষেত্রে প্রথম এক্সপোজারে মৃদু উপসর্গ হয়, যেমন চুলকানি, র্যাশ ইত্যাদি। ভ্যাক্সিনের প্রথম ডোজে এমন উপসর্গ হলে পরবর্তী ডোজের ব্যপারে দয়া করা ডাক্তারের পরামর্শ নেবেন।
 
অক্সফোর্ড ভ্যাক্সিনে জানামতে কোন পরিচিত এলার্জেন নেই। তবে ফাইজারে পলি ইথিলিন গ্লাইকল নামে একটি এলার্জেন আছে। তাই যাদের ফাইজারের ভ্যাক্সিনে এলার্জি আছে তারা অক্সফোর্ড ভ্যাক্সিন নিতে পারেন। [ফাইজারের টিকা বাংলাদেশে আসে নাই]
 
ভ্যাক্সিন নিয়ে ভীত হওয়ার কিছু নাই।”
 
ডাঃ নুসরাত সুলতানা, সহকারী অধ্যাপক, ভাইরোলজী বিভাগ, ঢাকা মেডিকেল কলেজ

রিফাত জামিল ইউসুফজাই

জাতিতে বাঙ্গালী, তবে পূর্ব পূরুষরা নাকি এসেছিলো আফগানিস্তান থেকে - পাঠান ওসমান খানের নেতৃত্বে মোঘলদের বিরুদ্ধে লড়াই করতে। লড়াই এ ওসমান খান নিহত এবং তার বাহিনী পরাজিত ও পর্যূদস্ত হয়ে ছড়িয়ে পড়ে টাঙ্গাইলের ২২ গ্রামে। একসময় কালিহাতি উপজেলার চারাণ গ্রামে থিতু হয় তাদেরই কোন একজন। এখন আমি থাকি বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকায়। কোন এককালে শখ ছিলো শর্টওয়েভ রেডিও শোনা। প্রথম বিদেশ ভ্রমণে একমাত্র কাজ ছিলো একটি ডিজিটাল রেডিও কেনা। ১৯৯০ সালে ষ্টকহোমে কেনা সেই ফিলিপস ডি ২৯৩৫ রেডিও এখনও আছে। দিন-রাত রেডিও শুনে রিসেপশন রিপোর্ট পাঠানো আর QSL কার্ড সংগ্রহ করা - নেশার মতো ছিলো সেসময়। আস্তে আস্তে সেই শখ থিতু হয়ে আসে। জায়গা নেয় ছবি তোলা। এখনও শিখছি এবং তুলছি নানা রকম ছবি। কয়েক মাস ধরে শখ হয়েছে ক্র্যাফটিং এর। মূলত গয়না এবং নানা রকম কার্ড তৈরী, সাথে এক-আধটু স্ক্র্যাপবুকিং। সাথে মাঝে মধ্যে ব্লগ লেখা আর জাবর কাটা। এই নিয়েই চলছে জীবন বেশ।