করোনা আক্রান্ত হলে করনীয় ২

দেশে করোনা পরিস্থিতি ভাল নয়। প্রতিদিনই নতুন নতুন করোনা আক্রান্ত রোগীর সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে। সেই সাথে বাড়ছে মৃত্যুর সংখ্যা। দেশে এমনিতেই স্বাস্থ্য সেবা অপ্রতুল, সেই সাথে অভাব আছে আইসিইউ এর। করোনা আক্রান্ত জটিল রোগীদের জন্য পর্যাপ্ত চিকিৎসা সূবিধা নেই। অভাব আছে অনেক কিছুরই। তাই প্রথমেই চেষ্টা করুন প্রতিরোধের। মাস্ক ছাড়া একেবারেই বাইরে যাবেন না। বা্ইরে গেলে নিরাপদ সামাজিক দূরত্ব মেনে চলুন। সেই সাথে দিনে কমপক্ষে ২০ বার সাবান দিয়ে ২০ সেকেন্ড ধরে হাত ধোয়ার অভ্যাস করুন। মনে রাখবেন প্রতিকারের চেয়ে প্রতিরোধই উত্তম।
 
যাদের ঘরে কোভিড এর পেশেন্ট আছে, অথবা যারা হাসপাতালে ভর্তির সুযোগ না পেয়ে নিজের অসুস্থ পিতা-মাতা/ভাই -বোন/শ্বশুর -শ্বাশুড়ি অথবা অন্যান্য আত্নীয় স্বজনকে ঘরে চিকিৎসা করাতে বাধ্য হচ্ছেন, তাদের জন্য কিছু গুরুত্বপূর্ণ উপদেশ।

প্রথম_উপদেশ
করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগীরা পেটের উপর ভর করে ঘুমানোর চেষ্টা করবেন বা সামান্য কাত হয়ে বাহু বা হাতের উপর ভর করে। আমরা সচরাচর যেভাবে ঘুমাই অর্থাৎ পিঠের উপর ভর করে না ঘুমানো শ্রেয়।
ভেন্টিলেশন ইন প্রোন বা উপুর হয়ে শোয়া অবস্থায় ফুসফুসের অক্সিজেন সরবরাহ বাড়ে৷ এতে আপনার হাইপোক্সিক বা অক্সিজেনের ঘাটতি হওয়ার সম্ভাবনা কমে আসে এবং মস্তিষ্কে অক্সিজেনের পরিমানও বাড়ে৷ অ্যাকিউট রেসপিরেটরি ডিসট্রেস সিনড্রোম (এআরডিএস) বা তীব্র শ্বাসকষ্টের লক্ষণগুলোর চিকিৎসায়ও প্রোন ভেন্টিলেশন অনেক বড় ভূমিকা রাখে।
 
দ্বিতীয়_উপদেশ
করোনায় আক্রান্ত হলে দুশ্চিন্তামুক্ত থাকতে হবে।
একটা কথা ভুলে গেলে চলবে না করোনাভাইরাস যখন ফুসফুসে আক্রমণ করে, তখন ফুসফুসের ডিপেন্ডেন্ট পার্ট বা নিচের অংশ শক্ত হতে থাকে। বায়ুথলিগুলো আর অক্সিজেন বহন করতে পারেনা৷যেটুকু করতে পারে সেটুকুও ধীরে ধীরে কমে আসতে থাকে।
 
শরীরের সংবেদনশীল অংগগুলোকে (ব্রেইন, লিভার, কিডনী) এই সামান্য অক্সিজেনের সাহায্যে টিকে থাকতে হয়। এ অবস্থায় আপনি যদি দুশ্চিন্তা করেন তবে আপনার ব্রেইনের কাজ বাড়তে থাকে৷ ব্রেইনের মেটাবোলিজম অংশে অক্সিজেনের চাহিদা বাড়তে থাকায় ব্রেইন বেশি অক্সিজেন ব্যবহার করে ফেলে৷ সেক্ষেত্রে বাকী সংবেদনশীল অংগগুলো মারাত্মক অক্সিজেন সংকটে পড়তে পারে৷
 
তৃতীয়_উপদেশ
করোনায় আক্রান্ত হলে শরীরকে ডিহাইড্রেটেড বা পানিশূণ্য করা যাবেনা, মোটেই না৷ প্রচুর তরল , পুষ্টিকর খাবার খেতে হবে। এই ভাইরাস দ্বারা আক্রান্ত রোগী স্ট্রোক থেকে শুরু করে যে কোনো অ্যাকিউট ভাস্কুলার ক্রাইসিস বা তীব্র সংবহনতান্ত্রিক জটিলতায় পড়তে পারেন। ফলে পালমোনারি এমবোলিজম থেকে শুরু করে যেকোনো প্রধান সাংবহনতন্ত্রে ব্লক হতে পারে করোনা আক্রান্ত রোগীর৷
 
আপনার শরীরের পানিশূণ্যতা এই স্ট্রোক লাইক সিম্পটমকে ট্রিগার করতে পারে৷বিশেষত করোনায় আক্রান্তদের ক্ষেত্রে হার্টের প্রধান নালীকে ব্লক করার পেছনে কোষের পানিশূণ্যতা মারাত্মক বাজে ভূমিকা রাখে৷ আপনার শরীর যদি পানিশূণ্য হয় সেক্ষেত্রে হেমোকনসেনট্রেশন হয়৷ প্যাকড সেল ভলিয়ম বা PCV বাড়ে , রক্তের সান্দ্রতা বাড়ে, রক্ত আঠালো হয়ে যায়। এর ফলে স্ট্রোক হওয়ার প্রবণতা বাড়ে৷
 
আপনি যদি করোনায় আক্রান্ত হন এবং এর কারণে যদি আপনার ডায়েরিয়া হয় তবে আপনার প্রচুর পরিমানে তরল জাতীয় খাবার খেতে হবে। শরীরকে প্রোটিন দিতে হবে৷নতুবা আপনার স্ট্রোক, হার্ট এটাক, মেজর ভ্যাসেল এম্বোলিজম হওয়ার সম্ভাবনা বহুগুণে বেড়ে যাবে।
সতর্ক হোন৷ দুশ্চিন্তা মুক্ত থাকুন৷ আল্লাহ সকলকে হেফাজত করুন।
 
কার্টেসীঃ
Dr. Asif Soikot
এভার কেয়ার হাসপাতাল

রিফাত জামিল ইউসুফজাই

জাতিতে বাঙ্গালী, তবে পূর্ব পূরুষরা নাকি এসেছিলো আফগানিস্তান থেকে - পাঠান ওসমান খানের নেতৃত্বে মোঘলদের বিরুদ্ধে লড়াই করতে। লড়াই এ ওসমান খান নিহত এবং তার বাহিনী পরাজিত ও পর্যূদস্ত হয়ে ছড়িয়ে পড়ে টাঙ্গাইলের ২২ গ্রামে। একসময় কালিহাতি উপজেলার চারাণ গ্রামে থিতু হয় তাদেরই কোন একজন। এখন আমি থাকি বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকায়। কোন এককালে শখ ছিলো শর্টওয়েভ রেডিও শোনা। প্রথম বিদেশ ভ্রমণে একমাত্র কাজ ছিলো একটি ডিজিটাল রেডিও কেনা। ১৯৯০ সালে ষ্টকহোমে কেনা সেই ফিলিপস ডি ২৯৩৫ রেডিও এখনও আছে। দিন-রাত রেডিও শুনে রিসেপশন রিপোর্ট পাঠানো আর QSL কার্ড সংগ্রহ করা - নেশার মতো ছিলো সেসময়। আস্তে আস্তে সেই শখ থিতু হয়ে আসে। জায়গা নেয় ছবি তোলা। এখনও শিখছি এবং তুলছি নানা রকম ছবি। কয়েক মাস ধরে শখ হয়েছে ক্র্যাফটিং এর। মূলত গয়না এবং নানা রকম কার্ড তৈরী, সাথে এক-আধটু স্ক্র্যাপবুকিং। সাথে মাঝে মধ্যে ব্লগ লেখা আর জাবর কাটা। এই নিয়েই চলছে জীবন বেশ।