করোনা কাল ৮

করোনার বিস্তার চলছেই। এর একমাত্র কারণ আমরাই। আমাদের উন্নাসিকতা, নিয়ম না মেনে চলা, ধর্মান্ধতা সহ আরো নানা কিছু এর জন্য দায়ী। আর আছে মিথ্যা বলার প্রবণতা। তাই প্রতিদিনই বাড়ছে আক্রান্তের সংখ্যা, সেই সাথে বাড়ছে মৃত্যুর সংখ্যাও।

এতো কিছুর পরও কিছু কিছু খবর শুনলে ভাল লাগে। আশার আলো দেখতে পাই। প্রচন্ড ছোঁয়াচে এই রোগটি কিন্তু প্রাণঘাতি নয়। তাই প্রথমত আমাদের চেষ্টা করতে হবে যাতে আমরা সংক্রমিত না হই। আর অনেক চেষ্টার পরও যদি কোন অসর্তক মূহুর্তের কারণে সংক্রমিত হয়েই যাই, নিয়ম মেনে চিকিৎসা নিলে এই রোগ থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব। তবে বয়স্ক মানুষ, ডায়বেটিস, হৃদরোগ, এজমা সহ নানা রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে নানা জটিলতা তৈরী হতে পারে। তাই রোগাক্রান্ত হলে অবশ্যই নিকটস্থ চিকিৎসক বা হাসাপাতালের সাথে যোগাযোগ করা উচিত।

এবার কিছু আশার কথা বলি। আজ সকালেই ইয়াহু নিউজ থেকে পেলাম। করোনা ভাইরাস অত্যাধিক তাপ এবং আর্দ্রতায় টিকতে পারে না। প্রখর সূর্যালোকে এই ভাইরাস ধ্বংস হয়ে যায়। পরীক্ষাগারে পরীক্ষা করে বিজ্ঞানীরা এমন তথ্যই দিচ্ছেন। তবে বাস্তবে এটি আসলে কতটুকু কার্যকর তা এখনও প্রমাণ সাপোক্ষ।

“Preliminary results from government lab experiments show that the coronavirus does not survive long in high temperatures and high humidity, and is quickly destroyed by sunlight, providing evidence from controlled tests of what scientists believed — but had not yet proved — to be true.” – Yahoo News

বাংলাদেশের মতো উচ্চ তাপমাত্রা এবং আর্দ্রতায় আমরা হয়তো কিছুটা আশাবাদি হতেই পারি।

কয়েকদিন আগে দুদকের একজন পরিচালক করোনায় আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেছিলেন। তার পরিবারের সবাইকে তখন কোয়ারেন্টাইন করা হয়েছিলো। গতকাল এক (স্বল্প পরিচিত) অনলাইন পোর্টালে পড়লাম যে সেই পরিবারের লোকজন নিয়ম মেনে এ কয়দিন  জীবন যাপন করাতে তাদের কয়েকজন করোনা পজিটিভ থেকে নেগেটিভ হয়েছেন। এই খবরের সত্যতা কতটুকু আমার জানা নেই। তবু ও আশা করতে ক্ষতি কি। বিস্তারিত

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রও আক্রান্ত হয়েছিলেন করোনা ভাইরাসে। তিনিও নিয়ম মেনে আইসোলেশনে থাকা অবস্থায় প্রায় একই রকম পদ্ধতি মেনে এই ভাইরাস থেকে মুক্ত হয়েছেন। বিস্তারিত

এই দুই ঘটনায় আক্রান্তরা নিয়মিত গরম পানির ভাপ নিয়েছেন অথবা গরম পানি পান করেছেন। সেই সাথে পরিস্কার পরিচ্ছন্নতার দিকে নজর দিয়েছেন প্রতিনিয়ত। এই সব নিয়ম কানুন কোনটিই প্রমাণিত সত্য নয়। কিছু লোকের ক্ষেত্রে কাজ করেছে বলে যে সবার ক্ষেত্রেই কাজ করবে এমনটি নাও হতে পারে। তবে আমার কাছে মনে হয়েছে করোনা আক্রান্ত হলে একদম প্রাথমিক অবস্থায় হয়তো এই নিয়মগুলি কাজ করে। কিন্তু ভাইরাস আক্রান্তের পর কোন কারণে সময়ক্ষেপন হলে হয়তো ভাইরাস সারা শরীরে জাকিয়ে বসে তখন আর হয়তো কোন ফল দিবে না। বয়স্ক মানুষ আর শরীরে অন্য কোন রোগ থাকলে তার জটিলতা অন্যরকম হতে পারে।

তবে সব কথার শেষ কথা, ঘরেই থাকুন। প্রয়োজন ছাড়া একেবারেই বাইরে ঘোরাফেরা করবেন না। কোন প্রয়োজনে বাইরে বের হলে মুখে মাস্ক পড়ুন, হাতে গ্লাভস পরুন। বাইরে থেকে এসে এবং নিয়মিত সাবান দিয়ে নিয়ম মতো হাত ধূবেন। বাইরে থেকে এসে পরণের কাপড়-চোপড় ও সাথে সাথে ধূয়ে ফেলুন।

প্রতিকারের চাইতে রোগ প্রতিরোধ করাটাই শ্রেয়তর। ভাল থাকবেন।

রিফাত জামিল ইউসুফজাই

জাতিতে বাঙ্গালী, তবে পূর্ব পূরুষরা নাকি এসেছিলো আফগানিস্তান থেকে - পাঠান ওসমান খানের নেতৃত্বে মোঘলদের বিরুদ্ধে লড়াই করতে। লড়াই এ ওসমান খান নিহত এবং তার বাহিনী পরাজিত ও পর্যূদস্ত হয়ে ছড়িয়ে পড়ে টাঙ্গাইলের ২২ গ্রামে। একসময় কালিহাতি উপজেলার চারাণ গ্রামে থিতু হয় তাদেরই কোন একজন। এখন আমি থাকি বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকায়। কোন এককালে শখ ছিলো শর্টওয়েভ রেডিও শোনা। প্রথম বিদেশ ভ্রমণে একমাত্র কাজ ছিলো একটি ডিজিটাল রেডিও কেনা। ১৯৯০ সালে ষ্টকহোমে কেনা সেই ফিলিপস ডি ২৯৩৫ রেডিও এখনও আছে। দিন-রাত রেডিও শুনে রিসেপশন রিপোর্ট পাঠানো আর QSL কার্ড সংগ্রহ করা - নেশার মতো ছিলো সেসময়। আস্তে আস্তে সেই শখ থিতু হয়ে আসে। জায়গা নেয় ছবি তোলা। এখনও শিখছি এবং তুলছি নানা রকম ছবি। কয়েক মাস ধরে শখ হয়েছে ক্র্যাফটিং এর। মূলত গয়না এবং নানা রকম কার্ড তৈরী, সাথে এক-আধটু স্ক্র্যাপবুকিং। সাথে মাঝে মধ্যে ব্লগ লেখা আর জাবর কাটা। এই নিয়েই চলছে জীবন বেশ।