করোনা পরিস্থিতি

আজ বাংলাদেশে করোনা ভাইরাসে প্রথম মৃত্যু হলো। পরিস্থিতি আমাদের নিজেদের কারণেই আয়ত্বের বাইরে চলে যেতে পারে। আজকের এই লেখাটি আরেকজনের। ফেসবুকের একটি গ্রুপে পেয়েছি। বর্তমান পরিস্থিতিতে এর গুরুত্ব অপরিসীম বিধায় কপি-পেষ্ট করে প্রকাশ করলাম। মূল পোষ্ট এই লিংকে পাবেন।

করোনা পরিস্থিতি
শারমিন নিপু

আমাদের দেশ এখন কোভিড 19 এর স্টেজ 2 এর মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে – মানে এখনও ভাইরাস রোগীর থেকে তার close contacts এর মধ্যেই ছড়াচ্ছে l এরপরই স্টেজ 3 শুরু হবে যখন ভাইরাস কমিউনিটিতে ছড়াতে শুরু করবে এবং সেটা হবে অবিশ্বাস্য দ্রুতগতিতে (কারণ, রোগটা মারাত্মক রকম ছোঁয়াচে)l পক্সের মতোই। ঠিক এমনটাই হয়েছে ইতালিতে, ইরানে l দুই হপ্তার মধ্যে কনফার্ম রোগীর সংখ্যা দেড়শো থেকে প্রায় দশ হাজার হয়ে গেছে l এই স্টেজ 2 তেই আটকে না রাখতে পারলে, আগামী এক মাসের মধ্যেই আমাদের দেশেও রোগীর সংখ্যা 10 থেকে লক্ষাধিক হয়ে যাবে l তখন সত্যিই পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে যাবে l করোনা ভাইরাস মানুষ মারে কম, কিন্তু এতো বেশী সংখ্যার রোগী সৃষ্টি করবে যে তাদেরকে চিকিৎসা দেওয়ার মতো পরিকাঠামো রাতারাতি তৈরী করা অসম্ভব l

আমাদের দেশের কোভিডের স্টেজ 2 থেকে 3 তে যাওয়া আটকাতে শুধু সরকার বা চিকিৎসক বা প্রশিক্ষিত স্বাস্থ্যকর্মী যথেষ্ট নয় – এটা পারি আমরাই, মানে আমি, আপনার মতো সাধারণ মানুষ l আমরা প্রত্যেকে এক একজন সম্ভব্য রোগ ছড়ানো ক্যরিয়ার – একজন কয়েকশো জনের মধ্যে, কয়েকশো কয়েক হাজারের মধ্যে রোগটা ছড়াতে পারে l এই চেইনটা তখনই ভাঙতে পারা যাবে যখন আপনি নিজে রোগমুক্ত থাকতে পারবেন l আপনি রোগমুক্ত থাকলে আপনি বাঁচবেন, আপনার পরিবার বাঁচবে, আপনার দেশ বাঁচবে l যদি আপনি যদি কেয়ারলেস হয়ে রোগ বাঁধান, আপনি হয়তো বেঁচে যাবেন (তার সম্ভবনাই বেশী, কারণ কোভিডের মর্টালিটি 2 -3% এর বেশী নয় ), কিন্তু মরবে আপনারই মতো অনেক মানুষ (হয়তো আপনারই কোনো বৃদ্ধ আত্মীয় বা অনাত্মীয়) – শুধু আপনার বোকামির জন্যেই l তাই আপনি নিজে সুস্থ থাকুন, তাহলেই দেশ সুস্থ থাকবে l

১) সরকারের সমস্ত উপদেশ ও নির্দেশিকা অক্ষরে অক্ষরে মেনে চলুন – কোনোটাই ফালতু বলে উড়িয়ে দেবেন না l

২) মনে রাখবেন প্রচুর টাকা বা ক্ষমতা থাকলেই কিন্তু আপনি সেফ নন l ট্রেন বা ফ্লাইটের ফার্স্ট ক্লাসে গেলেই আপনার কোভিডের কোনো ভয় নেই – এরকম ভাবাটা ভুল l মনে রাখবেন, ইউ কে এর স্বাস্থ্যমন্ত্রী, স্পেনের প্রধানমন্ত্রীর স্ত্রীও কোভিড আক্রান্ত l কাজেই খুব দরকার না থাকলে, বাইরে যাওয়া বর্জন করুন l ছুটি পরেও কাটাতে পারবেন l

৩) একান্ত দরকার না থাকলে সামাজিক অনুষ্ঠানে যাবেন না, নিজের কোনো সামাজিক অনুষ্ঠান থাকলেও মাসখানেক পিছিয়ে দিন l সামাজিক মেলামেশা কিন্তু কমিউনিটিতে রোগ ছড়ানোর বড় কারণ l একই কারণে, সিনেমা হল, মেলা, উৎসব, শপিং মল যাওয়া নিয়ন্ত্রণ করুন l যদি যেতেই হয়, সরকারি নির্দেশিকা অনুসারে প্রটেকশন নিন (বার বার হাত ধোয়া, কনুই দিয়ে মুখ ঢেকে কাশা ইত্যাদি )lআতিথিতেয়তা করার জন‍্য এটা সঠিক সময় না।নিজেও কারো অতিথি হবেন না, অন‍্যকেও অতিথি হতে উৎসাহ দিবেন না।

৪) কাশি, জ্বর, শ্বাসকষ্ট হলে সাথে সাথে ডাক্তার দেখান, নিজে নিজে চিকিৎসা বা ডায়াগনসিস করার চেষ্টা করবেন না l আদা, রসুন, এলকোহল, কিংবা গো মূত্র কোনোটাই কোভিডের বিরুদ্ধে কার্যকরী প্রমাণিত হয় নি, আপনার হোয়াটস্যাপ যাই বলুক l আপনার কোভিড হয়েছে কিনা একমাত্র ডাক্তারই সেটা বুঝতে পারবেন – কখন কি টেস্ট করতে হবে, কি ওষুধ খেতে হবে, ডাক্তারই বা দেশের স্বাস্থ‍্যদপ্তর যা বলবেন মেনে চলুন l উনারা একটা বিজ্ঞানসম্মত গাইডলাইন মেনে চিকিৎসা করছেন, মনে রাখবেন l কখন আপনাকে আইসোলেশনে যেতে হবে, কখন হোম quarantine এ থাকতে হবে – উনারা যেভাবে বলবেন মেনে নিন l

৫) সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।বাচ্চারা বাসাতে থেকে বিরক্ত হবে এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু তাই বলে দাদা ,নানা বাড়ি বেড়াতে যাবেন না। কিংবা শিশুপার্কেও। যত কম বের হবেন আপনার সুস্থ থাকার সম্ভাবনা তত বেশি।সাথে আপনার পরিবারের, আপনার দেশবাসীরও।

ওহ্, হ্যাঁ, আর বাকি নিয়মকানুনও মেনে চলুন। করমর্দন করা একেবারেই নিষিদ্ধ। প্রত্যহ নিজের বাথরুম বাংলা সাবান দিয়ে পরিস্কার করুন। নিজের ব্যবহৃত জামাকপডও সাবানে কাচুন। আর রৌদ্রে অন্তত ৩ ঘন্টা শুকাবেন। গরম পানি নিয়মিত পান করুন। ফ্রেস লেবু পানি খান। সবান দিয়ে হাত ধোবেন। রান্নাঘর পরিস্কার ও পরিছন্ন রাখুন।

সরকার বা চিকিৎসকরা আপনার পাশেই আছে – কিন্তু আপনার সহযোগিতা ছাড়া এ বিপদ ঠেকানো অসম্ভব l আপনি, আমি আর আমাদের মতো সাধারণ মানুষই কিন্তু পারে কোভিডকে রুখে দিতে l

ফেসবুক মন্তব্য

রিফাত জামিল ইউসুফজাই

জাতিতে বাঙ্গালী, তবে পূর্ব পূরুষরা নাকি এসেছিলো আফগানিস্তান থেকে - পাঠান ওসমান খানের নেতৃত্বে মোঘলদের বিরুদ্ধে লড়াই করতে। লড়াই এ ওসমান খান নিহত এবং তার বাহিনী পরাজিত ও পর্যূদস্ত হয়ে ছড়িয়ে পড়ে টাঙ্গাইলের ২২ গ্রামে। একসময় কালিহাতি উপজেলার চারাণ গ্রামে থিতু হয় তাদেরই কোন একজন। এখন আমি থাকি বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকায়। কোন এককালে শখ ছিলো শর্টওয়েভ রেডিও শোনা। প্রথম বিদেশ ভ্রমণে একমাত্র কাজ ছিলো একটি ডিজিটাল রেডিও কেনা। ১৯৯০ সালে ষ্টকহোমে কেনা সেই ফিলিপস ডি ২৯৩৫ রেডিও এখনও আছে। দিন-রাত রেডিও শুনে রিসেপশন রিপোর্ট পাঠানো আর QSL কার্ড সংগ্রহ করা - নেশার মতো ছিলো সেসময়। আস্তে আস্তে সেই শখ থিতু হয়ে আসে। জায়গা নেয় ছবি তোলা। এখনও শিখছি এবং তুলছি নানা রকম ছবি। কয়েক মাস ধরে শখ হয়েছে ক্র্যাফটিং এর। মূলত গয়না এবং নানা রকম কার্ড তৈরী, সাথে এক-আধটু স্ক্র্যাপবুকিং। সাথে মাঝে মধ্যে ব্লগ লেখা আর জাবর কাটা। এই নিয়েই চলছে জীবন বেশ।