করোনা কাল ২

মনে মনে এক ধরনের আতঙ্ক তৈরী হচ্ছে। গতকাল ফেসবুকে বেশ কিছু ষ্ট্যাটাস দেখলাম যে এয়ারপোর্টে ৫০০ টাকার বিনিময়ে মেডিকেল সার্টিফিকেট নিয়ে কোয়ারান্টাইন ফাঁকি দিচ্ছে কিছু লোক। প্রথমত এই খবর কতটুকু সঠিক আর কতটুকু গুজব আমার জানা নাই। আর যদি সত্যি হয় তো বলবো এরকম আত্মঘাতী কাজ যারা করছে তারা ঠিক কি বিশ্বাসে এরকম করছে জানা দরকার। যে বা যারা ৫০০ টাকার বিনিময়ে একাজ করছে তারা না হয় দূর্নীতিবাজ / লোভী ইত্যাদি। কিন্তু যে নিচ্ছে সে কি একবার চিন্তা করছে না যে তার ভিতরে করোনা ভাইরাস থাকলে সে নিজে সহ তার পরিবারের নিকটজন সবার আগে করোনার শিকার হতে পারে !?! বিচিত্র আমাদের চিন্তাধারা। কোনটা উচিত আর কোনটা অনুচিত সেই বোধ ও মনে হয় আমরা হারিয়ে ফেলেছি।

আজ পত্রিকায় দেখলাম কোন এক এলাকায় ৪৫ জন বিদেশ ফেরত মানুষের দেখা পাওয়া গেছে যারা পরিবার এবং পাড়া-প্রতিবেশীর সাথে অবাধে মেলামেশা করছেন।

এদিকে বাংলাদেশে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা সেই ৩ জনেই আটকে আছে। বাকি সব দেশে আক্রান্তদের সংখ্যা জ্যামেতিক হারে বেড়েছে। বাংলাদেশের এই খবরে আমি উল্লসিত হবো না আতঙ্কিত হবো বুঝতেছি না। তবে সমস্যা হলো সরকার তার সীমিত সাধ্যে যাই করুক না কেন আমাদের নিজেদের কারণেই হয়তো বিশাল বিপদের কারণ হতে পারে এই ভাইরাস। গতকাল রাস্তায় বের হয়ে দেখলাম শুধূ মাত্র হকারদের কারণে ফুটপাতে ভীড় তৈরী হচ্ছে, ধাক্কাধাক্কি করা ছাড়া গা বাঁচিয়ে পথ চলা নিতান্তই কঠিন। এড়াতে চাইলে ফুটপাত ছেড়ে রাস্তায় নেমে রিক্সা-গাড়ির সমান্তরালে চলতে হবে।

রাজনৈতিক নেতারা জনগণকে সচেতন করার নামে নিজেরাই কর্মী বাহিনী নিয়ে ছোটখাট ভীড় তৈরী করে ফেলছেন আর বলছেন জন সমাগম থেকে দূরে থাকতে।

আর যেখানে সেখানে থুথু ফেলার অভ্যাস এখনও বহাল আছে। সেই সাথে নাক মুখ না ঢেকে হাচি-কাশি দেয়া সমানেই চলছে।

তবে যে কোন কারণেই হোক যে সব দেশে তাপমাত্রা বেশী সে সব দেশে এই ভাইরাসের আক্রমন অপেক্ষাকৃত কম, এটাই যা সান্তনা।

রিফাত জামিল ইউসুফজাই

জাতিতে বাঙ্গালী, তবে পূর্ব পূরুষরা নাকি এসেছিলো আফগানিস্তান থেকে - পাঠান ওসমান খানের নেতৃত্বে মোঘলদের বিরুদ্ধে লড়াই করতে। লড়াই এ ওসমান খান নিহত এবং তার বাহিনী পরাজিত ও পর্যূদস্ত হয়ে ছড়িয়ে পড়ে টাঙ্গাইলের ২২ গ্রামে। একসময় কালিহাতি উপজেলার চারাণ গ্রামে থিতু হয় তাদেরই কোন একজন। এখন আমি থাকি বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকায়। কোন এককালে শখ ছিলো শর্টওয়েভ রেডিও শোনা। প্রথম বিদেশ ভ্রমণে একমাত্র কাজ ছিলো একটি ডিজিটাল রেডিও কেনা। ১৯৯০ সালে ষ্টকহোমে কেনা সেই ফিলিপস ডি ২৯৩৫ রেডিও এখনও আছে। দিন-রাত রেডিও শুনে রিসেপশন রিপোর্ট পাঠানো আর QSL কার্ড সংগ্রহ করা - নেশার মতো ছিলো সেসময়। আস্তে আস্তে সেই শখ থিতু হয়ে আসে। জায়গা নেয় ছবি তোলা। এখনও শিখছি এবং তুলছি নানা রকম ছবি। কয়েক মাস ধরে শখ হয়েছে ক্র্যাফটিং এর। মূলত গয়না এবং নানা রকম কার্ড তৈরী, সাথে এক-আধটু স্ক্র্যাপবুকিং। সাথে মাঝে মধ্যে ব্লগ লেখা আর জাবর কাটা। এই নিয়েই চলছে জীবন বেশ।