করোনা ভাইরাস

আসি আসি করে করোনা ভাইরাস অবশেষে বাংলাদেশে এসেই পরলো। গতকাল খবর প্রকাশ করা হয়েছে যে ইতালি থেকে আগত দুইজন এবং তাদের মাধ্যমে সংক্রমিত আরো একজন মোট তিনজন করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত। ইতালি থেকে ফেরার সময় বিমান বন্দরে রুটিন চেকআপে তাদের মধ্যে কোন রকম অসুস্থ্যতা ধরা পরেনি। কয়েকদিন পর তারা হটলাইনে যোগাযোগ করায় পরীক্ষা করে করোনা ভাইরাসের অস্তিত্ব পাওয়া যায়। তারা বর্তমানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আছেন।

করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হলে এর প্রাথমিক লক্ষণ গুলো হলো জ্বর, শুকনো কাশি/ গলা ব্যথা, ক্লান্ত বা অবসন্ন  লাগা/ শরীর ম্যাজম্যাজ করা এসব। আরো যেসব লক্ষণ দেখা যেতে পারে তার মধ্যে আছে নাক বন্ধ থাকা, নাক দিয়ে পানি পড়া, শরীর ব্যাথা, পাতলা পায়খানা, শ্বাসকষ্ট ইত্যাদি। এই ভাইরাস মানুষের শরীরে প্রবেশ করার চার থেকে চৌদ্দ দিনের মধ্যে রোগের লক্ষণ প্রকাশ পাওয়া শুরু হয়। তবে বেশিরভাগ মানুষের ক্ষেত্রেই, পাঁচ দিনের মধ্যেই রোগের লক্ষণ প্রকাশ পায়।

আক্রান্ত রোগীর হাঁচি/কাশি/থুতূ/কফের মাধ্যমে, এ রোগ ছড়িয়ে পড়ে। এ কারণে, আক্রান্ত রোগীকে মাস্ক পড়ানো জরুরি । এবং আক্রান্ত রোগীর (বা, যে কোন হাঁচি-কাশির রোগীর) ৩ ফুটের মধ্যে যাওয়া উচিত নয়। সেই সাথে যত্রতত্র থুথু বা কফ ফেলার অভ্যাস পরিত্যাগ করা উচিত।

এই ভাইরাস থেকে বাছতে হলে ব্যক্তিগত পরিস্কার পরিচ্ছন্নতার দিকে বেশী নজর দিতে হবে। ১) বারবার সাবান পানিতে হাত ধোয়ার বিকল্প নেই । নিজের আশেপাশের মানুষদের পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা এবং এর গুরুত্ব সম্পর্কে বারবার অবহিত করুন। ২) হঠাৎ করে হাঁচি-কাশি পেলে, হাতের কনুই এর ভাজ দিয়ে, কিংবা টিসু দিয়ে, মুখ ঢেকে হাঁচি বা কাশি দিতে হবে। তবে টিস্যু ব্যবহার করলে, সেটা যেখানে সেখানে ফেলা যাবে না। ৩) কারো যদি জ্বর/হাঁচি/কাশি ইত্যাদি থাকে থাকে, তার থেকে কমপক্ষে ৩ ফুট দূরে থাকতে হবে। সেই সাথে গণপরিবহন ব্যবহার এবং গণজমায়েত পরিহার করে চলুন যতদুর সম্ভব। প্রয়োজন না হলে ঘরের বাইরে যাওয়া অনুচিত। সেই সাথে করমর্দন করা এবং জড়িয়ে ধরে সম্ভাষণ জানানো থেকে বিরত থাকুন।১) ৮০% COVID-19 রোগী, তেমন কোন চিকিৎসা ছাড়াই ভালো হয়ে যায় ।
২) ১৬%-১৭% COVID-19 রোগী গুরুতরভাবে অসুস্থ হয়। এদের হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা দিতে হয় ।
৩) ৪%-৫% COVID-19 রোগীর আইসিইউ সেবা লাগতে পারে ।
৪) ৩.৪% COVID-19 রোগী মারা যায় (সময়ের সাথে, এ হার কমে আসবে) ।
৫) শিশু, বৃদ্ধ, ডায়াবেটিস, ব্লাড প্রেশার, হার্টের অসুখ, ফুসফুসের অসুখ এর রোগী, এবং, অন্যান্য কারণে যাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম (যেমন, হাসপাতালে ভর্তি যে কোন রোগী) – তাদেরই COVID-19 রোগে গুরুতর অসুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা বেশি ।

সুতরাং আতঙ্ক নয়, সচেতন হোন। সচেতনাই আপনাকে এই ভাইরাস থেকে বাঁচতে সাহায্য করবে।

যদি কারো নোভেল করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হবার লক্ষণ প্রকাশ পায় তাহলে হটলাইনে ফোন করলে বাড়ি গিয়ে করোনার নমুনা সংগ্রহ করবে মেডিক্যাল টিম।
ফোন নাম্বার : ০১৯২৭৭১১৭৮৪, ০১৯২৭৭১১৭৮৫, ০১৯৩৭০০০০১১, ০১৯৩৭১১০০১১।
সহযোগিতায়-রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট (IEDCR).

বিবিসি’র এই ভিডিওটি দেখতে পারেন।

ভাল থাকুন। সুস্থ্য ও সচেতন থাকুন।

ফেসবুক মন্তব্য

রিফাত জামিল ইউসুফজাই

জাতিতে বাঙ্গালী, তবে পূর্ব পূরুষরা নাকি এসেছিলো আফগানিস্তান থেকে - পাঠান ওসমান খানের নেতৃত্বে মোঘলদের বিরুদ্ধে লড়াই করতে। লড়াই এ ওসমান খান নিহত এবং তার বাহিনী পরাজিত ও পর্যূদস্ত হয়ে ছড়িয়ে পড়ে টাঙ্গাইলের ২২ গ্রামে। একসময় কালিহাতি উপজেলার চারাণ গ্রামে থিতু হয় তাদেরই কোন একজন। এখন আমি থাকি বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকায়। কোন এককালে শখ ছিলো শর্টওয়েভ রেডিও শোনা। প্রথম বিদেশ ভ্রমণে একমাত্র কাজ ছিলো একটি ডিজিটাল রেডিও কেনা। ১৯৯০ সালে ষ্টকহোমে কেনা সেই ফিলিপস ডি ২৯৩৫ রেডিও এখনও আছে। দিন-রাত রেডিও শুনে রিসেপশন রিপোর্ট পাঠানো আর QSL কার্ড সংগ্রহ করা - নেশার মতো ছিলো সেসময়। আস্তে আস্তে সেই শখ থিতু হয়ে আসে। জায়গা নেয় ছবি তোলা। এখনও শিখছি এবং তুলছি নানা রকম ছবি। কয়েক মাস ধরে শখ হয়েছে ক্র্যাফটিং এর। মূলত গয়না এবং নানা রকম কার্ড তৈরী, সাথে এক-আধটু স্ক্র্যাপবুকিং। সাথে মাঝে মধ্যে ব্লগ লেখা আর জাবর কাটা। এই নিয়েই চলছে জীবন বেশ।