কোরবানির আগে কোরবানি

আরেকটু হলে নিজেই প্রায় কোরবানি হয়ে যেতাম কোরবানি ঈদের আগে। ঘটনা হলো বেশ কিছুদিন ধরেই ডেস্কটপ পিসি ঝামেলা করছিলো। হঠাৎ হঠাৎ রিষ্টার্ট হতো। এই সমস্যা বেশ আগে একবার ফেস করেছিলাম। একটা হার্ডডিস্ক ড্রাইভ করাপ্ট হয়েছিলো সেসময়। পরে ব্র্যান্ড পাওয়ার সাপ্লাই আর হার্ডডিস্ক কিনতে হয়েছিলো। প্রায় বছর পাঁচেক আগের সেই পাওয়ার সাপ্লাই আর হার্ডডিস্ক এখনও চলছে। মাঝে নতুন এক কেসিং নিয়েছিলাম, সেটার পাওয়ার অন এর সুইচ বছর খানেকের মধ্যেই নষ্ট হয়ে গিয়েছিলো। ফলে আমাকে আবার সেই পুরাতন কেসিং ব্যবহার করতে বাধ্য হচ্ছিলাম। এটার পাওয়ার সুইচ ও ইদানীং সমস্যা শুরু করে করেছে। ১০/১২ বার বিভিন্ন ভাবে চাপার পর হয়তো পিসি চালু হতো।

গতকাল তাই বাধ্য হয়ে প্রায় নতুনের মতো সেই থার্মালটেক এর কেসিং বের করে সুইচ এর অংশটুকু খুলে নিয়ে গিয়েছিলাম ঠিক করাতে। যাদের কাছ থেকে কিনেছিলাম সেই ইউসিসি’র টেকনিশিয়ান ছিলেন না। তাই বাধ্য হয়েই অন্য এক সার্ভিস সেন্টারে দেখালাম। ঠিক করতে প্রথমে চাইলো ৫০০ টাকা, ঝারি দেয়ার পর বলে ৩০০ টাকা। দিলাম, কিন্তু তার কাছে যে সুইচ আছে সেটা দিয়ে কাজ হলো না। অগত্যা রিসেট এর সুইচটা খুলে লাগাতে বললাম। এবার ঠিক হলো। মিটার দিয়ে চেক করে দেখা গেলো কানেকশন পাচ্ছে।

বাসায় এসে শুরু করলাম এক কেসিং থেকে এক এক করে সব খুলে অন্য কেসিং এ স্থানান্তর। সব শেষে পাওয়ার কেবল লাগিয়ে অন বাটন চাপলাম।

ফ্যান এক ঝলক ঘুরেই বন্ধ হয়ে গেলো। এরপর ঘন্টা খানেক চেষ্টা করেও পিসি আর অন করতে পারলাম না। বার বার মনে হচ্ছিলো শর্ট সার্কিট হয় হয়তো মাদার বোর্ড বা প্রসেসর হয়তো গেছে।

সকালে উঠে বার কয়েক চেষ্টা করলাম৷ কোন লাভ হলো না। পরে নেটে রায়ানস কম্পিউটার, ষ্টারটেক আর গ্লোবাল ব্র্যান্ড এর সাইট দেখে নতুন এক পিসি বানানোর খরচ বের করলাম।

দুপুরে খাওয়ার পর ঠিক করলাম আগে কেসিং কিনি। যদি কাজ হয় তো হলো না হলে নতুন পিসি। খরচ ৩০ হাজারের মতো। আব্বা-আম্মার অসুস্থতার জন্য বাসায় কিছু টাকা রাখা আছে, বিপদে যাতে খরচ করা যায়। আব্বা কোরবানি দিতে চেয়েছে, তার টাকাও তুলে রেখেছি ব্যাংক থেকে গত সপ্তাহে৷ আপাতত এখান থেকেই খরচ করবো চিন্তা করলাম।

বিকালে ষ্টারটেক থেকে কেসিং কিনে আনলাম, ৩৩০০ টাকা। সব আবার এক এক খুলে নতুন কেসিং এ এসেম্বল করলাম। পাওয়ার দেয়ার পর কেসিং এর ফ্যান, প্রসেসর এর ফ্যান সব চালু হলো, কিন্তু মনিটর এর কোনায় 9C ছাড়া আর কিছু দেখা গেলো না। রিষ্টার্ট করলাম বার কয়েক। একই অবস্থা৷ মানে আমি এবার কনফার্ম হলাম মাদারবোর্ড বা প্রসেসর গেছে। কি মনে করে সাটা ক্যাবল সব খুললাম। আবার অন – এবার এমএসআই এর লোগো দেখা গেলো। কিন্তু সাটা ক্যাবল লাগালে আর কিছু দেখা যায় না। ভাল করে সব কানেকশন চেক করলাম। হঠাৎ চোখে পরলো PCIe স্লটে যে ইউএসবি বোর্ড (৭টা ইউএসবি পোর্ট আছে) আছে সেটার পাওয়ার এর মোলেক্স লাগানো নাই। এবার সব ঠিক করে পাওয়ার অন করতেই সব ঠিক।

ঘাম দিয়ে জ্বর ছাড়লো মনে হয়।

রিফাত জামিল ইউসুফজাই

জাতিতে বাঙ্গালী, তবে পূর্ব পূরুষরা নাকি এসেছিলো আফগানিস্তান থেকে - পাঠান ওসমান খানের নেতৃত্বে মোঘলদের বিরুদ্ধে লড়াই করতে। লড়াই এ ওসমান খান নিহত এবং তার বাহিনী পরাজিত ও পর্যূদস্ত হয়ে ছড়িয়ে পড়ে টাঙ্গাইলের ২২ গ্রামে। একসময় কালিহাতি উপজেলার চারাণ গ্রামে থিতু হয় তাদেরই কোন একজন। এখন আমি থাকি বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকায়। কোন এককালে শখ ছিলো শর্টওয়েভ রেডিও শোনা। প্রথম বিদেশ ভ্রমণে একমাত্র কাজ ছিলো একটি ডিজিটাল রেডিও কেনা। ১৯৯০ সালে ষ্টকহোমে কেনা সেই ফিলিপস ডি ২৯৩৫ রেডিও এখনও আছে। দিন-রাত রেডিও শুনে রিসেপশন রিপোর্ট পাঠানো আর QSL কার্ড সংগ্রহ করা - নেশার মতো ছিলো সেসময়। আস্তে আস্তে সেই শখ থিতু হয়ে আসে। জায়গা নেয় ছবি তোলা। এখনও শিখছি এবং তুলছি নানা রকম ছবি। কয়েক মাস ধরে শখ হয়েছে ক্র্যাফটিং এর। মূলত গয়না এবং নানা রকম কার্ড তৈরী, সাথে এক-আধটু স্ক্র্যাপবুকিং। সাথে মাঝে মধ্যে ব্লগ লেখা আর জাবর কাটা। এই নিয়েই চলছে জীবন বেশ।