ঘুরতে চাই – দেখতে চাই – ছবি তুলতে চাই

আমার জন্ম ঢাকাতেই, জীবনের বেশীরভাগ সময় কাটিয়েছি এই শহরেই। তারপরও প্রাণের এই শহরের অনেক কিছুই অজানা। বছর পাঁচ/ছয় আগে আমার ফেসবুক ফ্রেন্ডলিষ্টের একজনের ওয়ালে পেয়েছিলাম ঢাকার প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনের এক তালিকা। রাজউক ঢকার ৯৯টি স্থাপনাকে হেরিটেজভুক্ত করেছিলো সেবার। ‘শখের ফটোগ্রাফী’ গ্রুপের পক্ষ থেকে ফটোওয়াকও আয়োজন করা হয়েছিলো কিছু। ইচ্ছে ছিলো এক এক করে সবগুলো স্থাপনা ঘুরে দেখবো আর ছবি তুলবো। যার কাছ থেকে এই তালিকা পাওয়া গিয়েছিলো, সেই আজাহার হোসেন ছিলেন সেসময় ‘প্রথম আলো’ পত্রিকার ‘ঢাকায় থাকি’ পাতার অন্যতম একজন সাংবাদিক। আর পুরান ঢাকার অধিবাসি হওয়ার সুবাদে অনেক কিছুই ছিলো তার নখদর্পনে। তাকে নিয়েই আমরা বেশ কিছু ফটোওয়াক আয়োজন করেছিলাম। কিন্তু কয়েক সপ্তাহ পরেই আগ্রহে ভাটা পড়ে, বন্ধ হয়ে যায় ফটোওয়াক।

গতকাল সাইফুল আমিন কাজলের আগ্রহে তালিকাটি আবার খূঁজে বের করতে হলো। সাথে পেলাম মঈন আলি’র কাছ থেকে পাওয়া ঢাকার ঐতিহ্যবাহী খাবার / রেষ্টুরেন্টের আরেক তালিকা। আগ্রহীরা নিজে অথবা দলবদ্ধ হয়ে ঘুরে দেখতে পারেন ঢাকার এইসব প্রাচীন নিদর্শন। সাথে এতিহ্যবাহী খাবারে সারতে পারেন পেটপূজা।

রাজউক ঢাকার ৯৯টি স্থাপনাকে হেরিটেজভূক্ত করেছে। সেগুলো হলো

০১. নারিন্দার বিনত বিবির মসজিদ
০২. চকবাজারের বড় কাটারা ও ছোট কাটারা,
০৩. লালবাগের লালবাগ দুর্গ,
০৪. আমলীগোলার রাম শাহর মন্দির,
০৫. খান মোহাম্মদ মৃধা মসজিদ,
০৬. ধানমণ্ডির সাতমসজিদ সড়কের ঈদগাহ,
০৭. নিমতলীর নিমতলী দেউড়ি,
০৮. ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দোয়েল চত্বরসংলগ্ন মীর জুমলা গেট,
০৯. মুসা খান মসজিদ,
১০. শিখ গুরুদুয়ারা,
১১. শিববাড়ি মন্দির,
১২. গ্রিক মেমোরিয়াল,
১৩. বাংলা একাডেমীর বর্ধমান হাউস,
১৪. উপাচার্য ভবন,
১৫. মধুর ক্যান্টিন,
১৬. হিন্দু মঠ ও টিএসসি কমপ্লেক্স,
১৭. কার্জন হল,
১৮. ফজলুল হক হল,
১৯. এসএম হল,
২০. জগন্নাথ হলের পুরনো ভবন,
২১. আর্ট কলেজ ভবন,
২২. কেন্দ্রীয় লাইব্রেরি,
২৩. কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার,
২৪. মোহাম্মদপুরের সাতগম্বুজ মসজিদ,
২৫. বাঁশবাড়ির অপরিচিত পুরনো সমাধি,
২৬. বেগমবাজারের কারতালাব খান মসজিদ,
২৭. মিটফোর্ড হাসপাতালের পেছনের শায়েস্তা খান মসজিদ,
২৮. ইসলামপুরের গোলতালাব, সদরঘাটের বাকল্যান্ড বাঁধ।
২৯. তেজগাঁওয়ের হলি রোজারিও চার্চ,
৩০. ওয়ারীর খ্রীস্টান সমাধি ক্ষেত্র,
৩১. বকশীবাজারের হোসেনি দালান (ইমামবাড়া),
৩২. ঠাঁটারীবাজারের জয়কালী মন্দির ও রামসীতা মন্দির,
৩৩. আরমানিটোলার আর্মেনিয়ান চার্চ,
৩৪. তারা মসজিদ,
৩৫. আজিমপুরের বড় দায়রা শরীফ,
৩৬. বংশাল জামে মসজিদ,
৩৭. ফরাশগঞ্জের নর্থব্রুক হল (লালকুঠি),
৩৮. কসাইটুলীর কসাইটুলী মসজিদ,
৩৯. জনসন রোডের সেন্ট থমাস চার্চ,
৪০. লক্ষ্মীবাজারের সেন্ট গ্রেগরিজ চার্চ,
৪১. মিলব্যারাকের রাধাগোবিন্দ মন্দির,
৪২. সূত্রাপুরের শ্মশান মন্দির ও মঠ বানিয়ারনগর,
৪৩. সূত্রাপুরের রাধা গোবিন্দ মন্দির,
৪৪. বাবুবাজারের আমিরউদ্দিন দারোগার সমাধি,
৪৫. নারিন্দার গৌড়মঠ,
৪৬. গোপীবাগের রামকৃষ্ণ মিশন,
৪৭. দিলকুশার নওয়াববাড়ি মসজিদ,
৪৮. আমিনবাজারের দেওয়ানবাড়ি কমপ্লেক্স ও মসজিদ,
৪৯. সদরঘাটের বাহাদুর শাহ পার্ক (ভিক্টোরিয়া পার্ক),
৫০. বাহাদুর শাহ পার্কের পানির ট্যাঙ্ক,
৫১. কারওয়ানবাজারের আম্বর শাহ মসজিদ,
৫২. বেরাইদের ভুইয়াবাড়ি মসজিদ, সিদ্ধেশ্বরীর কালিবাড়ী,
৫৩. কাকরাইলের আর্চ হাউস ও বিশপ চার্চ,
৫৪. পাতলা খান রোডের লক্ষ্মীনারায়ণ মন্দির,
৫৫. পাটুয়াটুলীর লয়েল স্ট্রিটের ব্রাহ্মসমাজ মন্দির,
৫৬. রাজা রামমোহন লাইব্রেরী,
৫৭. ফরাশগঞ্জের রূপলাল হাউস,
৫৮. ইসলামপুরের আহসান মঞ্জিল,
৫৯. মিটফোর্ড হাসপাতালের পুরনো তিনটি ভবন,
৬০. ওয়াইজঘাটের ওয়াইজ ভবন (বাফা ভবন),
৬১. টিকাটুলীর রোজ গার্ডেন,
৬২. টিপু সুলতান রোডের শঙ্খনিধি প্যালেস,
৬৩. লক্ষ্মীবাজারের সেন্ট গ্রেগরিজ স্কুল,
৬৪. শাঁখারীবাজারের পগোজ স্কুল,
৬৫. বঙ্গভবনের মানুক হাউস
৬৬. সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের রেসকোর্স গ্যালারি,
৬৭. দয়াগঞ্জের ইসকন মন্দির,
৬৮. নয়াবাজারের সুশীলা কুটির,
৬৯. রমনার পুরনো হাইকোর্ট ভবন,
৭০. তোপখানার চামেরী হাউস,
৭১. ফুলবাড়িয়ার সরকারি কর্মচারী হাসপাতাল (পুরনো রেলওয়ে হাসপাতাল),
৭২. জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবন,
৭৩. বুয়েটের রশিদ ভবন (রেজিস্ট্রার বিল্ডিং),
৭৪. ওয়ারীর বলধা গার্ডেন,
৭৫. সুতারনগরের ২৮ নম্বর উৎসব পোদ্দার লেন ভবন,
৭৬. কোতোয়ালির ৭-৯ কৈলাশ ঘোষ লেন ভবন,
৭৮. ঝুলন বাড়ির ৮, ৮/১, ৮/২ ঝুলনবাড়ি লেন ভবন,
৭৯. সেগুনবাগিচার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ভবন (পুরনো কমিশনার বিল্ডিং),
৮০. জাতীয় সংসদ ভবন ও শেরেবাংলা নগর কমপ্লেক্স,
৮১. ঢাকা কলেজের পেছনের নায়েম (সাবেক শিক্ষা সম্প্রসারণ কেন্দ্র),
৮২. কমলাপুর রেল স্টেশন,
৮৪. ধানমণ্ডির ২৪ নম্বর রোডের ৩০১/বি নম্বর বাড়ি,
৮৫. ধানমণ্ডির বঙ্গবন্ধু জাদুঘর,
৮৬. মিরপুরের শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধ,
৮৭. রায়েরবাজারের বধ্যভূমি,
৮৮. রাজউক ভবন ও
৮৯. নগরভবন।

এছাড়া চারটি এলাকার কয়েকটি সড়কের দু’পাশের বসতি, ইমারত, গলি ও উন্মুক্ত চত্বর সংরক্ষণের কথা বলা হয়েছে ।
এগুলো হলো

ফরাশগঞ্জ এলাকার ঋষিকেশ দাস রোড,
রেবতি মোহন দাস রোড,
বি কে দাস রোড,
ফরাশগঞ্জ রোড,
শাঁখারীবাজার এলাকার শাঁখারীবাজার,
তাঁতিবাজার,
পনিতলা,
সূত্রাপুর এলাকার প্যারিদাস রোড,
হেমেন্দ্র দাস রোড,
রমনা এলাকার বেইলি রোড,
মিন্টু রোড,
হেয়ার রোড ও
পার্ক এভিনিউ

এই লিষ্ট পেয়েছিলাম আজাহার হোসেন এর ফেসবুক ষ্ট্যাটাস থেকে

ঘোরাঘুরির সাথে খাওয়া-দাওয়ার একটা অলিখিত সম্পর্ক আছে। তাই ঘোরাঘুরির ফাকে চেখে দেখতে পারেন ঢাকার বিখ্যাত সব খাবার …

০১. বেচারাম দেউরীতে অবস্হিত নান্না বিরিয়ানি এর মোরগ-পোলাও
০২. ঝিগাতলার সুনামী রেস্তোরা এর কাচ্চি বিরিয়ানী
০৩. খিঁলগাও এর ভোলা ভাই বিরিয়ানী এর গরুর চাপ এবং মুক্তা বিরিয়ানী এর গরুর চাপ, খাসীর চাপ এবং ফুল কবুতর
০৪. মতিঝিলের ঘরোয়া হোটেল এবং হীরাঝীলের ভূনা খিচুড়ী
০৫. হোটেল আল-রাজ্জাকের কাচ্চি+গ্লাসি
০৬. লালমাটিয়ার স্বাদ এর তেহারী
০৭. নবাবপুর রোডে হোটেল স্টার এর খাসীর লেকুশ, চিংড়ি ,ফালুদা
০৮. নয়াপল্টনে হোটেল ভিক্টোরীতে ৭০টি আইটেমের বুফে
০৯. হাতিরপুল মোড়ে হেরিটেজ এর শর্মা
১০. শ্যামলী রিং রোডের আল-মাহবুব রেস্তোরার গ্রীল চিকেন
১১. মোহাম্মদপুর জেনেভা/বিহারী ক্যাম্পের গরু ও খাশির চাপ
১২. মোহাম্মদপুর টাউন হল বাজারের সামনের বিহারী ক্যাম্পের “মান্জারের পুরি”
১৩. চকবাজারের শাহ সাহেবের বিরিয়ানী
১৪. মিরপুর-১০-এর শওকতের কাবাব
১৫. নারিন্দার শাহ সাহেবের ঝুনার বিরিয়ানী
১৬. ইংলিশ রোডের মানিকের নাস্তা
১৭. গুলশানের কস্তুরির সরমা
১৮. সোবহানবাগের প্রিন্স রেস্টুরেন্ট এর কাকড়া
১৯. সাইন্স-ল্যাবের ছায়ানীড়ের গ্রীল-চিকেন
২০. নাজিরা বাজারের হাজীর বিরিয়ানী
২১. জেলখানা গেটের পাশে হোটেল নিরবের ব্রেন ফ্রাই
২২. নয়া বাজারের করিমের বিরিয়ানী
২৩. হাজি বিরিয়ানী এর উল্টা দিকের হানিফের বিরিয়ানী
২৪. লালবাগের ভাটের মসজিদের কাবাব বন
২৫. মোহাম্মদপুরে সেন্ট জোসেফ স্কুলের গেটে এক মামার চানাচুর মাখা
২৬. বংশালের শমসের আলীর ভূনা খিচুড়ী
২৭. খিলগাঁও বাজারের উল্টো পাশে আল রহমানিয়ার গ্রীল চিকেন আর তেহারী
২৮. মতিঝিল সিটি সেন্টারের পিছনের বালুর মাঠের পিছনের মামার খিচুড়ী
২৯. চানখারপুলের নীরব হোটেলের ভুনা গরু আর ভর্তার সাথে ভাত
৩০. ধানমন্ডী লায়লাতির খাসির ভুনা খিচুড়ী
৩১. হোসনী দালান রোডে রাতের বেলার পরটা আর কলিজা ভাজি
৩২. নাজিরা বাজার মোড়ে বিসমিল্লার বটি কাবাব আর গুরদার
৩৩. পুরানা পল্টনে খানা-বাসমতির চাইনিজ প্যাকেজ
৩৪. বনানীর বুমারস রেস্টুরেন্টের বুফে প্যাকেজ
৩৫. ধানমন্ডির কড়াই গোশত এর ইলিশ সস
৩৬. গুলশান ২ এর খাজানার মাটন দম বিরিয়ানী এবং হাইদ্রাবাদী বিরিয়ানী
৩৭. উত্তরার একুশে রেস্তোরার গ্রীল চিকেন
৩৮. ধানমন্ডি/বনানীর স্টার হোটেলের কাচ্চি এবং কাবাব
৩৯. মৌচাকের স্বাদ রেস্তোরার ভাতের সাথে ৩৬ রকমের ভর্তা
৪০. সাইন্স ল্যাবে মালঞ্চ রেস্তোরার কাচ্চি বিরিয়ানী
৪১.রয়্যালের বাদামের শরবত লালবাগ
৪২. বেইলী রোডে স্টামফোর্ড ইউনিভার্সিটির সামনের গরু,খাশির চাপ+স্যুপ
৪৩.চানখারপুলের মামুন হোটেলে’র স্পেশাল(প্রতি মাসের ১ম শুক্রবার) কাচ্চি,
৪৪.মালিবাগ সোহাগ বাস কাউন্টারের সামনে শীতলের গ্রিলের সাথের সস(কিনতে পাওয়া যায় অর্ডার দিলে,খুব বেশী জোশ)
৪৫.ধানমন্ডি ৮নম্বরের চাপের দোকান

এই লিষ্ট পেয়েছিলাম মঈন আলী’র ফেসবুক ষ্ট্যাটাস থেকে

Featured Image :Worshipping 02 (People praying infront of a tomb of an ancient muslim saint named Shah Kabir.)
Camera Nikon D3000 Lens AF-S 18-55mm Aperture f/3.5 Shutter Speed 1/125 sec ISO 800

রিফাত জামিল ইউসুফজাই

জাতিতে বাঙ্গালী, তবে পূর্ব পূরুষরা নাকি এসেছিলো আফগানিস্তান থেকে - পাঠান ওসমান খানের নেতৃত্বে মোঘলদের বিরুদ্ধে লড়াই করতে। লড়াই এ ওসমান খান নিহত এবং তার বাহিনী পরাজিত ও পর্যূদস্ত হয়ে ছড়িয়ে পড়ে টাঙ্গাইলের ২২ গ্রামে। একসময় কালিহাতি উপজেলার চারাণ গ্রামে থিতু হয় তাদেরই কোন একজন। এখন আমি থাকি বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকায়। কোন এককালে শখ ছিলো শর্টওয়েভ রেডিও শোনা। প্রথম বিদেশ ভ্রমণে একমাত্র কাজ ছিলো একটি ডিজিটাল রেডিও কেনা। ১৯৯০ সালে ষ্টকহোমে কেনা সেই ফিলিপস ডি ২৯৩৫ রেডিও এখনও আছে। দিন-রাত রেডিও শুনে রিসেপশন রিপোর্ট পাঠানো আর QSL কার্ড সংগ্রহ করা - নেশার মতো ছিলো সেসময়। আস্তে আস্তে সেই শখ থিতু হয়ে আসে। জায়গা নেয় ছবি তোলা। এখনও শিখছি এবং তুলছি নানা রকম ছবি। কয়েক মাস ধরে শখ হয়েছে ক্র্যাফটিং এর। মূলত গয়না এবং নানা রকম কার্ড তৈরী, সাথে এক-আধটু স্ক্র্যাপবুকিং। সাথে মাঝে মধ্যে ব্লগ লেখা আর জাবর কাটা। এই নিয়েই চলছে জীবন বেশ।