ছবি তৈরী

আমি ইউটিউবের বড় একজন ফ্যান, টিউটোরিয়াল টাইপের ভিডিও গুলোর। জানা অজানা নানা রকম বিষয় শিখছি, বলা ভাল শেখার চেষ্টা করছি প্রতিনিয়ত। বিশেষ করে ফটোগ্রাফির বিভিন্ন বিষয়গুলি সব সময়ই আকর্ষন করে। ইদানিং আবার ফটোশপ শেখার চেষ্টা করছি।

এরকম এক সময়েই হঠাৎ করে একদিন চোখে পরলো একটি ভিডিও। একশন ফিগার দিয়ে একজন একটা যুদ্ধক্ষেত্রের ছবি তৈরী করেছেন। ছবির ঘটনা এমন যে ষ্টর্ম ট্রুপার (ষ্টার ওয়ার্স দ্রষ্টব্য) তুষার ঘেরা এক বনের মধ্যে লেজার গান দিয়ে যুদ্ধ করছে। ষ্টর্ম ট্রুপার দিয়ে প্রথম ছবিটি তারা শ্যুট করেছে হোম ষ্টুডিও’তে। কালো ব্যাকগ্রাউন্ডে কেবল একটি গাছের ছোট ডাল এবং ষ্টর্ম ট্রুপার। তুষার তৈরী করেছে চিনি দিয়ে। জাষ্ট গাছের ডাল আর ষ্টর্ম ট্রুপার পজিশন মতো রেখে উপর থেকে ধীরে ধীরে ছাকনি দিয়ে চিনি ছড়িয়ে দিয়েছে। ছাকনি ব্যবহার করলে চিনি সব জায়গায় সমানভাবে পরে। এরপর লাইট সেট করে ছবি তুলেছে।

এর পরের কাজ ফটোশপে। পেন টুল দিয়ে তুষার (চিনি), ষ্টর্ম ট্রুপার, গাছের ডাল সিলেক্ট করে আলাদা করা হয়েছে। এরপর নেট থেকে তুষার আবৃত বনের একটা ছবি ডাইনলোড করে আগের ছবিটির সাথে ব্লেন্ড করােছে। সাথে লেজার শট, ধোয়া সহ আরো কিছু এলিমেন্ট যোগ করা হয়েছে। শেষে কালার গ্রেডিং শেষে তৈরী হয়েছে চমৎকার এক ছবি।

এই ভিডিও দেখে আমি ঠিক করলাম এরকম একটি ছবি আমিও তৈরী করবো। আমার কাছে ষ্টর্ম ট্রুপার এর কোন একশন ফিগার নাই। তবে অনেক আগে কেনা Despicable Me এর কিছু ষ্ট্যাচু আমার কাছে ছিলো। সেগুলো থেকে এডিথ কে বাছাই করলাম। কারণ তার গায়ে শীতের পোষাক আর মাথায় টুপি। কালো ব্র্যাকগ্রাইন্ডে গোটা দুই গাছের ডাল (আমার সাথে পাওয়া চিকন শাখা, পাতা ফেলে দেয়া) দিয়ে এডিথ’কে দাড় করালাম। এবার তুষার ? চিনি মহার্ঘ্য বস্তু, আমি ব্যবহার করলাম লবন। এক কেজি লবন কিনেছিলাম ৩০ টাকা দিয়ে। তবে কাজের সময় কোন ছাঁকনি খূজে পেলাম না। কাঠি দিয়ে লবন ছড়িয়ে দিয়ে আসলে তেমন সূবিধা করা গেলো না। মূলত এই কারণেই আমার ছবিটা (প্রায়) নষ্ট হয়েছে। সমানভাবে ছড়াতে পারলে পিছনের ব্যাকগ্রাউন্ডের সাথে আরো ভালভাবে ব্লেন্ড করা যেতো। ব্যাকগ্রাউন্ডে ব্যবহার করার জন্য ছবি ডাউনলোড করেছিলাম Pixabay থেকে। ফটোশপে কাটাকুটি শেষে ব্যাকগ্রাউন্ডের সাথে মার্জ করার চেষ্টা করলাম।

আপাতত ফলাফল এই

Graphics Design Practice

পিছনের ছবির সাথে সামনের ছবিটির ঠিকমতো মার্জ হয় নাই। পার্থক্য খালি চোখেই দেখা যাচ্ছে। আশা করি অদূর ভবিষ্যতে হাত পাকিয়ে আবার মাঠে নামবো।

আপনারাও চেষ্টা করে দেখতে পারেন। এই হলো সেই ভিডিও

ভাল থাকুন।

 

রিফাত জামিল ইউসুফজাই

জাতিতে বাঙ্গালী, তবে পূর্ব পূরুষরা নাকি এসেছিলো আফগানিস্তান থেকে - পাঠান ওসমান খানের নেতৃত্বে মোঘলদের বিরুদ্ধে লড়াই করতে। লড়াই এ ওসমান খান নিহত এবং তার বাহিনী পরাজিত ও পর্যূদস্ত হয়ে ছড়িয়ে পড়ে টাঙ্গাইলের ২২ গ্রামে। একসময় কালিহাতি উপজেলার চারাণ গ্রামে থিতু হয় তাদেরই কোন একজন। এখন আমি থাকি বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকায়। কোন এককালে শখ ছিলো শর্টওয়েভ রেডিও শোনা। প্রথম বিদেশ ভ্রমণে একমাত্র কাজ ছিলো একটি ডিজিটাল রেডিও কেনা। ১৯৯০ সালে ষ্টকহোমে কেনা সেই ফিলিপস ডি ২৯৩৫ রেডিও এখনও আছে। দিন-রাত রেডিও শুনে রিসেপশন রিপোর্ট পাঠানো আর QSL কার্ড সংগ্রহ করা - নেশার মতো ছিলো সেসময়। আস্তে আস্তে সেই শখ থিতু হয়ে আসে। জায়গা নেয় ছবি তোলা। এখনও শিখছি এবং তুলছি নানা রকম ছবি। কয়েক মাস ধরে শখ হয়েছে ক্র্যাফটিং এর। মূলত গয়না এবং নানা রকম কার্ড তৈরী, সাথে এক-আধটু স্ক্র্যাপবুকিং। সাথে মাঝে মধ্যে ব্লগ লেখা আর জাবর কাটা। এই নিয়েই চলছে জীবন বেশ।