টিথারিং (Tethering)

ধরুন কষ্টমষ্ট করে একটি ডিএসএলআর ক্যামেরা কিনেছেন। আপনার কোন সহকারী নেই, যা করেন সব নিজে করেন। এখন ভিডিও করতে গিয়ে আবিস্কার করলেন যে ক্যামেরার এলসিডি তো ফিক্সড, নড়ে চড়ে না। এখন কিভাবে বুঝবেন যে আপনি ফ্রেমে আছেন। সবচেয়ে সহজ বুদ্ধি হলো ক্যামেরার পিছনে একটা আয়না রাখা। তাতে এলসিডি স্ক্রিনের প্রতিবিম্ব আয়নায় দেখে ফ্রেম ঠিক করতে পারবেন।
 
আরেক বুদ্ধি হলো টিথারিং করা, মানে ক্যামেরার সাথে মোবাইল অথবা ল্যাপটপ সংযোগ করে দেয়া, তারপর সফটওয়্যারের মাধ্যমে পুরো ক্যামেরাটি নিয়ন্ত্রন করা। সাথে এলসিডি স্ক্রিন দেখা যাবে মোবাইল বা ল্যাপটপে।
 
যা যা লাগবে
১. ডিএসএলআর ক্যামেরা (লাইভ ভিউ থাকতে হবে)
২. মোবাইল / ল্যাপটপ
৩. ক্যামেরার সাথে যে ইউএসবি ক্যাবল থাকে সেটি
৪. শুধু মোবাইলের জন্য ওটিজি ক্যাবল
৫. ক্যামেরার জন্য ট্রাইপড
৬. আনুষঙ্গিক কিছু হার্ডওয়্যার একসেসরিজ (অপশনাল)
৭. সফটওয়্যার
 
শুরু করি সফটওয়্যার দিয়ে। ক্যানন / নাইকন ক্যামেরা কন্ট্রোল করার জন্য আলাদা আলাদা সফটওয়্যার আছে। ক্যাননের সফটওয়্যারটি তাদের সিডি’তে পাবেন। নাইকন এর সফটওয়্যারটি আবার কিনতে হয় আলাদা করে। এর বাইরে আরো কিছু পেইড ও ফ্রি সফটওয়্যার আছে। আমি qDSLRDashboard সফটওয়্যারটি ব্যবহার করি। আরেকটি চমৎকার সফটওয়্যার হলো DigiCamCobtrol, তবে এটি শুধুই ল্যাপটপ / ডেস্কটপে ব্যবহার করার জন্য। qDSLRDashboard সফটওয়্যারটির ল্যাপটপ / ডেস্কটপ ভার্শন ছাড়াও মোবাইল ভার্শন আছে। তবে মোবাইল ভার্শনটির জন্য ১০ ডলার লাগবে। Helicon নামে আরো একটি সফটওয়্যার আছে, বেশ ভাল। তাদের পিসি এবং মোবাইল দুই ধরণের ভার্ষণই আছে। তবে এটি বেশ দামী সফটওয়্যার। মোবাইল ভার্শনটি অপেক্ষাকৃত কম দাম।
 
ধরে নিচ্ছি আপনি সফটওয়্যারটি ডাউনলোড করে ইনষ্টল করে নিয়েছেন। এখন ইউএসবি ক্যাবল দিয়ে ল্যাপটপ / ডেস্কটপে ক্যামেরা সংযুক্ত করুন। মোবাইল হলে ইউএসবি ক্যাবলের সাথে ওটিজি ক্যাবল লাগাতে হবে। সবকিছু অন করুন। সফটওয়্যার চালু করে ক্যামেরার সাথে সংযোগ ঘটান। সফটওয়্যার আপনার ক্যামেরা ডিটেক্ট করার পর সফটওয়্যার থেকে লাইভ ভিউ চালু করুন। সব কিছু ঠিক থাকলে মোবাইল / ল্যাপটপ / ডেস্কটপ স্ক্রিন/ মনিটরে লাইভ ভিউ দেখতে পারবেন। এই সফটওয়্যার দিয়েই এখন আপনি পুরো ক্যামেরা নিয়ন্ত্রন করতে পারবেন। ক্যামেরার হাত দেয়ার কোন প্রয়োজনই নাই।
 
আপনি যদি মোবাইলটি ক্যামেরার হট স্যু মাউন্টে সেট করতে চান তবে মোবাইল হোল্ডার সহ আরো টুকটাক কিছু হার্ডওয়্যার লাগবে।
 
যাদের ক্যামেরায় বিল্টইন ওয়াইফাই আছে বা আলাদা ডঙ্গল ব্যবহার করা যায়, তাদের ক্যাবল নিয়ে কোন ঝামেলাই নাই। ওয়াইফাই দিয়ে সংযোগ করে তারহীন সূবিধা কাজে লাগাতে পারেন। নাইকন এর জন্য স্ন্যাপব্রিজ নামে একটি এপ আছে, সেটি দিয়ে নাইকনের ওয়াইফাই ক্যামেরাগুলি ব্যবহার করা যায় সহজেই। ৫ বা ৬ ইঞ্চি মোবাইলের বদলে ৮ বা ১০ ইঞ্চি ট্যাব অনেক বেশী ভাল কাজ দিবে। বিশেষ করে ফোকাস নিখূত করতে এর জুড়ি নেই।
 
তো আর দেরি কেন !?! আজই শুরু করে দিন।
ভাল থাকবেন।

রিফাত জামিল ইউসুফজাই

জাতিতে বাঙ্গালী, তবে পূর্ব পূরুষরা নাকি এসেছিলো আফগানিস্তান থেকে - পাঠান ওসমান খানের নেতৃত্বে মোঘলদের বিরুদ্ধে লড়াই করতে। লড়াই এ ওসমান খান নিহত এবং তার বাহিনী পরাজিত ও পর্যূদস্ত হয়ে ছড়িয়ে পড়ে টাঙ্গাইলের ২২ গ্রামে। একসময় কালিহাতি উপজেলার চারাণ গ্রামে থিতু হয় তাদেরই কোন একজন। এখন আমি থাকি বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকায়। কোন এককালে শখ ছিলো শর্টওয়েভ রেডিও শোনা। প্রথম বিদেশ ভ্রমণে একমাত্র কাজ ছিলো একটি ডিজিটাল রেডিও কেনা। ১৯৯০ সালে ষ্টকহোমে কেনা সেই ফিলিপস ডি ২৯৩৫ রেডিও এখনও আছে। দিন-রাত রেডিও শুনে রিসেপশন রিপোর্ট পাঠানো আর QSL কার্ড সংগ্রহ করা - নেশার মতো ছিলো সেসময়। আস্তে আস্তে সেই শখ থিতু হয়ে আসে। জায়গা নেয় ছবি তোলা। এখনও শিখছি এবং তুলছি নানা রকম ছবি। কয়েক মাস ধরে শখ হয়েছে ক্র্যাফটিং এর। মূলত গয়না এবং নানা রকম কার্ড তৈরী, সাথে এক-আধটু স্ক্র্যাপবুকিং। সাথে মাঝে মধ্যে ব্লগ লেখা আর জাবর কাটা। এই নিয়েই চলছে জীবন বেশ।