টিভি বক্স

বাসায় টিভি আছে ৩টি। তার মধ্যে একটি স্মার্ট টিভি, বাকি দুটো সাধারণ এলইডি টিভি। একটা আব্বার রুমে আরেকটা আম্মার রুমে এবং বাকিটা দুলাভাই এর রুমে। আব্বা অসুস্থ্য বলে সে টিভি দেখে কালে-ভদ্রে। তার নাকি মাথা ধরে যায়। আবার আম্মার রুমের টিভি দেখে মূলত বোন। সে থাকে অসুস্থ্য আম্মার সাথে একই রুমে। আর দূলাভাই মূলত খেলার ভক্ত। করোনার কারণে তার অফিস এখন বেডরুমে। আব্বার রুমের টিভি সরিয়ে আনাটা একেবারেই অমানবিক হয়ে যায়। তাই ঠিক করলাম একটা টিভি বক্স কিনবো। আমার কম্পিউটার মনিটরে ২টা এইচডিএমআই পোর্ট আছে। সুতরাং যখন পিসিতে কাজ করবো না তখন নিশ্চিন্তেই টিভি বক্স ব্যবহার করা যাবে।

প্রথম পছন্দ ছিলো শাউমির মি টিভি বক্স। কিন্তু দাম দেখে একটু চিন্তায় পরে গেলাম। কারণ অদুর ভবিষ্যতে একটা ২ জিবি হার্ডডিস্ক কেনার ইচ্ছে আছে। টিভি বক্সের পিছনে ৫+ হাজার টাকা খরচ করলে হার্ডডিস্ক কেনা পিছিয়ে যাবে।

বেশ কিছু মডেল দেখলাম ১৫/১৬ শত টাকায় পাওয়া যায়। তবে সেগুলোর ram / rom ১ জিবি / ৮ জিবি। ২+ হাজার টাকা দামের গুলো ২ জিবি / ১৬ জিবি। ৩+ হাজারে পাওয়া যায় ৪ জিবি / ৩২ জিবি’র মডেল। ৪ হাজারে পাওয়া যায় ৪ জিবি / ৬৪ জিবির টিভি বক্স। আর শাউমির টিভি বক্স এ আছে ২ জিবি / ১৬ জিবি।

শাউমি প্রতিষ্ঠিত ব্র্যান্ড। তাদের টিভি বক্সের সুনামও আছে। এটা কিনলে আমি আমার গুগল এসিট্যান্ট এর সাথে হুক আপ করে ভয়েস কমান্ড দিয়ে এটি পরিচালনা করতে পারতাম। কিন্তু আপাতত বাজেটের কারণে কিনতে পারছি না।

আমি পছন্দ করেছি Tanix ব্র্যান্ডের TX6 মডেলটি, যার ram / rom ৪ জিবি/ ৩২ জিবি। বাংলাদেশী কিছু ফেসবুক গ্রুপ এবং ইউটিউব চ্যানেলে ভালই রিভিউ পেলাম। দারাজে এর দাম ৩৪০০ টাকা। ডুয়াল ওয়াইফাই এবং ব্লুটুথ সহ আরেকটি মডেল আছে ৩৮০০ টাকা। তবে আমার পছন্দ একদম বেসিক মডেলটিই।

কবে নাগাদ নিবো এখনও ঠিক করি নাই। যে কোনদিন নিয়ে ফেলবো। আশা করি কেনার পর আপনাদের রিভিউ দিতে পারবো।

আপাতত বিদায়। ভাল থাকুন।

রিফাত জামিল ইউসুফজাই

জাতিতে বাঙ্গালী, তবে পূর্ব পূরুষরা নাকি এসেছিলো আফগানিস্তান থেকে - পাঠান ওসমান খানের নেতৃত্বে মোঘলদের বিরুদ্ধে লড়াই করতে। লড়াই এ ওসমান খান নিহত এবং তার বাহিনী পরাজিত ও পর্যূদস্ত হয়ে ছড়িয়ে পড়ে টাঙ্গাইলের ২২ গ্রামে। একসময় কালিহাতি উপজেলার চারাণ গ্রামে থিতু হয় তাদেরই কোন একজন। এখন আমি থাকি বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকায়। কোন এককালে শখ ছিলো শর্টওয়েভ রেডিও শোনা। প্রথম বিদেশ ভ্রমণে একমাত্র কাজ ছিলো একটি ডিজিটাল রেডিও কেনা। ১৯৯০ সালে ষ্টকহোমে কেনা সেই ফিলিপস ডি ২৯৩৫ রেডিও এখনও আছে। দিন-রাত রেডিও শুনে রিসেপশন রিপোর্ট পাঠানো আর QSL কার্ড সংগ্রহ করা - নেশার মতো ছিলো সেসময়। আস্তে আস্তে সেই শখ থিতু হয়ে আসে। জায়গা নেয় ছবি তোলা। এখনও শিখছি এবং তুলছি নানা রকম ছবি। কয়েক মাস ধরে শখ হয়েছে ক্র্যাফটিং এর। মূলত গয়না এবং নানা রকম কার্ড তৈরী, সাথে এক-আধটু স্ক্র্যাপবুকিং। সাথে মাঝে মধ্যে ব্লগ লেখা আর জাবর কাটা। এই নিয়েই চলছে জীবন বেশ।