ডিভাইস ডাজেন্ট ম্যাটার

ফটোগ্রাফিতে ডিভাইস ডাজেন্ট ম্যাটার কথাটি ব্যাপক প্রচলিত। আসলেই কি তাই ? তাহলে ক্যামেরা ম্যানুফ্যাকচারার কোম্পানিগুলো নিত্য নতুন ফিচার সমৃদ্ধ ক্যামেরা / লেন্স / একসেসরিজ কেন তৈরী করছেন !?!

আমার কাছে মনে হয় ফটোগ্রাফি বা ভিডিওগ্রাফিতে দুটো জিনিস ওতোপ্রতোভাবে জড়িত। প্রথমটি গিয়ার বা ডিভাইস, দ্বিতীয়টি যে ব্যক্তি সেই ডিভাইস বা গিয়ার ব্যবহার করবেন তার ক্রিয়েটিভিটি। খূব দামী বা ষ্টেট অফ দি আর্ট টাইপ ডিভাইস নিয়ে হয়তো অনেকেই সাদামাটা ফটোগ্রাফি / ভিডিওগ্রাফি করেন। আবার কমদামী পুরাতন কোন ডিভাইস / গিয়ার নিয়েও হয়তো অনেকেই অসাধারণ ফটোগ্রাফি / ভিডিওগ্রাফি করছেন। তাহলে ?

আসলে আমার মনে হয় কোথায় কোন পরিস্থিতিতে কে ফটোগ্রাফি / ভিডিওগ্রাফি করছেন তার উপর ‘ডিভাইস ডাজেন্ট ম্যাটার’ কথাটি অনেকাংশে নির্ভর করে। একজন প্রফেশনাল ফটোগ্রাফার / ভিডিওগ্রাফার তার গ্রাহককে সর্বোচ্চ মানের কাজ দেয়ার জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। সেই সাথে তাকে সময় ও হিসাব করে চলতে হবে। এখানে সর্বোচ্চ মানের কাজের জন্য অবশ্যই তার সর্বোচ্চ মানের ডিভাইস / গিয়ার প্রয়োজন। সাথে দরকার ক্রিয়েটিভিটি। এখানে কম্প্রোমাইজ করার সূযোগ নেই বললেই চলে।

অন্যদিকে একজন এমেচার ফটোগ্রাফার / ভিডিওগ্রাফার হয়তো বাজেটের কারণে সর্বোচ্চ মানের ডিভাইস / গিয়ার নিতে পারছেন না, কিন্তু তার ক্রিয়েটিভিটি হয়তো অন্যান্যদের চাইতে বেশী। সে হয়তো সাধারণ ডিভাইস নিয়েই অসাধারণ কাজ করতে পারবে। ক্যামেরার আদি যুগের কথা চিন্তা করেন। এখনকার একটি সাধারণ মানের ক্যামেরার কাছে সে আমলের ক্যামেরা স্রেফ খেলনা মনে হবে। অথচ সেই তথাকথিত ‘খেলনা’ ক্যামেরা দিয়েই অসাধারণ সব ছবি তুলেছেন বিখ্যাত ফটোগ্রাফাররা।

আপনার ক্রিয়েটিভিটি আছে, হাতে অফুরন্ত সময় আছে, কিন্তু ডিভাইস / গিয়ারের ক্ষেত্রে হয়তো আপনি একটু দূর্বল। আপনি হয়তো আপনার ক্রিয়েটিভিটি দিয়েই ‘ডিভাইস ডাজেন্ট ম্যাটার’ কথাটি সত্য প্রমাণিত করতে পারবেন। তাই বলে কথাটি চিরন্তন সত্য এমনটি ভাবার কারণ নেই। আবার লেটেষ্ট মডেলের ডিভাইস / গিয়ার নিয়ে হয়তো কেউ অশ্বডিম্ব প্রসব করতেও পারে, তার মধ্যে হয়তো ক্রিয়েটিভিটির ছিটেফোটাও ছিলো না। এটাও তাই মনে রাখা জরুরী যে সব কাজ সবার জন্য না। কাগজ, কালি, কলম থাকলেই যে কেউ অসাধারণ কোন লেখা লিখে ফেলতে পারবে না।

কয়েকদিন ধরে দুটো ছায়াছবি ঘুরে ফিরে দেখছি। দুটোই পরিচালনা করেছেন ষ্টিভেন সোদারবার্গ। একটি আনসেইন, অন্যটি হাই ফ্লাইং বার্ড। এই ছায়াছবি দুটোর বিশেষত্ব হলো এই দুটোই আগাগোরা আইফোন দিয়ে চিত্রায়ন করা হয়েছে। তার মতো একজন পরিচালক এই কাজ করতেই পারেন, কারণ তিনি নিজের উপর কনফিডেন্ট ছিলেন। আইফোনের সীমাবদ্ধতা ঠিক কতটুকু তিনি তা জানতে এবং বুঝতে পেরেছেন বলেই এটি সম্ভব হয়েছে বলে মনে করি। তিনি হয়তো শুধূমাত্র ক্যামেরার আউটপুট নিয়ে চিন্তা করেন নাই। চিন্তা করেছেন গল্প নিয়ে, সংলাপ নিয়ে, চিত্রনাট্য নিয়ে। সব মিলিয়ে আইফোন দিয়ে চিত্রায়িত এই ছায়াছবি দর্শকের কাছে গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছে। দর্শক হয়তো কখনই চিন্তা করার সূযোগ পান নাই যে এটি মোবাইল ক্যামেরা দিয়ে করা হয়েছে নাকি লেটেষ্ট কোন ক্যামেরা দিয়ে। উপস্থাপনা এখানে বড় একটি বিষয়।

সময় সূযোগ থাকলে আনসেইন এবং হাই ফ্লাইং বার্ড দেখতে ভুলবেন না। আর বিহাইন্ড দি সিনস দেখতে চাইলে এখানে এবং এখানে ক্লিক করুন।

 

রিফাত জামিল ইউসুফজাই

জাতিতে বাঙ্গালী, তবে পূর্ব পূরুষরা নাকি এসেছিলো আফগানিস্তান থেকে - পাঠান ওসমান খানের নেতৃত্বে মোঘলদের বিরুদ্ধে লড়াই করতে। লড়াই এ ওসমান খান নিহত এবং তার বাহিনী পরাজিত ও পর্যূদস্ত হয়ে ছড়িয়ে পড়ে টাঙ্গাইলের ২২ গ্রামে। একসময় কালিহাতি উপজেলার চারাণ গ্রামে থিতু হয় তাদেরই কোন একজন। এখন আমি থাকি বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকায়। কোন এককালে শখ ছিলো শর্টওয়েভ রেডিও শোনা। প্রথম বিদেশ ভ্রমণে একমাত্র কাজ ছিলো একটি ডিজিটাল রেডিও কেনা। ১৯৯০ সালে ষ্টকহোমে কেনা সেই ফিলিপস ডি ২৯৩৫ রেডিও এখনও আছে। দিন-রাত রেডিও শুনে রিসেপশন রিপোর্ট পাঠানো আর QSL কার্ড সংগ্রহ করা - নেশার মতো ছিলো সেসময়। আস্তে আস্তে সেই শখ থিতু হয়ে আসে। জায়গা নেয় ছবি তোলা। এখনও শিখছি এবং তুলছি নানা রকম ছবি। কয়েক মাস ধরে শখ হয়েছে ক্র্যাফটিং এর। মূলত গয়না এবং নানা রকম কার্ড তৈরী, সাথে এক-আধটু স্ক্র্যাপবুকিং। সাথে মাঝে মধ্যে ব্লগ লেখা আর জাবর কাটা। এই নিয়েই চলছে জীবন বেশ।