ডেঙ্গু সমাচার

ঢাকায় ডেঙ্গুর অবস্থা ভাল না। প্রতিদিনই নতুন নতুন রোগী ভর্তি হচ্ছে হাসপাতালে। হাসপাতালগুলি চেষ্টা করছে, সরকারী / বেসরকারী হাসাপাতাল গুলির সীমাবদ্ধতা আছে। কোন হাসপাতালই তাদের সীমার অতিরিক্ত রোগী ভর্তি করতে পারে না। কারণ খূব স্পষ্ট, রোগী কেবল ভর্তি করলেই তো হবে না। চিকিৎসা দেয়ার মতো ডাক্তার, নার্স এবং অন্যান্য জনবল তো থাকতে হবে। তাই আপনার উচিত হবে সচেতন হওয়া। বাসা এবং তার আশে-পাশে যদি বৃষ্টির পরিস্কার পানি জমতে দেখেন তাহলে অতি দ্রুত সেই পানি নিস্কাশনের ব্যবস্থা করেন। ফুলের টব, ছাদ বা কার্নিস এ পানি জমার সম্ভাবনা বেশী। বৃষ্টির পর নিয়মিত খেয়াল করুন এসব জায়গায় পানি জমছে কিনা। এছাড়া কোথাও কোন ভাঙ্গা পাত্র থাকলে সেগুলি অপসারণ করুন। 

ক্লোরক্সফেসবুক থেকে প্রাপ্ত এক তথ্যে জানা গেছে যে সোডিয়াম হাইপো ক্লোরাইট এডিস মশার লার্ভা ধ্বংস করে কার্যকর ভাবে। আমরা বাসায় কাপড়চোপড় ব্লিচ করার জন্য যে লিকুইড ব্যবহার করি তাতে এই সোডিয়াম হাইপো ক্লোরাইট থাকে। পানির সাথে মিশিয়ে জমে থাকা পানিতে স্প্রে করলে এডিস মশার লার্ভা ধ্বংস হবে। বাজারে Clorox ব্র্যান্ড ব্লিচে এই সোডিয়াম হাইপোক্লোরাইট আছে। ৫০০ এমএল এর দাম মাত্র ২০০ টাকা। 

এতো সাবধানতার পরও যদি দেখেন জ্বর আসছে তাহলে সাথে সাথে ডাক্তারের সাথে যোগাযোগ করে প্রয়োজনীয় টেষ্টগুলি করিয়ে ফেলুন। এবার দেখা যাচ্ছে জ্বর খূব বেশী বাড়ছে না, ১০১ ডিগ্রির আশে-পাশেই থাকছে। সাধারণ জ্বর আসার ৩দিনের মধ্যে NS1 টেষ্ট করালে ডেঙ্গুর উপস্থিতি ধরা পরে। ৩দিন পর আর ধরা পরবে না। এরপর IgM / IgE টেষ্টগুলি করাতে হবে। বর্তমানে সরকারী নির্দেশে এইসব টেষ্টগুলি ৫০০ টাকায় করা হচ্ছে। 

রক্তে প্লাটিলেটের পরিমান জানতে CBC টেষ্ট একাধিকবার (ডেঙ্গু আক্রান্ত হলে) করতে হতে পারে। সরকারী নির্দেশে এই টেষ্ট এর বর্তমান মূল্য ধরা হয়েছে ৪০০ টাকা। প্লাটিলেট হচ্ছে রক্তের এক ধরণের ক্ষুদ্র কণিকা বা অণুচক্রিকা, যা রক্ত জমাট বাঁধতে ও রক্তক্ষরণ বন্ধ করতে সাহায্য করে। স্বাভাবিক মানুষের রক্তে প্লাটিলেটের হার প্রতি ১০০ মিলিলিটারে দেড় লাখ থেকে চার লাখ। এই পরিমাপের চাইতে প্লাটিলেটের মাত্রা কমে গেলে রক্তক্ষরণের ঝুঁকি দেখা দেয়। ২০ হাজারের নিচে প্লাটিলেটের সংখ্যা নেমে আসলে কোনো প্রকার আঘাত ছাড়াই রক্তক্ষরণ হতে পারে। ডেঙ্গু হলে এটি হচ্ছে সবচাইতে ক্ষতিকারক দিক। 

ডেঙ্গুরোগী নির্বিশেষে সবাই নিচের খাদ্যগুলি নিয়মিত গ্রহণ করলে রক্সে প্লাটিলেটের সংখ্যঅ বাড়বে।

পেঁপে এবং পেঁপে পাতা
পেঁপে খুব দ্রুত রক্তের প্লাটিলেটের পরিমাণ বাড়াতে সক্ষম। মালয়েশিয়ার এশিয়ান ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলোজির একটি গবেষণায় দেখা গেছে যে, ডেঙ্গু জ্বরের কারণে রক্তে প্লাটিলেটের পরিমাণ কমে গেলে পেঁপে পাতার রস তা দ্রুত বৃদ্ধি করে। রক্ত প্লাটিলেটের পরিমাণ কমে গেলে প্রতিদিন পেঁপে পাতার রস কিংবা পাকা পেঁপের জুস পান করুন।
মিষ্টি কুমড়া এবং কুমড়া বীজ
মিষ্টি কুমড়া রক্তের প্লাটিলেট তৈরি করতে বেশ কার্যকরী। এছাড়াও মিষ্টি কুমড়াতে আছে ভিটামিন ‘এ’ যা প্লাটিলেট তৈরি করতে সহায়তা করে। তাই রক্তের প্লাটিলেটের সংখ্যা বাড়াতে নিয়মিত মিষ্টি কুমড়া এবং এর বীজ খেলে উপকার পাওয়া যায়।
লেবুর রস
লেবুর রসে প্রচুর ভিটামিন ‘সি’ থাকে। ভিটামিন সি রক্তে প্লাটিলেট বাড়াতে সহায়তা করে। এছাড়াও ভিটামিন ‘সি’ শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও বাড়িয়ে তোলে। ফলে প্লাটিলেট ধ্বংস হওয়া থেকেও রক্ষা পায়।
আমলকি
আমলকিতেও আছে প্রচুর ভিটামিন ‘সি’। এছাড়াও আমলকিতে প্রচুর অ্যান্টি অক্সিডেন্ট আছে। ফলে আমলকী খেলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে এবং প্লাটিলেট ধ্বংস হওয়া থেকে রক্ষা পায়।
অ্যালোভেরার রস
অ্যালোভেরা রক্তকে বিশুদ্ধ করে। রক্তের যেকোনো সংক্রমণ দূর করতেও অ্যালোভেরা উপকারি। তাই নিয়মিত অ্যালোভেরার জুস পান করলে রক্তের প্লাটিলেটের পরিমাণ বৃদ্ধি পায়।
ডালিম
ডালিম রক্তে প্লাটিলেটের পরিমাণ বৃদ্ধিতে সাহায্য করে। এতে প্রচুর আয়রন রয়েছে যা প্লাটিলেট বৃদ্ধি করে। প্রতিদিন ১৫০ মিলিলিটার ডালিমের জুস দুই সপ্তাহ পান করুন। ডালিমের রসের ভিটামিন দুর্বলতা দূর করে কাজে শক্তি দেবে।

ঠান্ডা মাথায় ডেঙ্গু পরিস্থিতি মোকাবিলা করুন এবং অন্যকে সাহায্য করুন। মনে রাখবেন সামনের আগষ্ট সেপ্টেম্বর মাস হলো ডেঙ্গুর পিক সিজন। তাই সাবধানতা অবলম্বনই শ্রেষ্ঠ পন্থা। রাতে তো বটেই, প্রয়োজনে দিনেও মশারী ব্যবহার করুন। মনে রাখবেন এডিস মশা সাধারণত ভোর বা সন্ধ্যায় আলো আধারীর সময় আক্রমন করে। মশা তাড়ানোর জন্য প্রয়োজনে ধূপ, কয়েল, এরোসল, ব্যাট ইত্যাদি ব্যবহার করুন।

ছবি : উইকিপিডিয়া
By Muhammad Mahdi Karim – Own work, GFDL 1.2,

তথ্য সূত্র : বিভিন্ন
১. ডেঙ্গু রোগের চিকিৎসা সম্পর্কিত সচেতনতা
২. ডেঙ্গু পরীক্ষার খরচ সম্পর্কিত সরকারী সিদ্ধান্ত

রিফাত জামিল ইউসুফজাই

জাতিতে বাঙ্গালী, তবে পূর্ব পূরুষরা নাকি এসেছিলো আফগানিস্তান থেকে - পাঠান ওসমান খানের নেতৃত্বে মোঘলদের বিরুদ্ধে লড়াই করতে। লড়াই এ ওসমান খান নিহত এবং তার বাহিনী পরাজিত ও পর্যূদস্ত হয়ে ছড়িয়ে পড়ে টাঙ্গাইলের ২২ গ্রামে। একসময় কালিহাতি উপজেলার চারাণ গ্রামে থিতু হয় তাদেরই কোন একজন। এখন আমি থাকি বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকায়। কোন এককালে শখ ছিলো শর্টওয়েভ রেডিও শোনা। প্রথম বিদেশ ভ্রমণে একমাত্র কাজ ছিলো একটি ডিজিটাল রেডিও কেনা। ১৯৯০ সালে ষ্টকহোমে কেনা সেই ফিলিপস ডি ২৯৩৫ রেডিও এখনও আছে। দিন-রাত রেডিও শুনে রিসেপশন রিপোর্ট পাঠানো আর QSL কার্ড সংগ্রহ করা - নেশার মতো ছিলো সেসময়। আস্তে আস্তে সেই শখ থিতু হয়ে আসে। জায়গা নেয় ছবি তোলা। এখনও শিখছি এবং তুলছি নানা রকম ছবি। কয়েক মাস ধরে শখ হয়েছে ক্র্যাফটিং এর। মূলত গয়না এবং নানা রকম কার্ড তৈরী, সাথে এক-আধটু স্ক্র্যাপবুকিং। সাথে মাঝে মধ্যে ব্লগ লেখা আর জাবর কাটা। এই নিয়েই চলছে জীবন বেশ।