দাওয়াত এর মেন্যু

সেদিন বৃষ্টির পরপরই গিয়েছিলাম স্থানীয় এক ডায়াগনষ্টিক সেন্টারে, আব্বার টেষ্টের রিপোর্ট ডাক্তার’কে দেখানোর জন্য। বৃষ্টির কারণেই হয়তো ডাক্তার সাহেবের আসতে দেরি হচ্ছিলো। রোগীরা বসে বসে গল্প করছে, কেউ বা ডাক্তারের চৌদ্দ গুষ্টি উদ্ধার করছে। আবার কেউ হয়তো ফোনে কথা বলছে। অনেকেই আবার ফোনে নেট ব্রাউজ করছে, আজকালকার ট্রেন্ড। এর মধ্যেই আমার পাশের সারিতে বসা এক ভদ্রলোকের ফোন আসলো। উনি স্বাভাবিকের চাইতে উচু গলায় কথা শুরু করলেন। অপর পক্ষের কথা না শুনলেও  শুধূমাত্র ভদ্রলোকের কথা শুনেই বুঝতে পারছিলাম কি নিয়ে কথা হচ্ছে। ভদ্রলোক হয়তো দাওয়াত দিবেন, কথা বলছিলেন মেন্যু নিয়ে।

: হ্যালো রাহাত। শুনো তোমাকে খোঁজ করছিলাম। সামনের সপ্তাহে কিছু লোকজন দাওয়াত দিচ্ছি, বাসায়। এই ধরো ৩৫/৪০ জন হবে। তুমি কি এরেঞ্জ করতে পারবা ?
: (অপর পক্ষ)
: মেন্যু খূব বেশী কিছু না। সাদা ভাত, গরুর মাংস আর ডাল। শেষে আইসক্রিম। সাথে সালাদ দিবা।
: (অপর পক্ষ)
: তোমার রান্নার হাত তো ভালই, আগেও করছো। সেটা নিয়ে বলার কিছু নাই। কেবল মাংসটা একটু নরম করবা, ঝাঁল মোটামুটি। আর ডালটা একটু ঘন, সালুন ডাল বলে যেটা। আর আইসক্রিম দিবা পোলার। বাসার সবাই পোলার পছন্দ করে।
: (অপর পক্ষ)
: না না, পোলার ছাড়া অন্য কিছু দিও না। ভাল হবে না।
: (অপর পক্ষ)
: কোয়ালিটি ! হুম। ঠিক আছে, আমি বাসায় একটু কথা বলে কনফার্ম করবো।

ফোন কেটে দিয়ে বাসায় ফোন করে কিছুক্ষণ কথা বললেন। পরে আবার আগের জায়গায় ফোন দিলেন।

: হ্যালো রাহাত। তোয়ালিটি দিতে পারে। বাসায় রাজি হয়েছে।
: (অপর পক্ষ)
: আচ্ছা শুরুতে ২/৩ পিস করে বেগুন ভাঁজা দিবা নাকি। বড় গোল বেগুন দরকার নাই। লম্বা বেগুনই চাক চাক করে কেটে ভেঁজে দিলা।
: (অপর পক্ষ)
: ৩৫/৪০ জনে আর কয়টা বেগুন লাগবে। তোমার গরুর মাংস তো ভাল হয়। নিজেই খাওয়া কন্ট্রোল করতে পারি না। শুরুতে বেগুন ভাঁজা দিলে, পেট অর্ধেক এই দিয়েই ভরে যেতো। তাতে মাংসের উপর চাপটা একটু কমতো। 
: (অপর পক্ষ)
: না না। বেশী টানলে তো সমস্যা। শেষে যদি শর্ট পরে তো মান সম্মানের ব্যাপার। তুমি বেগুন ভাঁজা দিও আর সালাদে শষা আর কাঁচা মরিচ। আর কিছু লাগবে না।
: (অপর পক্ষ)
: ঠিক আছে। মেন্যু তাহলে এইটাই ফাইনাল। সাদা ভাত, বেগুন ভাঁজা, গরুর মাংস আর ঘন ডাল। সাথে সালাদ আর শেষে আইসক্রিম। তুমি বাজেট জানাইয়া এডভান্স নিয়া যাও। 
: (অপর পক্ষ)
: ৩৫ থেকে ৪০ জন ধরে রাখো। ৫জন বাড়বে বা কমবে। আমি ২দিন পর তোমাকে সঠিক সংখ্যাটা জানাতে পারবো।
: (অপর পক্ষ)
: ওকে। ওয়ালাইকুম স্লাম।

Featured Image : Photo by Avel Chuklanov on Unsplash

রিফাত জামিল ইউসুফজাই

জাতিতে বাঙ্গালী, তবে পূর্ব পূরুষরা নাকি এসেছিলো আফগানিস্তান থেকে - পাঠান ওসমান খানের নেতৃত্বে মোঘলদের বিরুদ্ধে লড়াই করতে। লড়াই এ ওসমান খান নিহত এবং তার বাহিনী পরাজিত ও পর্যূদস্ত হয়ে ছড়িয়ে পড়ে টাঙ্গাইলের ২২ গ্রামে। একসময় কালিহাতি উপজেলার চারাণ গ্রামে থিতু হয় তাদেরই কোন একজন। এখন আমি থাকি বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকায়। কোন এককালে শখ ছিলো শর্টওয়েভ রেডিও শোনা। প্রথম বিদেশ ভ্রমণে একমাত্র কাজ ছিলো একটি ডিজিটাল রেডিও কেনা। ১৯৯০ সালে ষ্টকহোমে কেনা সেই ফিলিপস ডি ২৯৩৫ রেডিও এখনও আছে। দিন-রাত রেডিও শুনে রিসেপশন রিপোর্ট পাঠানো আর QSL কার্ড সংগ্রহ করা - নেশার মতো ছিলো সেসময়। আস্তে আস্তে সেই শখ থিতু হয়ে আসে। জায়গা নেয় ছবি তোলা। এখনও শিখছি এবং তুলছি নানা রকম ছবি। কয়েক মাস ধরে শখ হয়েছে ক্র্যাফটিং এর। মূলত গয়না এবং নানা রকম কার্ড তৈরী, সাথে এক-আধটু স্ক্র্যাপবুকিং। সাথে মাঝে মধ্যে ব্লগ লেখা আর জাবর কাটা। এই নিয়েই চলছে জীবন বেশ।