ধর্মান্ধতা

দেশে আবারও শুরু হয়েছে নানা ছুতা-নাতায় অমুসলিমদের নানা ভাবে হামলা, মামলা ইত্যাদি দিয়ে লাঞ্ছতি করার অপচেষ্টা। মাত্র মাস কয়েক আগেই পূজামন্ডপে কোরান শরীফ রেখে দাঙ্গা বাধানোর অপচেষ্টা করা হয়েছিলো। সেটি বেশীদূর যাওয়ার আগেই বের হয়ে আসে কে বা কারা এটি করেছিলো। ফলে আপাত সবকিছু চাপা পরে যায়।

গত কয়েক সপ্তাহের মাঝেই ঘটে গেলো কয়েকটি ঘটনা। প্রতিটি ঘটনাই ঘটেছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে। ভিকটিম সব হিন্দু শিক্ষক আর তাঁদের ফাঁসিয়েছে তাদেরই মুসলমান ছাত্র। এক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে তো দেখা গেলো ছাত্ররা হাতে স্যান্ডেল নিয়ে শ্লোগান দিচ্ছে ‘____ দুই গালে জুতা মারো তালে তালে’। কতক্ষণ স্তব্ধ হয়ে বসেছিলাম এই দৃশ্য দেখে। 

আমার শিক্ষাজীবন শুরু হয়েছিলো মিশনারী স্কুলে। এরপর যে সব স্কুলে গেছি সেখানে মুসলমান শিক্ষকের পাশাপাশি অন্যান্য ধর্মের শিক্ষকও পেয়েছিলাম। অনেক সময় নানা কারণে (শিক্ষা সংশ্লিষ্ট) তাদের উপর রাগ বা ক্ষোভ হলেও কখনই ন্যুনতম বেয়াদপি করার ইচ্ছাও মনে আসে নাই। অথচ স্কুলের এইসব ছেলেরা কি অবলীলায় শিক্ষকের গালে জুতা মারতে আগ্রহী। 

গত কয়েক বছরে আমাদের চিন্তা চেতনায় এতো ব্যাপক পরিবর্তন হয়েছে যে নিজেকে এখন একজন অস্পৃশ্য সংখ্যালঘু মনে হয়। চারিদিকে সব ধর্মান্ধ লোকেদের বসবাস। মাঝে মাঝে মনে হয় এটাই আসলে আমাদের নিয়তি। ৩০ লক্ষ মানুষ নিজেদের বুকের রক্ষ ঢেলে এই দেশ স্বাধীন করেছে শুধূ শুধূ। 

রিফাত জামিল ইউসুফজাই

জাতিতে বাঙ্গালী, তবে পূর্ব পূরুষরা নাকি এসেছিলো আফগানিস্তান থেকে - পাঠান ওসমান খানের নেতৃত্বে মোঘলদের বিরুদ্ধে লড়াই করতে। লড়াই এ ওসমান খান নিহত এবং তার বাহিনী পরাজিত ও পর্যূদস্ত হয়ে ছড়িয়ে পড়ে টাঙ্গাইলের ২২ গ্রামে। একসময় কালিহাতি উপজেলার চারাণ গ্রামে থিতু হয় তাদেরই কোন একজন। এখন আমি থাকি বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকায়। কোন এককালে শখ ছিলো শর্টওয়েভ রেডিও শোনা। প্রথম বিদেশ ভ্রমণে একমাত্র কাজ ছিলো একটি ডিজিটাল রেডিও কেনা। ১৯৯০ সালে ষ্টকহোমে কেনা সেই ফিলিপস ডি ২৯৩৫ রেডিও এখনও আছে। দিন-রাত রেডিও শুনে রিসেপশন রিপোর্ট পাঠানো আর QSL কার্ড সংগ্রহ করা - নেশার মতো ছিলো সেসময়। আস্তে আস্তে সেই শখ থিতু হয়ে আসে। জায়গা নেয় ছবি তোলা। এখনও শিখছি এবং তুলছি নানা রকম ছবি। কয়েক মাস ধরে শখ হয়েছে ক্র্যাফটিং এর। মূলত গয়না এবং নানা রকম কার্ড তৈরী, সাথে এক-আধটু স্ক্র্যাপবুকিং। সাথে মাঝে মধ্যে ব্লগ লেখা আর জাবর কাটা। এই নিয়েই চলছে জীবন বেশ।