ধোঁকা

ইদানিং ইভ্যালি নিয়ে সর্বত্রই আলোচনা। ইভ্যালি কি জেনুইন নাকি ডেসটিনি’র মতোই একটি এলএমএল কোম্পানি – সেটা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হচ্ছে। ইভ্যালি প্রথম আত্মপ্রকাশ করে ৫০০ টাকার বই দিয়ে, কেউ কেউ বলছেন ১৬ টাকায় পেন ড্রাইভ দিয়ে। কোনটা আগে কোনটা পরে সেটা নিয়ে আমি নিজেও কিছুটা দোনোমনো।তবে আমি ৫০০ টাকার বই এর অফার গ্রঞন করেছিলাম। যদিও পছন্দের বই খূঁজতে গিয়ে ৫০০ টাকার বই পাই নাই, অর্ডার করেছিলাম ৩৫০ টাকার বই। যাই হোক। এরপর আর কখনই ইভ্যালিতে কেনাকাটা করা হয় নাই। মানে সিস্টেম বুঝতে গিয়ে সময় পার হয়ে গেছে, অফার আর গ্রহণ করা হয় নি। তবে আমার আশেপাশের অনেকেই দেখলাম অনেক কিছু কিনে ফেলেছে। একজন তো স্কুটি, ফ্রিজ, ক্যামেরা সহ সংসারের প্রয়োজনীয় নানা জিনিস কিনেছেন। আরেকজন কিনেছেন বেশ কয়েকটি মোবাইল। তিনি অবশ্য একটু বেশী হিসাবী। এতোগুলো মোবাইল তো আর ব্যবহার করেন নাই। বিক্রি করে দিয়ে টু পাইস কামিয়ে নিয়েছেন। এখন শুনছি এরকম টুপাইস কামানোওয়ালাদের সংখ্যা নাকি নিতান্ত কম না। সেদিন ফেসবুকে দেখলাম একজন ছোট একটা লিষ্ট দিয়েছেন ইভ্যালি থেকে কি কি কিনেছেন। সাথে ছবিও ছিলো। একটা ছবি নজর কেড়েছে সবার, প্রায় ২০/২৫টি মোবাইল। লিষ্টের শুরুতেই আছে ১০০ রিম কাগজ। এবার বুঝেন অবস্থা। ইভ্যালি’র সিইও নিজেই নাকি এর মধ্যে অডি গাড়িও কিনে ফেলেছেন।

যাই হোক ঘটনা সেটা না। ঘটনা হলো কয়েকদিন আগে ফেসবুকে এক এড দেখে রীতিমতো আকৃষ্ট হয়েছিলাম। বিজিবক্স নামে এক প্রতিষ্ঠান তাদের কিছু ডিজিটাল প্রোডাক্ট খূবই কম মূল্যে ছাড়ার বিজ্ঞাপন দিয়েছিলো, এখনও দিচ্ছে। ৫৯৯ ডলারের জিনিস মাত্র ৩০ ডলার। আমিও তেমন কিছু না ভেবে কিনে ফেললাম। এখন সমস্যা হলো ডাউনলোড করতে গেলে কিছুক্ষণ পর পর বন্ধ হয়ে যায় আর ডাউনলোড স্পিড কমতে কমতে ১৫/১৬ কেবিপিএস এ নেমে আসে। এরকম পরিস্থিতিতে আগে কখনই পরি নাই। আগেও এরকম কিছু সফটওয়্যার / এপ কিনে ডাউনলোড করেছি। কখনও ডাউনলোড বন্ধ হয় নাই। মনে হচ্ছে কোম্পানি ৩০ ডলারে জিনিস বিক্রি করে সার্ভারে কোন কারসাজি করে রেখেছে যাতে তেমন কিছু ডাউনলোড করা না যায়। ভাবটাই এমন যে আমি তো দিচ্ছিই, তুমি নিতে না পারলে আমার কি !!!

এরপর থেকে কোন কিছু কিনলে আগে রিভিউ দেখেই কিনতে হবে।

রিফাত জামিল ইউসুফজাই

জাতিতে বাঙ্গালী, তবে পূর্ব পূরুষরা নাকি এসেছিলো আফগানিস্তান থেকে - পাঠান ওসমান খানের নেতৃত্বে মোঘলদের বিরুদ্ধে লড়াই করতে। লড়াই এ ওসমান খান নিহত এবং তার বাহিনী পরাজিত ও পর্যূদস্ত হয়ে ছড়িয়ে পড়ে টাঙ্গাইলের ২২ গ্রামে। একসময় কালিহাতি উপজেলার চারাণ গ্রামে থিতু হয় তাদেরই কোন একজন। এখন আমি থাকি বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকায়। কোন এককালে শখ ছিলো শর্টওয়েভ রেডিও শোনা। প্রথম বিদেশ ভ্রমণে একমাত্র কাজ ছিলো একটি ডিজিটাল রেডিও কেনা। ১৯৯০ সালে ষ্টকহোমে কেনা সেই ফিলিপস ডি ২৯৩৫ রেডিও এখনও আছে। দিন-রাত রেডিও শুনে রিসেপশন রিপোর্ট পাঠানো আর QSL কার্ড সংগ্রহ করা - নেশার মতো ছিলো সেসময়। আস্তে আস্তে সেই শখ থিতু হয়ে আসে। জায়গা নেয় ছবি তোলা। এখনও শিখছি এবং তুলছি নানা রকম ছবি। কয়েক মাস ধরে শখ হয়েছে ক্র্যাফটিং এর। মূলত গয়না এবং নানা রকম কার্ড তৈরী, সাথে এক-আধটু স্ক্র্যাপবুকিং। সাথে মাঝে মধ্যে ব্লগ লেখা আর জাবর কাটা। এই নিয়েই চলছে জীবন বেশ।