নতুন বছর

আমি কখনই কোন পরিকল্পনা সে রকম ভাবে বাস্তবায়ন করতে পারি না। এই করবো, সেই করবো করে অনেক কিছুই বলি। কিন্তু শেষতক আর সেরকম ভাবে কিছু হয় না। বেশীরভাগ সময় মাঝ পথে গিয়ে আগ্রহ হারিয়ে ফেলি।

নতুন বছর শুরু হলো। মাথার মধ্যে অনেক কিছুই ঘুরতেছে। কিন্তু আমি তো জানি আমার অবস্থা। তাই এবারের পরিকল্পনা – যা মনে আসে তাই করবো। তারপরও ২/১টা বিষয় আছে যা করার চেষ্টা করবো মন লাগিয়ে।

বই পড়া : গতবছর মানে ২০২০ সালে করোনার কারণে মাস দুই লকডাউন ছিলো। এরপর যাতায়াত সহ অনেক কিছুই সীমিত রেখেছি নিজের  এবং পরিবারের কারণে। বলা যায় বাসায় বন্দী থাকা অবস্থায় যে কাজটি সবচেয়ে ভাল মতো করার ছিলো সেটি হলো বই পড়া। তবে সত্যি কথা হলো এই সময়ে তেমন কোন বই পড়ি নাই। বিভিন্ন অনলাইন শপ থেকে বই কিনেছিলাম বেশ কিছু, করোনা শুরু হওয়ার আগেই। সেগুলো এখন পর্যন্ত অপঠিতই আছে। ৩ মাস আগে বিশ্ব মাহিত্য কেন্দ্র ভ্রামমান লাইব্রেরী থেকে বই এনেছিলাম ৩টা। ২টা বই কিছু কিছু করে পড়ে রেখে দিয়েছি। ৩য় বইটি পড়া শুরু করেছি মাত্র। তবে গতি খূবই ধীর। তবে এবছর কেনা বই গুলো সব পড়ে শেষ করবো। তার আগে যত অফারই পাই না কেন, নতুন কোন বই কিনবো না। অবশ্য বই রাখার স্থানাভাব ও আরেকটি কারণ।

ছায়াছবি : হলে গিয়ে সাধারণত সিনেমা দেখা হয় না খূব একটা। যা দেখি ডেস্কটপ পিসি’তে। আপাতত সে ধারাই অব্যাহত রাখবো। সেই সাথে একটি ষ্ট্রিমিং সাইট সাবস্ক্রিপশন নেয়ার চিন্তা আছে। সেটারও সদ্ব্যবহার করতে হবে।

ফটোগ্রাফি / ভিডিওগ্রাফি : আপাতত তেমন কোন বড় পরিকল্পনা নেই। গতবছর অঘোষিত ৩৬৫ প্রজেক্ট করতে গিয়ে যথেষ্ঠ শিক্ষা হয়েছে। তাই আপাতত বড় কিছু না। গতবছর যে ছবিগুলো ভাল হয়েছিলো, সেগুলোই আবার নতুন ভাবে আরেকটু ভাল করে তোলার চেষ্টা করবো। আর ভিডিওগ্রাফি নিয়ে টুকটাক কাজ চলছে। হাত পাকা হলেই হয়তো আরেকটু সিরিয়াসলি ভাববো।

অনলাইন কোর্স : গত বছর ফটোশপ / ফটোগ্রাফির উপর অনলাইন কোর্স করা শুরু করেছিলাম। এবছরও সেটা অব্যাহত থাকবে। তবে এবছর ফটোশপের উপর জোর দিবো। বিশেষ করে হাতে কলমে কাজ করার চেষ্টা করবো বেশী বেশী।

ব্লগ : এখন পর্যন্ত চেষ্টা করছি প্রতি সপ্তাহে ৩টি করে ব্লগ পোষ্ট দেয়ার। ৩৬৫ প্রজেক্টের মতো এটাতেও প্যারা আছে। নিজের ফটোগ্রাফি সাইট ডেভেলপ করতে হবে। ভাল-মন্দ যা আছে তাই দিয়ে আপাতত সাজানোর ইচ্ছে।

আপাতত এই হলো আমার ২০২১ সালের পরিকল্পনা।

ভাল থাকুন, সুসস্থ্য থাকুন।

রিফাত জামিল ইউসুফজাই

জাতিতে বাঙ্গালী, তবে পূর্ব পূরুষরা নাকি এসেছিলো আফগানিস্তান থেকে - পাঠান ওসমান খানের নেতৃত্বে মোঘলদের বিরুদ্ধে লড়াই করতে। লড়াই এ ওসমান খান নিহত এবং তার বাহিনী পরাজিত ও পর্যূদস্ত হয়ে ছড়িয়ে পড়ে টাঙ্গাইলের ২২ গ্রামে। একসময় কালিহাতি উপজেলার চারাণ গ্রামে থিতু হয় তাদেরই কোন একজন। এখন আমি থাকি বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকায়। কোন এককালে শখ ছিলো শর্টওয়েভ রেডিও শোনা। প্রথম বিদেশ ভ্রমণে একমাত্র কাজ ছিলো একটি ডিজিটাল রেডিও কেনা। ১৯৯০ সালে ষ্টকহোমে কেনা সেই ফিলিপস ডি ২৯৩৫ রেডিও এখনও আছে। দিন-রাত রেডিও শুনে রিসেপশন রিপোর্ট পাঠানো আর QSL কার্ড সংগ্রহ করা - নেশার মতো ছিলো সেসময়। আস্তে আস্তে সেই শখ থিতু হয়ে আসে। জায়গা নেয় ছবি তোলা। এখনও শিখছি এবং তুলছি নানা রকম ছবি। কয়েক মাস ধরে শখ হয়েছে ক্র্যাফটিং এর। মূলত গয়না এবং নানা রকম কার্ড তৈরী, সাথে এক-আধটু স্ক্র্যাপবুকিং। সাথে মাঝে মধ্যে ব্লগ লেখা আর জাবর কাটা। এই নিয়েই চলছে জীবন বেশ।