নির্বাচন এবং ইভিএম

আজ ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচন হয়ে গেলো। এবারই প্রথম পুরো নির্বাচন হলো ইভিএম দিয়ে। যদিও এই ইভিএম ঘিরে প্রচুর বিতর্ক আছে, তারপরও মনে হলো এটি আমাদের জন্য ভাল একটি পদ্ধতি।

আমার কাছে মনে হয়েছে ইভিএম এ ভোট দেয়া বেশ সহজই। তবে কারো কারো কাছে মনে হয় ভীতিকর। আমার আগের জন কেন যেন তালগোল পাকিয়ে ফেলছিলেন। যেখানে ৩টি ভোট দিতে বড়জোর আধ মিনিট সময় লাগার কথা সেখানে তিনি প্রায় ৭/৮ মিনিট সময় লাগিয়ে ফেললেন। ভোট কর্মকর্তা মুখে বলে বলে তাকে যতটুকু সম্ভব সাহায্য করার চেষ্টা করছিলেন। শেষ পর্যন্ত অবশ্য তিনি সফল ভাবে ভোট দিতে পেরেছিলেন।

আনার ভোটকেন্দ্রে ভীড় একেবারেই ছিলো না। কেন্দ্রে ঢোকার পর ভোটকক্ষের সামনে ৩/৪ জন করে ভোটার অপেক্ষমান। একজন করে ভোটার যাচ্ছেন আর ভোট দিয়ে বের হয়ে আসছেন। শুরুতে জাতীয় পরিচয়পত্রের নাম্বার দিলে একটি মেশিনে ভোটারের পরিচিতি দেখা যাবে। এরপর আঙ্গুলের ছাপ দিলে পরিচয় নিশ্চিত হবে। এরপর ভোট দেয়ার পালা। কাপড় দিয়ে ঘেরা অংশে মেয়র, কাউন্সিলর আর মহিলা সদস্য নির্বাচনের জন্য আলাদা ৩টি মেশিন। প্রতিটি মেশিনে প্রাথীদের নাম ও প্রতীক দৃশ্যমান। পাশে সাদা বোতাম। পছন্দের প্রার্থীর পাশের সাদা বোতামে চাপ দিলে স্ক্রিনে তার প্রতীক বড় করে দেখাবে৷ তখন সবুজ বোতামে চাপ দিলে ভোট দেয়া হয়েছে বলে মেশিনে রেকর্ডেড মেসেজ বাজবে। ৩টি ভোট দেয়া হলে সফল ভাবে ভোট দেয়া হয়েছে বলে জানাবে।

তবে যে কাপড় দিয়ে ঘেরা ছিলো, সেটি এতোটাই পাতলা যে আমি আগের জন কোন মহিলা প্রার্থীকে ভোট দিয়েছিলেন সেটা দেখতে পারছিলাম লাইনে দাড়িয়ে। বাকি দুটো মেশিন দেখা যাচ্ছিলো না সেই অংশে নিয়ম কানুন সম্বলিত পোষ্টার ঝুলানোর জন্য।

আমার কাছে মনে হয়েছে ইভিএম এ ভোট নিলে জালিয়াতি করার সম্ভাবনা কম। কাগজের ব্যালটে ভোট নিলে ব্যাপক কারচুপি সম্ভব। কেন্দ্র দখলে নিয়ে হাজার হাজার জাল ভোট দেয়া সম্ভব। কিন্তু ইভিএম এ ফিঙ্গার প্রিন্ট না মিললে প্রিসাইডিং অফিসার তার ফিঙ্গার প্রিন্ট দিয়ে ভোটার’কে ভোট দেয়ার সূযোগ দিতে পারেন। তবে তার এই ক্ষমতা সীমিত। ১% ভোটারের ক্ষেত্রে তিনি এটি করতে পারেন। এরপর আরো ১% ভোটারের ক্ষেত্রে এই নিয়ম প্রয়োগ করতে পারেন নির্বাচন কমিশন। তার মানে হলো কেন্দ্র দখল করে প্রিসাইডিং অফিসার’কে জিম্মি করলেও ২% এর বেশী ভোট আদায় করা সম্ভব হবে না।

অনেকে বলছেন ইভিএম এর সফটওয়্যার এ জালিয়াতি সম্ভব। সেটি হয়তো সম্ভব, কিন্তু কয়টি মেশিনে বা কয়জনে মিলে সেটি করবে ? পুরো নির্বাচন কমিশন জালিয়াতি না করলে এই পদ্ধতিতে ভোট ডাকাতি সম্ভব না।

কিছু কিছু সমস্যা হয়তো আছে বা হবে। তবে আমি মনে করি ধীরে ধীরে সে সব সমস্যা মোকাবেলা করে কিভাবে ফুল প্রুফ একটি সিষ্টেম দাঁড় করানো যায় সে লক্ষ্যেই কাজ করা উচিত।

আরো একটি কাজ করা দরকার। আগে নির্বাচনের সময় দেয়াল লিখন এবং দেয়ালে পোষ্টার সাঁটানো ছিলো নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপার। আবার নির্বাচনের পর সে সব পরিস্কার করা এবং দেয়াল রং করার দায়িত্ব পরতো ভবন মালিকের উপরই। এখন নিয়ম করে এ কর্মকান্ড বন্ধ করা গেছে। এবার অবশ্য লেমিনেটেড পোষ্টারে ছেয়ে গেছে পুরো শহর। পত্রিকার খবর অনুযায়ী ২৫০০০ টন প্লাষ্টিক বর্জ্য তৈরী হয়েছে এই ক’দিনে। আর ছিলো মারাত্মক রকমের শব্দ দূষণ। যদি নিয়ম করে এই পোষ্টার এবং মাইকিং বন্ধ করা যায় তো সবার জন্যই মঙ্গল। তার বদলে প্রার্থীরা যদি লিফলেট / নির্বাচনী ইশতেহার ছাপিয়ে বাড়ী বাড়ী বিলি করতেন সেটি অনেক বেশী সুন্দর হতো। সেই সাথে টিভি রেডিও’তে নির্বাচনী প্রচার মূলক বিজ্ঞাপন প্রচার করতে পারেন।

আশায় আছি কোন একদিন হয়তো এদেশে সর্বাঙ্গ সুন্দর নির্বাচন হবে। নির্বাচন নিয়ে কোন বিতর্ক হবে না, শহর ছেয়ে যাবে না পোষ্টারে কিংবা শব্দ দূষণে। যার ভোট সেই দিবে নিজের পছন্দ মতো।

ভাল থাকবেন।

রিফাত জামিল ইউসুফজাই

জাতিতে বাঙ্গালী, তবে পূর্ব পূরুষরা নাকি এসেছিলো আফগানিস্তান থেকে - পাঠান ওসমান খানের নেতৃত্বে মোঘলদের বিরুদ্ধে লড়াই করতে। লড়াই এ ওসমান খান নিহত এবং তার বাহিনী পরাজিত ও পর্যূদস্ত হয়ে ছড়িয়ে পড়ে টাঙ্গাইলের ২২ গ্রামে। একসময় কালিহাতি উপজেলার চারাণ গ্রামে থিতু হয় তাদেরই কোন একজন। এখন আমি থাকি বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকায়। কোন এককালে শখ ছিলো শর্টওয়েভ রেডিও শোনা। প্রথম বিদেশ ভ্রমণে একমাত্র কাজ ছিলো একটি ডিজিটাল রেডিও কেনা। ১৯৯০ সালে ষ্টকহোমে কেনা সেই ফিলিপস ডি ২৯৩৫ রেডিও এখনও আছে। দিন-রাত রেডিও শুনে রিসেপশন রিপোর্ট পাঠানো আর QSL কার্ড সংগ্রহ করা - নেশার মতো ছিলো সেসময়। আস্তে আস্তে সেই শখ থিতু হয়ে আসে। জায়গা নেয় ছবি তোলা। এখনও শিখছি এবং তুলছি নানা রকম ছবি। কয়েক মাস ধরে শখ হয়েছে ক্র্যাফটিং এর। মূলত গয়না এবং নানা রকম কার্ড তৈরী, সাথে এক-আধটু স্ক্র্যাপবুকিং। সাথে মাঝে মধ্যে ব্লগ লেখা আর জাবর কাটা। এই নিয়েই চলছে জীবন বেশ।