পরীক্ষামূলক ভিডিও

বেশ কিছুদিন থেকেই চেষ্টা করছিলাম ভিডিও তৈরী করে নিজের ফেসবুক পেজ এবং / অথবা ইউটিউব চ্যানেলে আপলোড করবো। মাঝে কিছু ভিডিও ইউটিউব চ্যানেলে আপলোড করেছিলাম। পরে অবশ্য সেগুলো মুছে দিয়েছি।

ভিডিও তৈরীর প্রধানতম সমস্যা ছিলো কারিগরী। পয়েন্ট এন্ড শুট ক্যামেরা, মোবাইল, ওয়েব ক্যাম এবং ডিএসএলআর ক্যামেরা থাকার পরও শুধূ আলো এবং শব্দ ধারণের জটিলতায় ভিডিও খূব বেশী ভাল হচ্ছিলো না। এর মধ্যে আলো নিয়ে নিত্য নতুন পরীক্ষা আর শব্দ ধারণের জন্য বেশ কিছু মাইক্রোফোন এবং অডিও ইন্টারফেস আনার পর ভিডিও’র বেশ কিছু উন্নতি হয়।

এরপরের সমস্যা অবশ্য কিছুটা ভিন্ন মাত্রার। নিজের থাকার ঘরেই ভিডিও ধারণ করতে হয়। এখানে ভিডিও করতে গেলে দেখা যায় পিছনে ব্যাকগ্রাইন্ডে নানারকম জিনিস শোভা পাচ্ছে। যা দেখতে খূব একটা সূখকর না। আবার গ্রীণ স্ক্রীন এবং লাইটিং এর জিনিসপত্র সেটআপ করার পর দেখা যায় ক্যামেরা থেকে সাবজেক্টের দূরত্ব অতিমাত্রায় কম হয়ে যাচ্ছে।

এতো সব সমস্যার অনেকখানি সমাধানের পর দেখা গেলো বিরাট এক সমস্যা। আমি নিজে ক্যামেরা / মাইক্রোফোনের সামনে একেবারেই কথা বলতে পারছি না। মানে কথা বলায় কোন ফ্লুয়েন্সি নাই। কথা জড়িয়ে যাচ্ছে। কোন বিশেষ শব্দ হঠাৎ করে ভুলে গিয়ে রীতিমতো খাবি খেতে হচ্ছে। এ থেকে পরিত্রাণের জন্য ক্যামেরার সামনে অথবা ক্যামেরা ছাড়াই বই থেকে পাঠ করা শুরু করলাম। অনেক উন্নতি হলো, তারপরও উচ্চারণগত কিছু সমস্যা থেকেই যাচ্ছে। যেমন চ কে ছ বা জ কে ঝ উচ্চারণ। তারপর আছে ইংরেজী বাংলার মিশ্রণ। কোন কিছু লিখতে গেলে অনেক কিছুই পরে পরিবর্তন করা যায়। ভিডিও ধারণ করতে গেলে সে সূযোগ কম। এক হতে পারে বার বার একই জিনিস রেকর্ড করা, সে আরেক যন্ত্রণা।

শেষ পর্যন্ত ঠিক করলাম ভাল হোক, মন্দ হোক ভিডিও তৈরী করা শুরু করবো এবং আপলোড করবো। ভুল-ত্রুটি থাকবেই, পরবর্তী ভিডিও তৈরীর সময় সেদিকে নজর দিবো। আর আপনারা তো থাকছেনই ভাল-মন্দ সমালোচনা করার জন্য। সেই সাথে ভুল-ত্রুটি গুলো চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দেয়ার জন্য।

তাহলে শুরু হোক যাত্রা। ভাল থাকবেন।

রিফাত জামিল ইউসুফজাই

জাতিতে বাঙ্গালী, তবে পূর্ব পূরুষরা নাকি এসেছিলো আফগানিস্তান থেকে - পাঠান ওসমান খানের নেতৃত্বে মোঘলদের বিরুদ্ধে লড়াই করতে। লড়াই এ ওসমান খান নিহত এবং তার বাহিনী পরাজিত ও পর্যূদস্ত হয়ে ছড়িয়ে পড়ে টাঙ্গাইলের ২২ গ্রামে। একসময় কালিহাতি উপজেলার চারাণ গ্রামে থিতু হয় তাদেরই কোন একজন। এখন আমি থাকি বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকায়। কোন এককালে শখ ছিলো শর্টওয়েভ রেডিও শোনা। প্রথম বিদেশ ভ্রমণে একমাত্র কাজ ছিলো একটি ডিজিটাল রেডিও কেনা। ১৯৯০ সালে ষ্টকহোমে কেনা সেই ফিলিপস ডি ২৯৩৫ রেডিও এখনও আছে। দিন-রাত রেডিও শুনে রিসেপশন রিপোর্ট পাঠানো আর QSL কার্ড সংগ্রহ করা - নেশার মতো ছিলো সেসময়। আস্তে আস্তে সেই শখ থিতু হয়ে আসে। জায়গা নেয় ছবি তোলা। এখনও শিখছি এবং তুলছি নানা রকম ছবি। কয়েক মাস ধরে শখ হয়েছে ক্র্যাফটিং এর। মূলত গয়না এবং নানা রকম কার্ড তৈরী, সাথে এক-আধটু স্ক্র্যাপবুকিং। সাথে মাঝে মধ্যে ব্লগ লেখা আর জাবর কাটা। এই নিয়েই চলছে জীবন বেশ।