পাই ৩ : রিমোট এক্সেস

১. অপারেটিং সিষ্টেম তো ইন্সষ্টল হলো। এবার কি করবো। আমার তো সবেধন নীলমণি মনিটর একটা। বার বার এইচডিএমআই ক্যাবল থোলা আর লাগানো যথেষ্ঠই বিরক্তিকর। কি করা যায়। এরজন্য রিমোট এক্সেস হচ্ছে সর্বোত্তম পদ্ধতি। অনেকেই হয়তো উইন্ডোজে রিমোট এক্সেস ব্যবহার করেছেন, কিংবা টিম ভিউয়ার। একই ইন্টারনেট কানেকশন (wifi) হলে এভাবেই আপনি আপনার উইন্ডোজ পিসি থেকে রাস্পবেরি পাই এক্সেস করতে পারবেন।

২. আপাতত রাস্পবেরি পাই এর সাথে মনিটর লাগিয়ে বুট করুন। এরপর টার্মিনাল উইন্ডো খুলে টাইপ করুন – hostname -I, এরপর এন্টার চাপুন। পরের লাইনে রাস্পবেরি পাই এর লোকাল আইপি এড্রেস দেখতে পারবেন। আমার ক্ষেত্রে এড্রেসটি ছিলো এমন 192.168.123.45, লিখে রাখুন আপনার রাস্পবেরি পাই এর এড্রেসটি।

৩. এবার টার্মিনাল উইন্ডোতে লিখুন – sudo apt-get install xrdp, রাস্পবেরি পাই সিষ্টেমে xrdp প্যাকেজটি ইন্সষ্টল হবে।

৪. রাস্পবেরি পাই চালু রেখে এইচডিএমআই ক্যাবল খুলে আপনার পিসি’তে লাগান এবং বুট করুন। বুট সম্পন্ন হলে Remote Desktop Connection খূজে বের করে ক্লিক করুন। সহজ পদ্ধতি হলো টাস্কবারে যে সার্চ অপশন আছে সেখানে Remote Desktop Connection লিখে সার্চ করলেই পেযে যাবেন। চালু হওয়ার পর কম্পিউটার লেখা অংশে আপনার রাস্পবেরী পাই এর লোকাল আইপি এড্রেসটি লিখে Connect বাটনে ক্লিক করুন। নতুন আরেকটি বড় উইন্ডো ওপেন হবে, মাঝে থাকবে আরেকটি ছোট উইন্ডো। সেখানে Session অংশে Xorg থাকবে, পরিবর্তন করার দরকার নেই। ইউজার নেম / পাসওয়ার্ড অংশে আপনার রাস্পবেরি পাই এর ইউজারনেম এবং পাসওয়ার্ড দিয়ে দিন। প্রায় সাথে সাথেই আপনার ইউইন্ডোজ পিসি’র মনিটরে রাস্পবেরি পাই এর ডেস্কটপ দেখতে পারবেন।

৫. এখন এখান থেকেই আপনি আপনার রাস্পবেরি পাই নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন। তবে সমস্যা হলো এটি ব্যাপক স্লো। ইউটিউবে ভিডিও দেখতে গেলে মনে হবে ফ্রেম বাই ফ্রেম আসতেছে। আরো একটা সমস্যায় পড়েছি, কোন সাউন্ড পাচ্ছি না।

৬. পাই ডেস্কটপ ব্যবহার না করে যদি টার্মিনাল ব্যবহার করা হয় তবে ভালমতোই কাজ করা যায়। তবে টার্মিনাল এ সব কাজ করতে চাইলে ব্যাপক অভিজ্ঞ হতে হবে। বেসিক কাজগুলি যেমন আপডেট করা, প্রোগ্রাম ইন্সষ্টল বা রিমুভ করা এগুলো সহজেই করতে পারবেন। এসম্পর্কে পরের পোষ্টে লিখবো।

ভাল থাকুন।

রিফাত জামিল ইউসুফজাই

জাতিতে বাঙ্গালী, তবে পূর্ব পূরুষরা নাকি এসেছিলো আফগানিস্তান থেকে - পাঠান ওসমান খানের নেতৃত্বে মোঘলদের বিরুদ্ধে লড়াই করতে। লড়াই এ ওসমান খান নিহত এবং তার বাহিনী পরাজিত ও পর্যূদস্ত হয়ে ছড়িয়ে পড়ে টাঙ্গাইলের ২২ গ্রামে। একসময় কালিহাতি উপজেলার চারাণ গ্রামে থিতু হয় তাদেরই কোন একজন। এখন আমি থাকি বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকায়। কোন এককালে শখ ছিলো শর্টওয়েভ রেডিও শোনা। প্রথম বিদেশ ভ্রমণে একমাত্র কাজ ছিলো একটি ডিজিটাল রেডিও কেনা। ১৯৯০ সালে ষ্টকহোমে কেনা সেই ফিলিপস ডি ২৯৩৫ রেডিও এখনও আছে। দিন-রাত রেডিও শুনে রিসেপশন রিপোর্ট পাঠানো আর QSL কার্ড সংগ্রহ করা - নেশার মতো ছিলো সেসময়। আস্তে আস্তে সেই শখ থিতু হয়ে আসে। জায়গা নেয় ছবি তোলা। এখনও শিখছি এবং তুলছি নানা রকম ছবি। কয়েক মাস ধরে শখ হয়েছে ক্র্যাফটিং এর। মূলত গয়না এবং নানা রকম কার্ড তৈরী, সাথে এক-আধটু স্ক্র্যাপবুকিং। সাথে মাঝে মধ্যে ব্লগ লেখা আর জাবর কাটা। এই নিয়েই চলছে জীবন বেশ।