ফটোগ্রাফির বিষয় – ভাবনা

গত পোষ্টে লিখেছিলাম তারিন সাইমন নামের একজন আমেরিকান ফটোগ্রাফার (আমাদের) চিন্তার অতীত সব বিষয় নিয়ে ফটোগ্রাফি করে থাকেন। তিনি প্রফেশনাল ফটোগ্রাফার, হয়তো কো্ন এজেন্সির সাথে যুক্ত। কোন আইডিয়া মাথায় এলে সেটি বাস্তবায়ন করা তার পক্ষে হয়তো কঠিন কিছু না। কিন্তু আমাদের মতো উন্নয়নশীল দেশে শখের আলোকচিত্রী বৃন্দ কি করতে পারি !?! আমরা তো ইচ্ছে করলেই সরকারী / বেসরকারী কোন প্রতিষ্ঠানে গিয়ে ছবি তুলতে পারি না, পারি না কোন নিয়ন্ত্রিত জায়গায় গিয়ে ছবি তুলতে। আবার বছরের পর বছর ধরে কোন বিষয়ের পিছনে ঘরের খেয়ে বনের মোষ তাড়ানোর মতো সময়-অর্থ কোনটাই হয়তো নেই। আমাদের কি হবে !?!

সেদিন ফেসবুকে একজন ষ্ট্যাটাস দিলেন ‘ছবি তোলার বিষয়বস্তুর অভাবে ভুগছি’, কিছুক্ষণ চিন্তা করলাম এ নিয়ে। তারিন সাইমনের নামটিও সাথে সাথেই মনে হলো। আমি ষ্ট্যাটাসদাতাকে পরামর্শ দিলাম ফটোগ্রাফি সাইটগুলোতে ব্যাপক সময় দেয়ার জন্য। যতক্ষণ পারে, যতগুলি পারে ছবি যেন দেখে। ছবি দেখতে দেখতেই হয়তো কোন আইডিয়া মাথায় চলে আসতে পারে। সাথে আরো বললাম টিপিক্যাল বা পূর্বনিধারিত ধ্যান ধারণা যেন মাথা থেকে বের করে দেয়। পূর্বনির্ধারিত বা টিপিক্যাল ধ্যান ধারণা বলতে চমৎকার ল্যান্ডস্কেপ, সুন্দরী রমনী বা রাস্তায় শুয়ে থাকা অসহায় মানুষ – এসবই বুঝিয়েছিলাম।

ক্যামেরা

আমি নিজে বেশ কিছুদিন আগে এই ছবিটি তুলেছিলাম। ছবিটি তোলা হয়েছিলো লজিটেক সি৯২০ ওয়েব ক্যামেরা দিয়ে। আর আইডিয়া পেয়েছিলাম পিন্টারেষ্ট নামের সাইট থেকে। Pinterest সাইটে অসাধারণ সব ছবি দেখা যায়, আপনাকে কেবল সার্চ করতে হবে আপনি কি ধরণের ছবি খূঁজতেছেন তা দিয়ে। পিন্টারেষ্ট থেকে চলে গিয়েছিলাম ফ্লিকারে, টপডাউন ভিউ দিয়ে সার্চ করতেই আরো অনেক ছবি পেয়েছিলাম। সবশেষে গেলাম ইউটিউবে, এখানেও অজস্র ভিডিও আছে, কি ভাবে কি করতে হয় টাইপের। আর এই হলো ফলাফল। ছবি দেখা থেকে শুরু করে ছবি তোলা পর্যন্ত হয়তো ঘন্টা দূয়েক সময় ব্যয় করেছি। এধরণের ছবি এই একটাই তুলেছি। খূবই সাধারণ একটি ছবি হয়েছে। হয়তো ভবিষ্যতে কোন একদিন রীতিমতো আয়োজন করে ডিএসএলআর ক্যামেরা দিয়ে আরো কিছু ছবি তুলবো।

আমি মাঝে মধ্যে গুগলে সার্চ করি how to shoot a leaf / vegetable অথবা এরকম কোন বস্তু বা ভিন্ন কিছু দিয়ে। গুগল কখনই নিরাশ করে না। কিছু না কিছু এনে হাজির করে সামনে। ওয়েব লিংক এর পাশাপাশি সার্চ রেজাল্ট পেজের ইমেজ এবং ভিডিও সেকশন গুলো্ও দেখি। ভাল কোন ছবি চোখে পড়লে অনেক সময়ই সেভ করে রাখি পিসি বা মোবাইলে। এসব সেভ করা ছবি দেখে অনেক আইডিয়া আসে, অনেক সময় চিন্তা করি এরকম ছবি তুলতে হলে আমাকে কি করতে হতো। দেখার চোখ থাকলে অনেক কিছুর ছবিই আপনার তুলতে ইচ্ছে হবে। হয়তো অনেক সময় যেভাবে দেখছেন সেভাবে ক্যামেরায় তুলে আনা যাবে না। কিন্তু চেষ্টা করতে দোষ কি। এই চেষ্টা করতে করতেই হয়তো একসময় সঠিক এঙ্গেল আর আলোর সমন্বয়ে তুলে ফেলতে পারবেন চমৎকার একটি ছবি।

হ্যাপি ক্লিকিং …

রিফাত জামিল ইউসুফজাই

জাতিতে বাঙ্গালী, তবে পূর্ব পূরুষরা নাকি এসেছিলো আফগানিস্তান থেকে - পাঠান ওসমান খানের নেতৃত্বে মোঘলদের বিরুদ্ধে লড়াই করতে। লড়াই এ ওসমান খান নিহত এবং তার বাহিনী পরাজিত ও পর্যূদস্ত হয়ে ছড়িয়ে পড়ে টাঙ্গাইলের ২২ গ্রামে। একসময় কালিহাতি উপজেলার চারাণ গ্রামে থিতু হয় তাদেরই কোন একজন। এখন আমি থাকি বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকায়। কোন এককালে শখ ছিলো শর্টওয়েভ রেডিও শোনা। প্রথম বিদেশ ভ্রমণে একমাত্র কাজ ছিলো একটি ডিজিটাল রেডিও কেনা। ১৯৯০ সালে ষ্টকহোমে কেনা সেই ফিলিপস ডি ২৯৩৫ রেডিও এখনও আছে। দিন-রাত রেডিও শুনে রিসেপশন রিপোর্ট পাঠানো আর QSL কার্ড সংগ্রহ করা - নেশার মতো ছিলো সেসময়। আস্তে আস্তে সেই শখ থিতু হয়ে আসে। জায়গা নেয় ছবি তোলা। এখনও শিখছি এবং তুলছি নানা রকম ছবি। কয়েক মাস ধরে শখ হয়েছে ক্র্যাফটিং এর। মূলত গয়না এবং নানা রকম কার্ড তৈরী, সাথে এক-আধটু স্ক্র্যাপবুকিং। সাথে মাঝে মধ্যে ব্লগ লেখা আর জাবর কাটা। এই নিয়েই চলছে জীবন বেশ।