ফটোগ্রাফি টিপস ৩

টিপস নাম্বার ১১
ডিএসএলআর ক্যামেরায় র (RAW) এবং জেপেগ (JPEG) দুই ফরম্যাট এ ফটো তোলা যায়। র ফরম্যাট এ ফটো তোলা হলে ফটোশপ (বা অন্য কোন ফটো এডিটিং সফটওয়্যার) এ অনেক কিছুই পরিবর্তন করা সম্ভব। জেপেগ এর ক্ষেত্রে এটা অনেক লিমিটেড। এখন প্রশ্ন হলো আপনি কোনটা ব্যবহার করবেন এবং কেন ব্যবহার করবেন। আপনি যদি ফটো নিয়ে কাজ করে আনন্দ পান এবং ফটো তোলার পর রিটাচিং করা বা ম্যানিপুলেট করতে চান তবে র ফরম্যাটে ছবি তুলুন। তবে র ফরম্যাটে ফাইল সাইজ বেশ বড় হয় এবং প্রিন্ট করা বা অনলাইনে শেয়ার করার জন্য একে পোষ্ট প্রসেস করতে হয়। অন্য দিকে জেপেগ ফরমেট আসলে ক্যামেরাতেই প্রসেস হয়ে সেভ হয় এবং এটা আপনি সাথে সাথেই প্রিন্ট করতে পারেন বা শেয়ার করতে পারেন। এই ফরম্যাটে ফাইল সাইজও অপেক্ষাকৃত ছোট হয়। ফলে আপনি দ্রুত ফটো তুলতে পারবেন এবং মেমরী কার্ডে র ফরম্যাটের তুলনায় অনেক বেশী ফটো ধারণ করা যাবে।

আপনার ফটো তোলা এবং কাজের ধরণ দেখে ঠিক করুন কোন ফরম্যাটে আপনি ফটো তুলবেন। আরেকটা কাজ করতে পারেন। বেশীর ভাগ ডিএসএলআর একই সাথে র এবং জেপেগ ফরম্যাটে ছবি সেভ করতে পারে। আপনার যদি দ্রুত ফটো তোলার প্রয়োজন না থাকে তবে আপনি এই অপশনটি বেছে নিতে পারেন। জেপেগ ফরম্যাট তাৎক্ষণিক ব্যবহারের জন্য আর র ফরম্যাট পরবর্তীতে রিটাচিং বা ম্যানিপুলেশনের জন্য।

টিপস নাম্বার ১২
যে কোন ফটো শুটে যাওয়ার আগে আপনার ক্যামেরা ব্যাগ চেক করে প্রয়োজনীয় জিনিসগুলি ব্যাগে নিয়েছেন কিনা দেখে নিন। কুইক রিলিজ ট্রাইপড ব্যবহার করলে এর বেস প্লেটটি ক্যামেরার সাথে লাগানো আছে কিনা দেখে নিন। প্রয়োজনীয় ফিল্টার, হোল্ডার, এডাপ্টার রিং ইত্যাদি চেক করে নিন। ক্যামেরা বা লেন্স পরিস্কারের জন্য ব্রাশ / ব্লোয়ার এবং নরম কাপড় সাথে রাখুন। এক্ষেত্রে পূরানো নরম গামছা (টাওয়েল না কিন্তু) কিংবা গেঞ্জি ভাল কাজ দেবে।

টিপস নাম্বার ১৩
ট্রাইপড কেনার সময় দেখে শুনে ভাল একটি কিনুন। পরে একটা ভাল কিনবো এরকম চিন্তা করে কম দামী কোনটা কিনবেন না। আপনার দামী ক্যামেরা আর লেন্সের ভার যে বহন করবে, সেটার জন্য একটু বেশী খরচ করলে আপনি ঠকবেন না। কেনার সময় ট্রাইপড থেকে খোলা যায় এম বলহেড এবং কুইক রিলিজ সহ ট্রাইপডকে প্রাধান্য দিন। মনে রাখবেন একটা ভাল মানের ট্রাইপড আপনার অনেক বছর ভাল সার্ভিস দিতে পারে।

টিপস নাম্বার ১৪
আপনার ক্যামেরা আর ফ্ল্যাশের ব্যাটারীগুলি চেক করে ফুল রিচার্জ করে নিন। সম্ভব হলে একসেট এক্সট্রা ব্যাটারী রিচার্জ করে নিন। চার্জারটি সাথে রাখুন যাতে প্রয়োজনের সময় কাজে লাগাতে পারেন। আর ব্যাটারী কখনই ফুল ডিসচার্জ হতে দিবেন না। কিছু চার্জ থাকা অবস্থাতেই আবার রিচার্জ করুন। এতে ব্যাটারী দীর্ঘস্থায়ী হবে। তাই বলে আবার অনেকখানি চার্জ থাকতেই আবার রিচার্জ করবেন না। এমন চার্জার ব্যবহার করুন যেগুলি ব্যাটারী ফুল চার্জ হয়ে গেলে অটো অফ হয়ে যায়।

টিপস নাম্বার ১৫
ট্রাইপডে ক্যামেরা বসিয়ে ফটো তুলবেন নাকি হাতে নিয়ে ? ট্রাইপড একটা ভারী জিনিস, বহন করতে যেমন কষ্ট আছে তেমনি সেট করতেও সময় লাগে। আবার অনেকের হ্যান্ড-হেল্ড ফটো ক্যামেরা শেকের কারণে ঝাপসা আসে। সুতরাং ট্রাইপডে এবং হাতে নিয়ে দুইভাবেই চেষ্টা করুন। তবে মনে রাখবেন এতে আপনার ছবি তোলার গতি অনেক কমে যাবে। ক্যামেরা হাতে নিয়ে ছবি তোলার সময় খেয়াল রাখবেন শাটার স্পিড যেন ১/৬০ সেকেন্ডের চাইতে স্লো না হয়। ক্যামেরা বা লেন্সের ইমেজ ষ্ট্যাবিলাইজার এই শাটার স্পিডে আপনার হাতের কাঁপুনি ব্যালান্স করতে সক্ষম। এর চাইতে স্লো হলে পারে না। যাদের হাত বেশী কাঁপে তাদের জন্য মনোপড ব্যবহার করা উত্তম।

টিপস নাম্বার ১৬
হাত যদি নিতান্তই কাঁপে, তবে ছবি তোলার সময় ওয়াল বা টেবিলে হাত রেখে বা পিছনে গাছ বা ওয়ালের সাথে হেলান দিয়ে ফটো তুলুন।

টিপস নাম্বার ১৭
ফটো তোলার সময় খেয়াল রাখুন আপনার ছবি দিগন্ত রেখার সাথে সমান্তরাল হচ্ছে কিনা। অনেক ক্যামেরায় ডিজিটাল লেভেল থাকে, সেটা ব্যবহার করতে পারেন। ক্যামেরার জন্য হট সু মাউন্টেড স্পিরিট বাবল আছে, তবে সেগুলো ঢাকায় পাওয়া যায় কিনা জানি না।

Featured Photo : Moon Cactus
নাইকন ডি৩০০০ এ তোলা। ৫৫-২০০মিমি লেন্স রিভার্স করে তোলা হয়েছে। এখানে পাবেন ছবিটি।

রিফাত জামিল ইউসুফজাই

জাতিতে বাঙ্গালী, তবে পূর্ব পূরুষরা নাকি এসেছিলো আফগানিস্তান থেকে - পাঠান ওসমান খানের নেতৃত্বে মোঘলদের বিরুদ্ধে লড়াই করতে। লড়াই এ ওসমান খান নিহত এবং তার বাহিনী পরাজিত ও পর্যূদস্ত হয়ে ছড়িয়ে পড়ে টাঙ্গাইলের ২২ গ্রামে। একসময় কালিহাতি উপজেলার চারাণ গ্রামে থিতু হয় তাদেরই কোন একজন। এখন আমি থাকি বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকায়। কোন এককালে শখ ছিলো শর্টওয়েভ রেডিও শোনা। প্রথম বিদেশ ভ্রমণে একমাত্র কাজ ছিলো একটি ডিজিটাল রেডিও কেনা। ১৯৯০ সালে ষ্টকহোমে কেনা সেই ফিলিপস ডি ২৯৩৫ রেডিও এখনও আছে। দিন-রাত রেডিও শুনে রিসেপশন রিপোর্ট পাঠানো আর QSL কার্ড সংগ্রহ করা - নেশার মতো ছিলো সেসময়। আস্তে আস্তে সেই শখ থিতু হয়ে আসে। জায়গা নেয় ছবি তোলা। এখনও শিখছি এবং তুলছি নানা রকম ছবি। কয়েক মাস ধরে শখ হয়েছে ক্র্যাফটিং এর। মূলত গয়না এবং নানা রকম কার্ড তৈরী, সাথে এক-আধটু স্ক্র্যাপবুকিং। সাথে মাঝে মধ্যে ব্লগ লেখা আর জাবর কাটা। এই নিয়েই চলছে জীবন বেশ।