ফটোগ্রাফি প্রজেক্ট

সেদিন কোন এক গ্রুপে একটা পোষ্ট দেখে ভাবের উদয় হলো। প্রসঙ্গ ছিলো অন্যের তোলা ছবি দেখে একই ধরণের ছবি তোলা নিয়ে। মনে পরলো প্রথম যখন ডিএসএলআর ক্যামেরা হাতে নিলাম তখন বিখ্যাত সব ফটোগ্রাফারের নানা ধরণের ছবি দেখতাম আর কোন কোন ছবি দেখে সেরকম ছবি তোলার চেষ্টা করতাম। আমার কাছে সেটি কখনই কপি করা মনে হয়নি। আমি আমার নিজের সামর্থ্য বুঝতে চাইছিলাম। বুঝতে চাইছিলাম ঘাটতি কি আছে। সেই সাথে ঘাটতি পুষিয়ে কিভাবে সামনে আগানো যায়। আমার মতে এসব ছবি কপি করে নিজের জ্ঞান অনেক ভাবেই বাড়ানো সম্ভব।

কয়েক বছর আগে ফটোগ্রাফি প্রজেক্ট নিয়ে বেশ মাতামাতি শুরু করেছিলাম। ৩৬৫ প্রজেক্ট, ৫২ প্রজেক্ট সহ আরো নানা কিছু। আরো কয়েকজন সাথে ছিলো। ফেসবুকে একটা গ্রুপও খোলা হয়েছিলো। তারপর যা হয় আর কি। কোনটাই আর শেষ হয় নাই। এবছরের শুরুতে ৩৬৫ প্রজেক্ট শুরু করেছিলাম। এখনও চলছে যদিও, তারপরও ফাঁকিবাজির শেষ নাই। অনেক সময় সারাদিন শেষে মনে হয় ওহ আজ তো ছবি তুলি নাই। তখন মোবাইলে হলেও যেনতেন একটা ছবি তুলে আপলোড করি ফ্লিকারে।  এভাবেই চলছে এবং চলবে শেষ পর্যন্ত।

সেদিন হঠাৎ করে মাথা্য় এলো নতুন বছরে কি করবো। ৫২ প্রজেক্ট না অন্য কিছু। এবছরে তোলা কিছু কিছু ছবি আবার নতুন করে তোলার ইচ্ছে আছে। ইচ্ছে আছে বিষয় ভিত্তিক ছবি তোলার।

কিন্তু কি সেই বিষয় ?

একবার মনে হলো ঢাকা শহরের যানবাহন, যানজট নিয়ে ছবি তুলি। আবার মনে হলো ঢাকা শহরের বিভিন্ন জায়গার ছবি তুলে রাখি। ভবিষ্যতে আবার কোন একদিন একই জায়গার ছবি তুলে আনবো পরিবর্তন বুঝার জন্য। তবে করোনা পরিস্থিতি বিবেচনায় আপাতত কোনটাই করার সাহস পাচ্ছি না।

ঠিক এসময়েই মনে পড়লো জ্যারেড পলিনের কথা। আপাত পাগলাটে ধরণের এই ফটোগ্রাফারের কিছু কাজ দেখেছিলাম বেশ কিছুদিন আগে। সে তার মাকে নিয়ে বেশ কিছু ছবি তুলেছিলো প্রায় ৮ মাস ধরে। তার মায়ের ক্যান্সার হয়েছিলো এবং শেষ পর্যন্ত তিনি মারা যান। এই ৮ মাসে সে অসংখ্য ছবি তুলেছে। এই সময় থেকে চুল বড় রাখা শুরু করে। কেমোথেরাপি দেয়ার পর তার মায়ের সব চুল পরে গিয়েছিলো। তখন জ্যারেড অনেকটা মজা করে বলতো যে তার চুল বড় হলে সে সেই চুল দিয়ে মায়ের জন্য একটা উইগ তৈরী করে দিবে। তারপর ….

মায়ের মৃত্যুর বছর দূয়েক পর জ্যারেড একটা ভিডিও প্রকাশ করে। মায়ের কবরের সামনে বসে সে্ এইসব কথাই বলছিলো। তার মায়ের শেষ ৮ মাসের ছবিগুলো আবার দেখার জন্য সার্চ দিতেই এই ভিডিওটা চলে আসলো। পুরোটা দেখার পর মনে হলো আমি তো আমার বাবা-মায়ের ছবি তুলে রাখতে পারি। আম্মা সেই ১৯৮৩ সাল থেকে প্যারালাইজড। তার বয়স এখন ৮০ বছরের মতো। আব্বা সে তুলনায় ভাল ছিলেন, কিন্তু গত নভেম্বর থেকে তিনিও শয্যাশায়ী। তার বয়স এখন ৯০ বছর। দূ’জনের তেমন কোন ছবিও তোলা হয়নি। আগের কিছু ছবি আছে। এখন অবশ্য বয়সের ভাবে কাবু, অসুস্থ্য ছবি তুলতে কেমন লাগবে জানি না, তবে জ্যারেড পলিনের ভিডিও দেখে আমি খূবই আপ্লুত। যে কয়দিন পারি তাদের ছবি তুলে যাব ভাবছি।

আপনারাও চেষ্টা করতে পারেন। ফটো প্রজেক্ট হিসাবে না করলেও, প্রতিদিন না হোক কিছু কিছু এখন থেকেই তুলে রাখতে পারেন। হয়তো কোন একদিন ছবি দেখেই স্মৃতি রোমন্থন করতে হবে।

জ্যারেড পলিনের সেই ফটো সিরিজ পাবেন এখানে

রিফাত জামিল ইউসুফজাই

জাতিতে বাঙ্গালী, তবে পূর্ব পূরুষরা নাকি এসেছিলো আফগানিস্তান থেকে - পাঠান ওসমান খানের নেতৃত্বে মোঘলদের বিরুদ্ধে লড়াই করতে। লড়াই এ ওসমান খান নিহত এবং তার বাহিনী পরাজিত ও পর্যূদস্ত হয়ে ছড়িয়ে পড়ে টাঙ্গাইলের ২২ গ্রামে। একসময় কালিহাতি উপজেলার চারাণ গ্রামে থিতু হয় তাদেরই কোন একজন। এখন আমি থাকি বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকায়। কোন এককালে শখ ছিলো শর্টওয়েভ রেডিও শোনা। প্রথম বিদেশ ভ্রমণে একমাত্র কাজ ছিলো একটি ডিজিটাল রেডিও কেনা। ১৯৯০ সালে ষ্টকহোমে কেনা সেই ফিলিপস ডি ২৯৩৫ রেডিও এখনও আছে। দিন-রাত রেডিও শুনে রিসেপশন রিপোর্ট পাঠানো আর QSL কার্ড সংগ্রহ করা - নেশার মতো ছিলো সেসময়। আস্তে আস্তে সেই শখ থিতু হয়ে আসে। জায়গা নেয় ছবি তোলা। এখনও শিখছি এবং তুলছি নানা রকম ছবি। কয়েক মাস ধরে শখ হয়েছে ক্র্যাফটিং এর। মূলত গয়না এবং নানা রকম কার্ড তৈরী, সাথে এক-আধটু স্ক্র্যাপবুকিং। সাথে মাঝে মধ্যে ব্লগ লেখা আর জাবর কাটা। এই নিয়েই চলছে জীবন বেশ।