ফটোগ্রাফি ২০২০

নতুন বছর শুরুর আগেই ঠিক করেছিলাম বছরের প্রথম দিন থেকে ছবি তুলবো। ভাল হোক, খারাপ হোক প্রতিদিন ছবি তোলার চেষ্টা করবো। আর এ কাজে যতগুলো ক্যামেরা আছে, লেন্স আছে সবই ব্যবহার করার চেষ্টা করবো। ডেডিকেটেড ক্যামেরার পাশাপাশি মোবাইল ফোনের ক্যামেরাও ব্যবহার করবো এমনই চিন্তা করে রেখেছিলাম। আজ প্রথম মাসের ২০ তম দিন। একদিনও এখন পর্যন্ত বাদ দেই নাই। তবে প্রজেক্ট ৩৬৫ বা প্রজেক্ট ৫২ এর মতো কোন প্রজেক্ট করছি না। কারণ এব্যাপারে এর আগেও ব্যর্থ হয়েছিলাম। তুলতে থাকি, তারপর দেখা যাবে।

Mitakon Zhongyi 20mm Super Macro Lens

পুরো মাস জুড়ে একটি ক্যামেরা এবং একটি লেন্স ব্যবহারের ইচ্ছে ছিলো। কিন্তু দেখা গেলো ৩৫ মিমি লেন্সের পাশাপাশি ম্যাক্রোর জন্য মিটাকন ঝঙ্গি ২০ মিমি সুপার ম্যাক্রো লেন্স এবং রেনক্স এর এম-২৫০ লেন্স এটাচমেন্ট ব্যবহার করছি। সামনের মাসে কোন লেন্স ব্যবহার করবো ঠিক করি নাই, তবে হয়তো ৫০ মিমি এবং ৩৫ মিমি নিয়ে মাঠে নামবো। সামনের মাসে অবশ্য ষ্ট্রিট ফটোগ্রাফির দিকে নজর দেয়ার ইচ্ছে আছে।

Raynox DCR-250ম্যাক্রো ফটোগ্রাফির জন্য আমি যে লেন্স / এটাচমেন্ট ব্যবহার করি তার দু’টি বিদেশ থেকে আনতে হয়েছিলো। প্রথমটি ছিলো Raynox DCR – 250 Super Macro Snap on Lens, এটি আসলে যে কোন লেন্সের উপর আটকিয়ে ব্যবহার করতে হয়। অনেকটা ক্লোজআপ ম্যাক্রো ফিল্টারের মতো। এটি আনিয়েছিলাম ব্যাকপ্যাকের মাধ্যমে। খরচ হয়েছিলো সব মিলিয়ে প্রায় ৭০০০ টাকা। দ্বিতীয় লেন্সটি Mitakon Zhongyi 20mm f/2 4.5x Super Macro Lens, এটি আনিয়েছিলাম ফেসবুক গ্রুপ শপারের মাধ্যমে। খরচ হয়েছিলো প্রায় ১৮১০০ টাকা। কেনার পর আসলে ঠিক সেভাবে কখনই ব্যাপক ব্যবহার করি নাই। এবার তাই হাতের কাছে যা পাই সব কিছুরই ম্যাক্রো ছবি তোলার ইচ্ছা আছে।

Raynox DCR-250

আপাতত এই পর্যন্তই। ছবি তোলার এই নতুন প্রয়াসের উদ্দেশ্য একটাই। যা আছে সব কিছুর সর্বোচ্চ ব্যবহার করে নিজের ফটোগ্রাফির মান যতদূর সম্ভব আরো বাড়ানো। জিনিস ব্যবহার না করলে অনেক কিছুই ভুলে যেতে হয়। তারপর অনেক ফিচার হয়তো ব্যবহারই করা হয় না। তার আগেই নতুন কোন ক্যামেরা / লেন্স বা একসেসরিজ কেনার জন্য মন কেমন কেমন করে। মনে হয় অমুক জিনিসটা হলে নির্ঘাত ফিটিয়ে ফেলতে পারতাম। আপাতত তাই টুকটাক খুচরা জিনিস ছাড়া আর কোন বড় ধরণের কেনাকাটায় যাচ্ছি না। একটা ফুলফ্রেম কেনার ইচ্ছে ছিলো, আপাতত সেই ইচ্ছেও শিকেয় তুলে রাখছি। টাকা জমতে থাকুক, পরে দেখা যাবে।

ভাল থাকুন। হ্যাপি ক্লিকিং।

রিফাত জামিল ইউসুফজাই

জাতিতে বাঙ্গালী, তবে পূর্ব পূরুষরা নাকি এসেছিলো আফগানিস্তান থেকে - পাঠান ওসমান খানের নেতৃত্বে মোঘলদের বিরুদ্ধে লড়াই করতে। লড়াই এ ওসমান খান নিহত এবং তার বাহিনী পরাজিত ও পর্যূদস্ত হয়ে ছড়িয়ে পড়ে টাঙ্গাইলের ২২ গ্রামে। একসময় কালিহাতি উপজেলার চারাণ গ্রামে থিতু হয় তাদেরই কোন একজন। এখন আমি থাকি বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকায়। কোন এককালে শখ ছিলো শর্টওয়েভ রেডিও শোনা। প্রথম বিদেশ ভ্রমণে একমাত্র কাজ ছিলো একটি ডিজিটাল রেডিও কেনা। ১৯৯০ সালে ষ্টকহোমে কেনা সেই ফিলিপস ডি ২৯৩৫ রেডিও এখনও আছে। দিন-রাত রেডিও শুনে রিসেপশন রিপোর্ট পাঠানো আর QSL কার্ড সংগ্রহ করা - নেশার মতো ছিলো সেসময়। আস্তে আস্তে সেই শখ থিতু হয়ে আসে। জায়গা নেয় ছবি তোলা। এখনও শিখছি এবং তুলছি নানা রকম ছবি। কয়েক মাস ধরে শখ হয়েছে ক্র্যাফটিং এর। মূলত গয়না এবং নানা রকম কার্ড তৈরী, সাথে এক-আধটু স্ক্র্যাপবুকিং। সাথে মাঝে মধ্যে ব্লগ লেখা আর জাবর কাটা। এই নিয়েই চলছে জীবন বেশ।