বাস কিংবা বাঁশের গল্প

ইদানিং জ্যাম এতো বেশী থাকে যে বাসে করে ঢাকার ভিতরে কোথাও যেতে ২/৩ ঘন্টা লেগে যায়। আর এই যাত্রাপথে আপনি যদি চোখ-কান একটু খোলা রাখেন তো রাজ্যের যতো কাহিনী আছে ধরা পড়বে। সেদিন এক কাজে গিয়েছিলাম বায়তুল মোকাররম। সাড়ে বারোটায় রওনা দিয়ে পৌছেছি সাড়ে ৩টার দিকে। তবে এবারে খূব বেশী কাহিনী শোনার সূযোগ হয় নাই।

১. পিছনের এক লোক ফোনে কারো সাথে কথা বলছে। বিষয় অসুস্থ্যতা এবং ডাক্তারের দেয়া টেষ্ট। বাসে যিনি ছিলেন তিনি মনে হলো কোন ডায়াগনষ্টিক সেন্টারে কাজ করেন। কথাবার্তা ছিলো এমন
– ডাক্তার সাহেব যে টেষ্টগুলো দিছিলো করছেন ?
উত্তর শুনে বললেন
– কোথা থেকে করছেন ?
উত্তর শুনে আবারও বললেন
– ও আচ্ছা। ডাক্তার সাহেব জিজ্ঞাসা করছিলো তো।

আরো কিছুক্ষণ আলাপের পর আরেকজন’কে ফোন করলেন। কোন এক ডাক্তারের নাম্বার নিলেন। আবার একজনকে ফোন করে আরেকজনের নাম্বার নিলেন। এবার আরেকজনকে ফোন করলেন।
– হ্যালো। শুন, সেদিন আমার যে রোগী আসছিলো না অমুক ডাক্তার’কে দেখাইতে, আজও সে আসবে। খবরদার সাথে সাথে ঢুকাবি না। একটু প্যাঁচাইতে হইবো। হালায় আরেকখান থিকা টেষ্ট করায় আনছে।
অপর পক্ষের কথা শুনে।
– ৩/৪শ যা পারিস খসা। আমারে দেয়ার দরকার নাই। হালার পুতে লিগ্যা স্যার’রে কইলাম। এহন টেষ্ট করায় অন্য খানথে।

আরো কিছুক্ষণ বাতচিতের পর আরেকজন’কে ফোন করলো (খূব সম্ভবত প্রথম জন’কে)
– ভাই আমি তো আজ’কে থাকতে পারতেছি না। জরুরী কাজে বাইরে যাইতেছি। আপনি গিয়া দেখান।
– আপনি গিয়া দেখান না, তারপর জানায়েন ডাক্তারে কি কয়। আর অমুক ডাক্তার অমুক ক্লিনিকে বহে। দেখাইতে পারেন।

২. সেদিন মহামান্য রাষ্ট্রপতি কোথাও গিয়েছিলেন। যাওয়ার পথে এবং ফেরার পথে দুইবার ই রাস্তায় আটকে ছিলাম। দুইবারই বাসের ভিতর নানা জনের নানা কথা। কেউ রাষ্ট্রপতির সরলতায় মুগ্ধ, কেউ বা তার রসিকতা’কে নিয়ে কটাক্ষ করতে ছাড়লেন না। কেউ বা এই সিকিউরিটি’কে বাড়াবাড়ি বললেন, কেউ বা বললেন হাজার হাজার লোক’কে কষ্ট দেয়ার কোন মানে হয় না। আবার কেউ বললেন হেলিকপ্টার দিয়ে গেলেই তো পারে, আমরা একটু বাঁচি।

রিফাত জামিল ইউসুফজাই

জাতিতে বাঙ্গালী, তবে পূর্ব পূরুষরা নাকি এসেছিলো আফগানিস্তান থেকে - পাঠান ওসমান খানের নেতৃত্বে মোঘলদের বিরুদ্ধে লড়াই করতে। লড়াই এ ওসমান খান নিহত এবং তার বাহিনী পরাজিত ও পর্যূদস্ত হয়ে ছড়িয়ে পড়ে টাঙ্গাইলের ২২ গ্রামে। একসময় কালিহাতি উপজেলার চারাণ গ্রামে থিতু হয় তাদেরই কোন একজন। এখন আমি থাকি বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকায়। কোন এককালে শখ ছিলো শর্টওয়েভ রেডিও শোনা। প্রথম বিদেশ ভ্রমণে একমাত্র কাজ ছিলো একটি ডিজিটাল রেডিও কেনা। ১৯৯০ সালে ষ্টকহোমে কেনা সেই ফিলিপস ডি ২৯৩৫ রেডিও এখনও আছে। দিন-রাত রেডিও শুনে রিসেপশন রিপোর্ট পাঠানো আর QSL কার্ড সংগ্রহ করা - নেশার মতো ছিলো সেসময়। আস্তে আস্তে সেই শখ থিতু হয়ে আসে। জায়গা নেয় ছবি তোলা। এখনও শিখছি এবং তুলছি নানা রকম ছবি। কয়েক মাস ধরে শখ হয়েছে ক্র্যাফটিং এর। মূলত গয়না এবং নানা রকম কার্ড তৈরী, সাথে এক-আধটু স্ক্র্যাপবুকিং। সাথে মাঝে মধ্যে ব্লগ লেখা আর জাবর কাটা। এই নিয়েই চলছে জীবন বেশ।