বিড়ম্বনা

কিছুদিন আগে ফুটপাতের এক দোকান থেকে একটা মোবাইল হোল্ডার কিনেছিলাম ২০ টাকা দিয়ে। দারাজে একই জিনিস ৬টাকায় বিক্রি হচ্ছে দেখে ২টা অর্ডার করলাম। জিনিস পাঠানোর আগেই সেলার এক বার্তা পাঠালো কেন / কিভাবে তারা বিশাল লস দিয়ে এই জিনিস বিক্রি করছে। প্রোডাক্ট হাতে পেয়ে যেন ৫ ষ্টার দেই। আরো কি কি পাওয়া যাবে তার বর্ননা এবং শেষে অনুরোধ (?) সমস্যা হলে যেন আগেই তাদের জানাই। নেগেটিভ রিভিউ না দেই।
 
জিনিস হাতে পাওয়ার পর একটা ভাঙ্গা পেলাম। তারা জাষ্ট পলি প্যাকে ঢুকিয়ে পাঠিয়ে দিয়েছিলো। প্যাকেটের ভিতর কোন ভাঙ্গা অংশ পাই নাই। মানে ইচ্ছে করেই ভাঙ্গা জিনিস পাঠিয়েছে। আর প্রোডাক্টের ছবির সাথে প্রোডাক্টের মিল নাই। একদম পাতলা বাজে প্লাস্টিকের তৈরী। এর দাম হয়তো ৬ টাকাও না, আরো কম।
 
এসব নিয়ে দারাজ এপ এ রিভিউ দেয়ার পর কিছুক্ষণ আগে ০১৭০৪***৯ নাম্বার থেকে ফোন আসলো। আমাকে নানা ভাবে বুঝানোর চেষ্টা করলেন দোকানে এগুলোর দাম ১৫/২০ টাকা। উনি আমাকে ১২ টাকা বিকাশ করে দিবেন, আমি যেন ষ্টার বাড়িয়ে রিভিউ পরিবর্তন করে দেই। বাধ্য হয়ে কথার মাঝেই ফোন কেটে দিলাম।
=========================================================================
এই লেখাটি দারা ফ্যান ক্লাবে পোষ্ট করার পর ব্যাপক রিএকশন পেলাম। পোষ্ট এডিট করায় আবার রিভিউ এর জন্য গেছে। আপাতত তাই লিংক দিতে পারছি না। পোষ্টে আরো কয়েকটি লাইন যোগ করেছিলাম 

অনেকেই অনেক কথা বলছেন।
প্রথমত : কোন বিক্রেতা লাভে বিক্রি করলেন না লসে বিক্রি করছেন সেটা ক্রেতাকে (প্রোডাক্ট পাঠানোর আগেই) জানাতে হবে কেন?
দ্বিতীয়ত : মানহীন প্রোডাক্টে কেন ৫ ষ্টার এবং ভাল রিভিউ দিতে হবে?
তৃতীয়ত : ক্রেতাকে কেন ফোন করে বিব্রত করা হবে?
 
রিভিউ দেখেই বেশীর ভাগ সময় জিনিস কিনি। সেখানে আমি যদি ১২ টাকা ফেরত পেয়ে ভাল রিভিউ এবং ৫ ষ্টার দেই তাহলে সেটা অন্য ক্রেতাদের সাথে প্রতারনা করার সামিল।

রিফাত জামিল ইউসুফজাই

জাতিতে বাঙ্গালী, তবে পূর্ব পূরুষরা নাকি এসেছিলো আফগানিস্তান থেকে - পাঠান ওসমান খানের নেতৃত্বে মোঘলদের বিরুদ্ধে লড়াই করতে। লড়াই এ ওসমান খান নিহত এবং তার বাহিনী পরাজিত ও পর্যূদস্ত হয়ে ছড়িয়ে পড়ে টাঙ্গাইলের ২২ গ্রামে। একসময় কালিহাতি উপজেলার চারাণ গ্রামে থিতু হয় তাদেরই কোন একজন। এখন আমি থাকি বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকায়। কোন এককালে শখ ছিলো শর্টওয়েভ রেডিও শোনা। প্রথম বিদেশ ভ্রমণে একমাত্র কাজ ছিলো একটি ডিজিটাল রেডিও কেনা। ১৯৯০ সালে ষ্টকহোমে কেনা সেই ফিলিপস ডি ২৯৩৫ রেডিও এখনও আছে। দিন-রাত রেডিও শুনে রিসেপশন রিপোর্ট পাঠানো আর QSL কার্ড সংগ্রহ করা - নেশার মতো ছিলো সেসময়। আস্তে আস্তে সেই শখ থিতু হয়ে আসে। জায়গা নেয় ছবি তোলা। এখনও শিখছি এবং তুলছি নানা রকম ছবি। কয়েক মাস ধরে শখ হয়েছে ক্র্যাফটিং এর। মূলত গয়না এবং নানা রকম কার্ড তৈরী, সাথে এক-আধটু স্ক্র্যাপবুকিং। সাথে মাঝে মধ্যে ব্লগ লেখা আর জাবর কাটা। এই নিয়েই চলছে জীবন বেশ।