বয়স

কিছুক্ষণ আগে এক বন্ধুর সাথে কথা বলছিলাম। কৈশোর -যৌবন এক সাথে পার করে আমরা এখন প্রৌঢ়। অনেক দিন কথা হয়নি, দেখা-সাক্ষাৎ তো বন্ধই। তাই লম্বা আলাপ।

কথা বলতে বলতে হঠাৎ করে লাইন কেটে গিয়েছিলো। এবার বন্ধু ই ফোন দিলো। দিয়েই বলে বুড়া যে হচ্ছি টের পাও। মানে? বলে হাটতে বের হয়েছিলাম। এক হাতে গ্লাভস আর একহাতে মোবাইল নিয়ে তোমার সাথে কথা বলতে বলতে যাচ্ছিলাম। হঠাৎ মনে হলো মোবাইল তো বাসায় ফেলে এসেছি। আবার ফিরতি পথে অনেকদূর চলেও এসেছিলাম। এমন সময় কল কাটলো। আর তখনই মনে পরলো আরে মোবাইল তো হাতে।

হ্যাঁ। এরকম ঘটনা মাঝে মধ্যেই ঘটে। ১০ মিনিট আগে কি করছিলাম মনে করতে পারি না। একদিন তো পকেটে চশমা রেখে পুরো রুম ওলট-পালট করে ফেলছিলাম চশমার খোঁজে।

বয়স আসলেই বাড়ছে।

রিফাত জামিল ইউসুফজাই

জাতিতে বাঙ্গালী, তবে পূর্ব পূরুষরা নাকি এসেছিলো আফগানিস্তান থেকে - পাঠান ওসমান খানের নেতৃত্বে মোঘলদের বিরুদ্ধে লড়াই করতে। লড়াই এ ওসমান খান নিহত এবং তার বাহিনী পরাজিত ও পর্যূদস্ত হয়ে ছড়িয়ে পড়ে টাঙ্গাইলের ২২ গ্রামে। একসময় কালিহাতি উপজেলার চারাণ গ্রামে থিতু হয় তাদেরই কোন একজন। এখন আমি থাকি বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকায়। কোন এককালে শখ ছিলো শর্টওয়েভ রেডিও শোনা। প্রথম বিদেশ ভ্রমণে একমাত্র কাজ ছিলো একটি ডিজিটাল রেডিও কেনা। ১৯৯০ সালে ষ্টকহোমে কেনা সেই ফিলিপস ডি ২৯৩৫ রেডিও এখনও আছে। দিন-রাত রেডিও শুনে রিসেপশন রিপোর্ট পাঠানো আর QSL কার্ড সংগ্রহ করা - নেশার মতো ছিলো সেসময়। আস্তে আস্তে সেই শখ থিতু হয়ে আসে। জায়গা নেয় ছবি তোলা। এখনও শিখছি এবং তুলছি নানা রকম ছবি। কয়েক মাস ধরে শখ হয়েছে ক্র্যাফটিং এর। মূলত গয়না এবং নানা রকম কার্ড তৈরী, সাথে এক-আধটু স্ক্র্যাপবুকিং। সাথে মাঝে মধ্যে ব্লগ লেখা আর জাবর কাটা। এই নিয়েই চলছে জীবন বেশ।