রেটেকেস ভি১১৫ রেডিও

কেনার পর প্রথম বার রেডিওটি চালানোর পর মনে হলো ‘খারাপ না’। প্রথম যে বিষয়টি আপনি খেয়াল করবেন তা হলো এর স্পিকারের আওয়াজ। ভি১১৫ এর চাইতে ৪/৫ গুণ বেশী দামের রেডিও’তেও আপনি এতো জোড়ালো আওয়াজ পাবেন না। সেই সাথে আওয়াজ বেশ পরিস্কার।

আরও কিছুদিন ব্যবহারের পর এখন মনে হচ্ছে রেটেকেস ভি১১৫ রেডিও’টি আসলে ‘খূব চমৎকার’ বলা যবে না। হ্যাঁ এর আওয়াজ বেশ জোড়ালো এবং পরিস্কার। সাথে রেকর্ড করার সূবিধা খূবই ভাল। তবে রেডিও’র মূল কাজ মানে বিভিন্ন ষ্টেশন রিসিভ করার কাজটি বলবো মোটামুটি। যারা এতোদিন এনালগ রেডিও ব্যবহার করছেন এবং কম খরচে একটি ডিজিটাল রেডিও নিতে চাচ্ছেন তাদের জন্য এটি বেশ ভাল হবে। স্থানীয় মিডিয়াম ওয়েভ এবং এফএম ষ্টেশন খূবই চমৎকার শুনতে পারবেন। শর্টওয়েভ ও মোটামুটি খারাপ না। ঢাকায় বসে মিডিয়াম ওয়েভে দিনের বেলা প্রায় সব রেডিও’তেই বাংলাদেশ বেতারের ৫৫৮ (খুলনা), ৬৩০ (ঢাকা), ৬৯৩ (ঢাকা), ৮১৯ (ঢাকা) কিলোহার্টজে অনুষ্ঠান শোনা যায়। রেটেকেস ভি১১৫ রেডিও’তেও এগুলো শুনতে পারবেন। এর বাইরে আর কোন ষ্টেশন ধরা যায় না। রাতে বাংলাদেশ বেতার খুলনা আরেকটু ভালভাবে শোনা যায়। ভারতের কোলকাতা থেকে প্রচারিত আকাশবানী মৈত্রী ৫৯৪ তালোহার্রাটজ এ পাবেন। আকাশবানী গীতাঞ্জলী ৬৫৭ কিলোহার্টজ এ ভালমতো বুঝা যায় না। তবে রাত ১১টার পর হয়তো কিছুটা ক্লিয়ার শোনা যায়। কোন ষ্টেশন পাই নাই। আমি অবশ্য মিডিয়াম ওয়েভ লুপ এন্টেনা দিয়ে কখওই চেষ্টা করে দেখি নাই। তবে ভবিষ্যতে চেষ্টা করে দেখবো। 

এফএম এ ঢাকায় সাধারণত ২৫টি রেডিও ষ্টেশন শোনা যায়। সার্চে সবকয়টিই পাওয়া গেছে। 

শর্টওয়েভ তো অনেক কিছুর উপর নির্ভর করে। তারপরও লং ওয়্যার এন্টেনা (সাধারন ইনসুলেটেড ওয়্যার) দিয়ে আপনি অনেক ষ্টেশনই পাবেন। 

তাহলে আমার মতামত কি এই রেডিও’র ব্যাপারে !?! ঐ যে বললাম যারা এতোদিন এনালগ রেডিও ব্যবহার করেছেন তাদের জন্য মোটামুটি বাজেটে ডিজিটাল রেডিও হিসেবে মন্দ হবে না। অনেকের এনালগ রেডিও’র ব্যাপারে অসম্ভব দূর্বলতা আছে আমি জানি। নতুন টেকনোলজি কিন্তু আগের সেই এনালগ সেট থেকে ভাল। তবে দুই একটি ক্ষেত্রে হয়তো আগের এনালগ রেডিও, বিশেষ করে মিডিয়াম ওয়েভে ভাল কাজ দেয়। যেমন – প্যানাসনিক / ন্যাশনাল প্যানাসনিকের বেশ কিছু মডেল আছে যেগুলোর মিডিয়াম ওয়েভ রিসেপশন এখনও দূর্দান্ত। সমস্যা হলো এসব রেডিও কিন্তু এখন আর তৈরী হয় না। পুরাতন রেডিও যদের কাছে ভাল অবস্থায় আছে তারা এখনও উপভোগ করছেন। 

আমার কাছে এই রেডিও’র সবচেয়ে খারাপ দিক কোনটি ? সেটি হলো টিউনিং এর জন্য কোন রোটারি হুইল দেয়া হয় নাই বা ১ কিলোহার্টজ করে আপ-ডাউন এর জন্য কোন ব্যবস্থা রাখা হয় নাই। টিউনিং এর জন্য হয় সার্চ করতে হবে নয়তো ফ্রিকোয়েন্সী জেনে সরাসরি টিউন করতে হবে। সার্চে ধরা না পরলে বা ফ্রিকোয়েন্সী না জানলে আপনি সেই ষ্টেশন হয়তো এই রেডিও’তে কখনই শুনতে পারবেন না।  

ভাল দিক তো আগেই বলেছি। জোড়ালো এবং পরিস্কার আওয়াজ, সাথে রেকর্ডিং এর ব্যবস্থা। রেকর্ডিং কেবল যে এই রেডিও থেকেই করবেন তা কিন্তু না। AUX / Line In জ্যাক / পোর্ট আছে, অন্য রেডিও বা ডিভাইস থেকেও অডিও ক্যাবল দিয়ে রেকর্ড করতে পারবেন। সাথে খূব ছোট একটি মাইক্রোফোন আছে। সেটা দিয়ে কোন জরুরী কথা বা ভয়েজ মেসেজ রেকর্ড করতে পারবেন। 

সাধারণ শ্রোতাদের জন্য স্থানীয় এফএম / মিডিয়াম ওয়েভ ষ্টেশন শোনার জন্য ১৫০০ টাকায় ভাল ডিজিটাল রেডিও বলবো। তবে যারা ডিএক্সই করেন তাদের জন্য মোটেও ভাল হবে না। তবে আপনি ইচ্ছে করলে অনুষ্ঠান রেকর্ড করা কিংবা গান শোনার জন্য  (এমপিথ্রি প্লেয়ার) বেশ ভাল। 

আমি দারাজ থেকে কিনেছি। ঈদ উপলক্ষে ছাড় দিয়ে আমার খরচ হয়েছিলো ১৪২২ টাকা। সেলার চীনের, তাই আসতে একটু সময় লেগেছে। আপনিও চাইলে এই লিংক থেকে কিনতে পারেন।

হ্যাপি লিসেনিং …

রিফাত জামিল ইউসুফজাই

জাতিতে বাঙ্গালী, তবে পূর্ব পূরুষরা নাকি এসেছিলো আফগানিস্তান থেকে - পাঠান ওসমান খানের নেতৃত্বে মোঘলদের বিরুদ্ধে লড়াই করতে। লড়াই এ ওসমান খান নিহত এবং তার বাহিনী পরাজিত ও পর্যূদস্ত হয়ে ছড়িয়ে পড়ে টাঙ্গাইলের ২২ গ্রামে। একসময় কালিহাতি উপজেলার চারাণ গ্রামে থিতু হয় তাদেরই কোন একজন। এখন আমি থাকি বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকায়। কোন এককালে শখ ছিলো শর্টওয়েভ রেডিও শোনা। প্রথম বিদেশ ভ্রমণে একমাত্র কাজ ছিলো একটি ডিজিটাল রেডিও কেনা। ১৯৯০ সালে ষ্টকহোমে কেনা সেই ফিলিপস ডি ২৯৩৫ রেডিও এখনও আছে। দিন-রাত রেডিও শুনে রিসেপশন রিপোর্ট পাঠানো আর QSL কার্ড সংগ্রহ করা - নেশার মতো ছিলো সেসময়। আস্তে আস্তে সেই শখ থিতু হয়ে আসে। জায়গা নেয় ছবি তোলা। এখনও শিখছি এবং তুলছি নানা রকম ছবি। কয়েক মাস ধরে শখ হয়েছে ক্র্যাফটিং এর। মূলত গয়না এবং নানা রকম কার্ড তৈরী, সাথে এক-আধটু স্ক্র্যাপবুকিং। সাথে মাঝে মধ্যে ব্লগ লেখা আর জাবর কাটা। এই নিয়েই চলছে জীবন বেশ।