রোহিঙ্গা ইস্যু (৩)

১৯৪৮ : ব্রিটিশ শাসন অবসানের পর বার্মা’র স্বাধীনতার পর পরই রাখাইনে মুসলিম বিদ্রোহ শুরু হয়। তারা সমানাধিকার এবং স্বায়ত্বশাসনের দাবী করছিলো। তবে সেই বিদ্রোহ দমন করা হয়।

১৯৬২ : বার্মায় সামরিক শাসনের শুরু।

১৯৭৭-৭৮ : প্রায় ২ লক্ষ রোহিঙ্গা মুসলিম সীমান্ত পার হয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়।

১৯৮২ : নতুন নাগরিকত্ব আইনে ১৩৫টি ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীকে বার্মার অধিবাসী বলে স্বীকার করে নেয়া হয়। এই আইনে রোহিঙ্গারা বাদ পরে যায়। ফলে তারা হয়ে হয়ে পরে দেশহীন জনগোষ্ঠী।

১৯৮৯-৯১ : বার্মার নতুন নামকরন করা হয় মায়ানমার। সামরিক সরকার এসময় জনগণের উপর ব্যাপক দমন-পীড়ন শুরু করে। আরো প্রায় ২.৫ লক্ষ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় গ্রহন করে।

১৯৯২ : বাংলাদেশ এবং মায়ানমার দ্বিপক্ষীয় চুক্তির অধীনে বাংলাদেশে আশ্রয়গ্রহণকারী রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে পূনর্বাসনের ব্যাপারে সম্মত হয়। ফলে পরবর্তী কয়েক বছরে বেশ কিছু রোহিঙ্গা নিজ দেশে ফিরে যায়।

২০০৩ : ২০টির মধ্যে ২টি রোহিঙ্গা ক্যাম্প রেখে বাকি সব ক্যাম্প গুটিয়ে ফেলা হয়।

২০১২ : রাখানাইনে ব্যাপক জাতিগত দাঙ্গা ছড়িয়ে পরে। ফলে অনেকেই বাস্তচ্যুত হয়। ১ লক্ষেরও অধিক মানুষ মালয়েশিয়ায় আশ্রয় গ্রহন করে।

২০১৪ : ৩০ বছরের মধ্যে প্রথম আদমশুমারীতেও রোহিঙ্গাদের স্বীকৃতি দেয়া হয় নাই।

২০১৬ : মায়ানমার সীমান্ত চৌকিতে বিদ্রোহীদের আক্রমনে বেশ কয়েকজন সীমান্তরক্ষী নিহত হয়। এরপর শুরু হয় ব্যাপক সেনা অভিযান। প্রায় ৮৭ হাজার রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় গ্রহন করে।

(ঘটনার সূত্রপাত ৯ অক্টোবর ২০১৬ তারিখে। ওই দিন মিয়ানমারের রাখাইন প্রদেশের বাংলাদেশ সীমান্ত চৌকির সন্নিকটে মংডু শহরের কাছে প্রায় ৩০০ জন সংগঠিত চরমপন্থির একটি সশস্ত্র দল মিয়ানমার সীমান্তরক্ষী সেনাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। এতে ৯ জন বিজেবি (মিয়ানমার সীমান্তরক্ষী সেনা) নিহত হয়।

তৃতীয় দিন ১১ অক্টোবর তটমাদৌ অঞ্চলে একই ধরনের হামলায় আরো ৪ বার্মা সেনা নিহত হয়। ধারণা করা করা হয়, হামলাকারীরা রোহিঙ্গা সলিডারিটি অর্গানাইজেশান (আরএসও) নামক একটি মুসলিম রোহিঙ্গা জঙ্গি গোষ্ঠীর সদস্য। এরা নিজেদের ফেইথ মুভমেন্ট অব আরাকানের (এফএমএ) সদস্য হিসেবে পরিচয় প্রদান করছে)

২০১৭ : রাখাইন এর বিদ্রোহী গ্রুপ এবং সেনাবিহনীর মধ্যে সংঘাত বাড়তেই থাকে। সেই সাথে বাংলাদেশে শরনার্থীদের আগমন অব্যাহত থাকে। জাতিসংঘ  রোহিঙ্গা সমস্যাকে একটি আন্তর্জাতিক শরনার্থী সমস্যা হিসেবে ঘোষণা দেয়। ৬ লাখের বেশী শরনার্থী বাংলাদেশে প্রবেশ করে।

২০১৮ : বাংলাদেশ এবং মায়ানমার শরনার্থী প্রত্যাবাসনে সম্মত হয়। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোন শরনার্থী প্রত্যাবাসন হয়নি।

২০১৯ : রাখাইনে অব্যাহত দমন-পীড়ন চলছে। শরনার্থী প্রত্যাবাসনের কোন খবর পাওয়া যায় নাই।

সূত্র : ওয়ার্ল্ড ভিশন

ভিন্ন একটি তথ্য দেই। গোলাম মোর্তোজার লেখা শান্তিবাহিনী : গেরিলা জীবন বই এ এই তথ্যটি ছিলো।

১৪১৮ সালে চাকমা রাজা মো আন তসনি ব্রহ্মদেশ থেকে বিতারিত হয়ে রামু এবং টেকনাফে আশ্রয় নেন। ব্রহ্মযুদ্ধের সময় মারমারা আরাকান থেকে চাকমাদের বিতারণ করেন। চাকমারা এসে পার্বত্য চট্টগ্রামে বসতি স্থাপন করেন। জানা যায় সেসময় পার্বত্য চট্টগ্রামের মূল অধিবাসি ছিলো কুকিরা। চাকমাদের কারণে তারা বিতারিত হয়। (পৃষ্ঠা : ১৮০)
(শান্তিবাহিনী : গেরিলা জীবন, লেখক : গোলাম মোর্তোজা, প্রকাশ : বইমেলা ২০০০, সময় প্রকাশন)

রিফাত জামিল ইউসুফজাই

জাতিতে বাঙ্গালী, তবে পূর্ব পূরুষরা নাকি এসেছিলো আফগানিস্তান থেকে - পাঠান ওসমান খানের নেতৃত্বে মোঘলদের বিরুদ্ধে লড়াই করতে। লড়াই এ ওসমান খান নিহত এবং তার বাহিনী পরাজিত ও পর্যূদস্ত হয়ে ছড়িয়ে পড়ে টাঙ্গাইলের ২২ গ্রামে। একসময় কালিহাতি উপজেলার চারাণ গ্রামে থিতু হয় তাদেরই কোন একজন। এখন আমি থাকি বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকায়। কোন এককালে শখ ছিলো শর্টওয়েভ রেডিও শোনা। প্রথম বিদেশ ভ্রমণে একমাত্র কাজ ছিলো একটি ডিজিটাল রেডিও কেনা। ১৯৯০ সালে ষ্টকহোমে কেনা সেই ফিলিপস ডি ২৯৩৫ রেডিও এখনও আছে। দিন-রাত রেডিও শুনে রিসেপশন রিপোর্ট পাঠানো আর QSL কার্ড সংগ্রহ করা - নেশার মতো ছিলো সেসময়। আস্তে আস্তে সেই শখ থিতু হয়ে আসে। জায়গা নেয় ছবি তোলা। এখনও শিখছি এবং তুলছি নানা রকম ছবি। কয়েক মাস ধরে শখ হয়েছে ক্র্যাফটিং এর। মূলত গয়না এবং নানা রকম কার্ড তৈরী, সাথে এক-আধটু স্ক্র্যাপবুকিং। সাথে মাঝে মধ্যে ব্লগ লেখা আর জাবর কাটা। এই নিয়েই চলছে জীবন বেশ।