ল্যাপটপ সমাচার (২)

কোন ভাবেই কোন কিছু করতে পারলাম না। এদিকে ডেস্কটপেও দেখি আরেক যন্ত্রনা। কোন কিছু ডাউনলোড করতে গেলেই নানা তাল-বাহানা শুরু করে। বার বার ‘ফেইল্’ড দেখায়। চেষ্টা করলাম উইন্ডোজের আরেকটা বুটেবল ইউএসবি ডিস্ক তৈরী করার। মাইক্রোসফটের যে টুল আছে সেটা দিয়ে কোনভাবেই তৈরী করা গেল না। আলাদা করে আইএসও ডাউনলোড করতে চাইলাম যাতে অন্য কোন টুলস দিয়ে বুটেবল ডিস্ক তৈরী করতে পারি। কিন্তু প্রতিবারই শেষ মূহুর্তে এসে এরর দেখায়। মেজাজটাই খারাপ হয়ে গেল।

চিন্তা করলাম ল্যাপটপ খুলতে হবে। আমার অবশ্য ল্যাপটপ খোলার অভিজ্ঞতা ভাল না। এর আগে একবার একটা নষ্ট ল্যাপটপ খুলে হার্ডডিস্ক আর মনিটর বের করতে গিয়ে ল্যাপটপই ভেঙ্গে ফেলেছিলাম। নষ্ট ছিলো যেহেতু তেমন একটা গায়ে লাগে নাই। যদিও হার্ডডিস্ক আর মনিটর বের করতে পেরেছিলাম। হার্ডডিস্ক এখনও কাজে দিচ্ছে, মনিটর অবশ্য কোন কাজে লাগাতে পারি নাই।

এবার অবশ্য আগে ভাল করে ল্যাপটপটা চেক করলাম। কোথা দিয়ে খুলতে হবে বুঝার চেষ্টা করলাম। এরপর ইউটিউব সার্চ করতেই বের হয়ে এলো এই মঢেলের ল্যাপটপ কিভাবে খুলতে হবে তার ফিরিস্তি। রাতেই স্ক্রু খুলে ফেললাম। এরপর ভিডিও দেখে ল্যাচগুলো খোলার চেষ্টা করলাম। এক একটা ল্যাচ খুলে আর কট করে আওয়াজ হয়। আর আমার মনে হয় এই বুঝি ভাঙ্গলো। ল্যাচগুলো আসছেই প্যাঁচের। স্ক্রু দেয়ার পরও এই জিনিস দেয়ার কি দরকার ছিলো। পিছনের কাভার খুলতেই দেখা গেলো হার্ডডিস্ক, ram আর ওয়াইফাই মডিউল ঠিকমতোই আছে। রাতে আর কিছু করলাম না।

সকালে উঠেই হার্ডডিস্ক খুলে ফেললাম। ডেস্কটপে লাগিয়ে আগের বুটেবল ডিস্ক দিয়েই উইন্ডোজ ইনষ্টল করলাম কোন ঝামেলা ছাড়াই। অনলাইনে যাওয়ার পরও কোন প্রব করলো না। মনে হলো ল্যাপটপের অন্য কোথাও হয়তো সমস্য আছে। ল্যাপটপের এই হার্ডডিস্কটা ৫০০ জিবির, আগে যে ল্যাপটপ ভেঙ্গে হার্ডডিস্ক বের করেছিলাম সেটা ১২০ জিবি। ঠিক করলাম ল্যাপটপে ছোট হার্ডডিস্ক লাগাই আর বড় হার্ডডিস্ক থাকুক ডেস্কটপে ষ্টোরেজ হিসাবে। সেভাবেই আবার উইন্ডোজ ইনষ্টল করলাম। প্রয়োজনীয় কিছু সফটওয়্যার ও ইনষ্টল করে ফেললাম।

পিছনের কাভার লাগানোর আগে কি মনে করে ওয়াইফাই মডিউল খুলে রাখলাম। যাতে ভুলেও এটাতে আর নেট ইউজ না করি। এরপর যথাবিহিত বুট করে সব চেক করলাম। সব শেষ করে কাভার লাগিয়ে স্ক্রু লাগালাম। এতো সাবধানতার পরেও টেবিলে ছোট ছোট ২/৩টা প্লাষ্টিকের ক্ষুদ্র ভাঙ্গা অংশ পেলাম।

আপাতত ল্যাপটপ চলছে। এখন পর্যন্ত কোন সমস্যা করে নাই। দেখা যাক আর কয়দিন চলে।

ফটো ক্রেডিট : Designed by Freepik

রিফাত জামিল ইউসুফজাই

জাতিতে বাঙ্গালী, তবে পূর্ব পূরুষরা নাকি এসেছিলো আফগানিস্তান থেকে - পাঠান ওসমান খানের নেতৃত্বে মোঘলদের বিরুদ্ধে লড়াই করতে। লড়াই এ ওসমান খান নিহত এবং তার বাহিনী পরাজিত ও পর্যূদস্ত হয়ে ছড়িয়ে পড়ে টাঙ্গাইলের ২২ গ্রামে। একসময় কালিহাতি উপজেলার চারাণ গ্রামে থিতু হয় তাদেরই কোন একজন। এখন আমি থাকি বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকায়। কোন এককালে শখ ছিলো শর্টওয়েভ রেডিও শোনা। প্রথম বিদেশ ভ্রমণে একমাত্র কাজ ছিলো একটি ডিজিটাল রেডিও কেনা। ১৯৯০ সালে ষ্টকহোমে কেনা সেই ফিলিপস ডি ২৯৩৫ রেডিও এখনও আছে। দিন-রাত রেডিও শুনে রিসেপশন রিপোর্ট পাঠানো আর QSL কার্ড সংগ্রহ করা - নেশার মতো ছিলো সেসময়। আস্তে আস্তে সেই শখ থিতু হয়ে আসে। জায়গা নেয় ছবি তোলা। এখনও শিখছি এবং তুলছি নানা রকম ছবি। কয়েক মাস ধরে শখ হয়েছে ক্র্যাফটিং এর। মূলত গয়না এবং নানা রকম কার্ড তৈরী, সাথে এক-আধটু স্ক্র্যাপবুকিং। সাথে মাঝে মধ্যে ব্লগ লেখা আর জাবর কাটা। এই নিয়েই চলছে জীবন বেশ।