ষ্টকহোম ডায়েরী (৩)

ষ্টকহোমে ২য় দিন। সকালে নাশতা খাওয়ার সময়েই ঠিক হলো আমি কাজিনের সাথে বের হবো। ভাই তখন এক ইউনি’তে (নাম মনে নাই) পিএইডি করছিলেন গ্যাষ্ট্রোএনটোমোলজিতে। আধ ঘন্টা আগে বের হয়ে আমাকে বাস ষ্টপ, সাবওয়ে, সেন্ট্রাল ষ্টেশন সব চিনিয়ে দিবেন। সাথে আনুষঙ্গিক সব কিছু। চেনার পর আমাকে একা একা বাসায় ফিরতে হবে। এটা পরীক্ষা।

বের হওয়ার আগে বড় আম্মা আমাকে ৫০০ ক্রোনা (ক্রাউন, সুইডিশ মূদ্রার একক) দিলেন হাত খরচ বাবদ। আমি ডলার ভাঙ্গাতে চাইলে বললেন দরকার নেই। আর কাজ শুরু করলে তো ১ সপ্তাহ পর থেকে বেতনই পাবো। বাসার কাছে হাটা দূরত্বে বাস ষ্টপ। আমরা দু’জনে মিলে সেখানে গেলাম। কাজিন বাসষ্টপে থাকা ম্যাপ আর টাইম টেবল বুঝিয়ে দিলেন। প্রতিটি বাসের সামনের দিকে উপরে বড় করে রুট নাম্বার দেয়া থাকে। সেটা দেখেই বুঝতে কোন বাস কোন দিকে যাবে। ম্যাপেও সেখা লেখা থাকে। আর টাইম টেবল অনুযায়ী সব বাস চলে, একদম ঘড়ির কাটা ধরে। ঘড়ির কাটা ধরেই বাস চলে আসলো। আমাকে আগে ঠেলে দিয়ে টিকেট কাটতে বললো। জায়গার নামটা ভুলে গেছি এখন, সেখানে সেন্ট্রাল ষ্টেশন। কাঁপা কাঁপা গলায় ড্রাইভারকে জায়গার নাম বললাম এবং ৫০০ ক্রোনার নোটটা দিলাম। ড্রাইভারই কন্ডাক্টার, তার একপাশে ছোট টেবিলের মতো হাতল, সেখানে ড্রয়ারে সব টাকা-পয়সা থাকে। উপরে সিল দেয়ার যন্ত্র। আমার একবার একটু মনে হয়েছিলো ৫০০ ক্রোনার নোট ভাঙ্গিয়ে নিয়ে আসা দরকার ছিলো, ড্রাইভার যদি বলে বসে ভাঙ্গতি হবে না। সেরকম কিছু হলো না অবশ্য। ভাঙ্গতি দিলেন একেবারে পাই পয়সা পর্যন্ত। সাথে লম্বা একটা টিকেট বের করে সিল মেরে দিলেন।  সিলে কোন পর্যন্ত যাবো এবং সময় লেখা ছিলো। কাজিন বললো আমি যদি এক ঘন্টা পর আবার ফেরত আসতে চাই, তাহলে নতুন করে আর টিকেট কাটতে হবে না। এই টিকেট দিয়েই চলবে। ওদের কাছে ৭ দিনের টিকেটও আছে। যে যার সূবিধা মতো ব্যবহার করে। আর আছে মান্থলি টিকেট। যারা নিয়মিত যাত্রী তারা সাধারণত এই মান্থলি টিকেট ব্যবহার করে। এতে প্রচুর সাশ্রয় হয়। প্রতিদিন টিকেট কেটে ৭ দিন চললে যে টাকা খরচ হয়, মান্থলি টিকেটের দাম তার চাইতে কম। আর ষ্টকহোমের সব সরকারী বাস, সাবওয়ে এবং সারফেস ট্রেন একই টিকেটের আওতায় চলে। মান্থলি টিকেট কাটলে আনলিমিটেড ঘোরা যায়। 

কথা বলছি আর চারপাশ দেখছি। বাসের লোহার রড বা উপরে ছাদে একাধিক লাল বোতাম আছে। সামনের বাসষ্টপে কেউ নামতে চাইলে এই লাল বোতাম টিপতে হয়। টুং করে আওয়াজ হয়। ড্রাইভার বুঝতে পারে কেউ নামবে। ড্রাইভার সাধারণত বাসষ্টপ আসার আগে সেই ষ্টপের নামটা বলে। বিভিন্ন ষ্টপেজে বাস থামছে। সবাই লাইন ধরে উঠছে, যাদের মান্থলি আছে সেটা দেখাচ্ছে। যাদের টিকেট কাটা লাগবে কেটে নিচ্ছে। কারো তাড়াহুড়া বা কোনরকম ঠেলাঠেলি নাই। এই এক জিনিস সুইডেনে, হয়তো পূরো ইউরোপ-আমেরিকাতেও। সব জায়গাতেই সিরিয়াল মেইনটেইন করছে, নিয়মমতো লাইনের শেষে দাড়িয়ে যাচ্ছে। আমার তাড়া আছে বলে কেউ ঠেলে সামনে যায় না। আবার দাঁড়ায়ও নিরাপদ দূরত্ব রেখে। কেউ বেশী জায়গা রেখে দাড়ালেও কেউ পিছন থেকে বলে না ভাই সামনে আগান।

কাক্কার বাসা ছিলো এলতা গর্ড, উপশহর বলা চলে। মূলত আবাসিক এলাকা। আমি যে এলাকায় ছিলাম সেখানে সব দোতলা বাড়ী। ছোট ছোট টিলা কেটে বানানো। আর সব বাড়ীর চেহারা প্রায় একই রকম, উনিশ আর বিশ। বাসে উঠার পর চারিদিকে সব উচু-নিচু টিলা আর বন দেখছিলাম। লম্বা লম্বা সব গাছ। মেইন রোডের পাশে বাড়ী-ঘর খূব একটা দেখা যাচ্ছিলো না। আর মেইন রোডের পাশে আবার চিকন আরেকটা রোড, সেটা পথচারী আর সাইক্লিষ্ট দের জন্য। একসময় ধীরে ধীরে দৃশ্যপট বদলাতে থাকলো। বিল্ডিংগুলি অন্যরকম দেখতে। কাজিন বললো আমরা আস্তে আস্তে শহরের দিকে যাচ্ছি। একসময় বাস থামলো। এটাই এই রুটের বাসের শেষ প্রান্ত। অনেক বাস কোণাকুণি করে পার্ক করা। একদিকে বাসষ্ট্যান্ড, আরেকদিকে সাবওয়ে। সাবওয়েতে ঢোকার আগে কাজিন দেখিয়ে দিলো ফেরার পথে কোন স্পট থেকে বাসে উঠবো। এবার সাবওয়েতে ঢোকার সময় একটা অফিস থেকে একটা বই নিলেন। ছোটখাট, একটু মোটা বই। হয়তো আড়াই ইঞ্চি বাই তিন ইঞ্চি। এটাই মূল টাইমটেবল। সাথে ম্যাপ আছে। কাজিন এরপর সাবওয়ে’তে ঢোকার সময় কি করতে হবে বলে দিলেন। ভিতরে ঢুকতেই বেশ বড় হলের মতো। একদিকে সারি সারি গেট, একপাশে কাঁচঘেরা ঘরের মতো। যাদের মান্থলি কার্ড আছে, তারা কার্ড সেই গেটের সাথে লাগানো যন্ত্রের মধ্যে দিয়ে স্লাইড করলেই গেট ঘুরে যাচ্ছে। আর যারা টিকেট কেটেছে বা কাটবে তারা সেই কাঁচঘেরা ঘরের সামনে দিয়ে যাচ্ছে। আমার টিকেট কাটা ছিলো, তাই সেই কাঁচঘেরা ঘরের সামনে দিয়ে গেলাম, টিকেট দেখাতেই ভিতরের ভদ্রলোক মাথা ঝাঁকিয়ে যেতে বললেন।

জীবনে প্রথম সাবওয়েতে ঢুকেছি। কাজিন আগে নিয়ে গেলেন ফেরার সময়ে কোন প্ল্যাটফর্মে নামবো সেটাতে। আবার ব্যাক করলাম আগের প্ল্যাটফর্মে। বুঝলাম ফেরার সময় কোন দিক দিয়ে বের হবো। প্ল্যাটফর্মে গিয়ে দাড়াতে না দাড়াতেই ট্রেন এসে গেলো। প্ল্যাটফর্মে দেখলাম কিনারা দিকে একটা হলুদ রেখা আছে। ট্রেন আসার সময় এই রেখা ক্রস করা যাবে না। বিদ্যুতে চলা এসব ট্রেনের গতি অনেক থাকে, বেশী কাছে দাড়ালে হয়তো টেনে নিয়ে ফেলে দিবে। (ঢাকাতেই একবার দুই রেল লাইনের মধ্যে দিয়ে হেটে যাবার সময় দুইপাশ দিয়ে দুই ট্রেন চলে আসায় বসে পড়েছিলাম। বাতাসের যে প্রচন্ড জোর ছিলো, মনে হচ্ছিলো ট্রেনের দিকে টানছিলো। )

যাই হোক ট্রেনে উঠে পড়লাম। সিটও পেলাম। অফিস টাইম বলে ভালই ভীড় ছিলো। কিন্তু আমাদের আশে-পাশে অনেকে দাড়িয়ে গেলেও আমাদের পাশে কেউ বসছিলো না। কাজিন আস্তে করে বললো এরা যে মনে মনে রেসিষ্ট তার প্রমাণ। তোমার গায়ের রং দেখে কেউ বসছে না। শুনে মনটা খারাপ হয়ে গেলো। কাজিন সান্তনার স্বরে বললো এতে মনে করার কিছু নাই। প্রয়োজনে তুমি পায়ের উপরে পা তুলে কিংবা চিতকাইত হয়ে যেতে পারো। জানলাম সুইডেনের আইন বিশেষ করে রেসিজমের বিরুদ্ধে আইন খূবই কড়া। জনগণের মনে যাই থাক, তারা সেটা প্রকাশ করে না। তবে এদের বাদ দিলে অনেক ভাল লোকও পেয়েছি, যারা পাশে বসে সেধে কথা বলে। কোন সাহায্য চাইলে না তো করেই না, অনেক বেশী করে ফেলে।

এবার আসলাম সেন্ট্রাল ষ্টেশনে। বিশাল ষ্টেশন। ফ্লোর বেশ কয়েকটা। মানে প্রতি তালাতেই বিভিন্ন ট্রেন আসছে আর যাচ্ছে। বিভিন্ন ফ্লোরে যাওয়ার জন্য এস্কেলেটার। কোনটা নিচ থেকে উপরে উঠছে, কোনটা উপর থেকে নিচে। আবার কোন কোনটা ছিলো ফ্লোরের সাথে সমান্তরাল। এখানে সবকিছু ঘড়ি ধরে চলে বলে, কেউ একটা সেকেন্ড নষ্ট করতে চায় না। বেশীর বাগ সময় দেখা যেতো বৃদ্ধরা ছাড়া প্রায় সবাই এস্কেলেটার এ উঠে আবার হাছে। তাতে যাওয়ার গতি বেড়ে যাচ্ছে।

কাজিন সময় নিয়েই এসেছিলো। ফেরার পথে কোন প্ল্যাটফর্ম থেকে উঠবো দেখিয়ে দিলো। এক ফাঁকে আমার পাসপোর্ট সাইজ ফটো তুলে ফেললাম ৪ কপি। এটা লাগবে মান্থলি টিকেটে। ফটো তোলার সিস্টেমটা দারুণ। একটা বক্সের মতো জিনিস, সুইডিশ ভাষায় কি সব লেখা। একট অংশে পর্দা ঘেরা। এই পর্দা ঘেলা অংশে টুল আছে। সামনে লেন্স, ফ্ল্যাশ  এবং কয়েন ফেলার স্লট আছে। স্লটে কয়েন ফেললে প্রথমে একটা লাল আলো জ্বলবে। এরপর চারবার ফ্ল্যশ জ্বলবে এবং ৪টা ফটো উঠবে। কিছুক্ষণ পর ফোকড় দিয়ে লম্বা কাগজে প্রিন্ট করা ফটো বের হয়ে আসবে। আমার প্রথম ছবিটা ভাল হয়নি, কিছু বুঝে উঠার আগেই ফ্ল্যাশ জ্বলেছিলো। ফটো প্রিন্ট হওয়ার পর দেখা গেলো মাথা নিচু করে কিছু বুঝার চেষ্টা করছিলাম। পোষ্ট অফিসে কাজ করার সময় প্রায়ই দেখতাম মেয়েরা দল বেধে গিয়ে ছবি তুলছে, বিভিন্ন ভঙ্গিতে। সেটা নিয়ে আবার হাসাহাসি। বর্তমানে মোবাইল ক্যামেরা দিয়ে সেলফি তোলার মতো আর কি।

আমরা আন্ডারগ্রাইন্ড থেকে বের হয়ে সারফেস ট্রেনের প্ল্যাটফর্মে আসলাম। এখানেও অনেক প্ল্যাটফর্ম, এক একটা ট্রেন এক একদিকে যাচ্ছে। সব ইলেক্ট্রিক ট্রেন। সাব এর গাড়ী কারখানায় যেতে হলে আমাকে এখান দিয়েই যেতে হবে। কিছুক্ষণের মধ্যেই কাজিনের ট্রেন এসে গেলো। এখন আমার পরীক্ষা সব চিনে বাসায় ফিরতে হবে। বুকের ভিতর অবশ্য একটু দুরু দুরু করছিলো।

সারফেস ট্রেনের প্ল্যাটফর্ম থেকে সাবওয়ের প্ল্যাটফর্মে আসলাম। যথা নিয়মে ট্রেনে চড়েও বসলাম। একসময় পৌছালাম বাসষ্টপে। ঠিকমতোই আবার বাসে চাপলাম। যেহেতু ১ ঘন্টার মধ্যেই ব্যাক করছি, নতুন করে আর কোথাও টিকেট কাটতে হলো না। কিন্তু ঘাপলা বাঁধলো নামার সময়। ড্রাইভার ষ্টপেজের নাম বলেছিলো কিনা তা আর মনে নাই। আমি ২ ষ্টপ আগেই ভুলে নেমে পড়লাম। নেমেই বুঝলাম ভুল হয়েছে। এবার যা শেখানো হয়েছিলো সব ভুলে গেলাম, মাথা পুরা আউলা। কিছুক্ষণ পর দেখলাম এক ছেলে আসলো। এসেই হাতের বই নিয়ে পড়া শুরু করলো। আমি টাইম টেবল দেখে কিছুতেই বের করতে পারলাম না পরের বাস কয়টায়, কেবল বুঝলাম আমি ২ ষ্টপ আগে নেমেছি।

ইংরেজী কথোপকথনে আমি কোন দিনই ভাল না। সব সময়ই মনে হতো (এবং এখনও হয়)  পেটে বোমা মারলেও এক ছটাক ইংরেজী বের হবে না। উইলস লিটল ফ্লাওয়ার স্কুলে পড়ার সময় আমাদের ইংরেজী পড়াতেন মিসেস জায়েদ, তাকে খূব ভয় পেতাম। কারণ স্কুলে এই ভদ্রমহিলা কোন ষ্টুডেন্টের সাথে ক্লাসে বা ক্লাসের বাইরে কখনও ইংরেজী ছাড়া কথা বলতেন না। আমি মোটামুটি ইয়েস, নো, ভেরি ওয়েল টাইপের ইংরেজী দিয়ে কাজ চালাতে চাইতাম ক্লাসে। বুঝতে বা লিখতে কোন সমস্যা ছিলো না, সমস্যা কেবল বলতে। মিসেস জায়েদ মনে হয় সেটা বুঝতে পেরেছিলেন। একদিন ক্লাসে বলছিলেন This boy has done his homework very nicely, but his English is poor. পরে বলেছিলেন আমি যেন ইংরেজী পত্রিকা পড়ি নিয়মিত, তাতে ইংরেজী ভোকাবুলারী বাড়বে, সাথে ইংরেজীও উন্নত হবে। টেকনিক্যালি আমার ইংরেজী ভুল ছিলো না, কিন্তু পুরানো ধাঁচের ইংরেজী লিখতাম বা বলতাম।

একটু ভয়ে ভয়েই বাসষ্টপেজের সেই তরুণকে জিজ্ঞাসা করলাম তুমি ইংরেজী বুঝো কি, আমার কথা শুনে একগাল হেসে বলে আমি ইউকে থেকে আসছি। মনে মনে বললাম তাহলে তো আরো মুশকিল, ভুল ধরে যদি। বলেই ফেললাম আমি এলতা গর্ড যাবো, ভুলে ২ ষ্টপ আগে নেমে পরেছি। এখন বুঝতেছিনা পরের বাস কয়টায় আসবে। সে টাইম টেবল দেখে বললো মিনিট দশেকের মধ্যে আশা করতে পারো। এরপর সে আমাকে টাইম টেবলে আঙ্গুল রেখে বুঝিয়ে দিলো কিভাবে সময়টা বের করতে হয়। বলেই সে আবার বই এ ডুবে গেলো। বাস আসতেই সে ইশারা করে বললো এই বাস। বাসে উঠার আগে তাকে একটা ধন্যবাদ দিলাম। আগেরবার দিতে ভুলে গিয়েছিলাম, অভ্যাস ছিলো না তো।

অবশেষে জায়গা মতো নামলাম। হেটে বাসায়ও পৌছালাম। শুনলাম মরিস আসবে আগামী কাল্। সে ই আমাকে সাব এর কারখানায় নিয়ে যাবে। আসলে আমার চাকরি জোগার করেছিলো এই মরিসই, আমি পরে জেনেছিলাম।

 

রিফাত জামিল ইউসুফজাই

জাতিতে বাঙ্গালী, তবে পূর্ব পূরুষরা নাকি এসেছিলো আফগানিস্তান থেকে - পাঠান ওসমান খানের নেতৃত্বে মোঘলদের বিরুদ্ধে লড়াই করতে। লড়াই এ ওসমান খান নিহত এবং তার বাহিনী পরাজিত ও পর্যূদস্ত হয়ে ছড়িয়ে পড়ে টাঙ্গাইলের ২২ গ্রামে। একসময় কালিহাতি উপজেলার চারাণ গ্রামে থিতু হয় তাদেরই কোন একজন। এখন আমি থাকি বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকায়। কোন এককালে শখ ছিলো শর্টওয়েভ রেডিও শোনা। প্রথম বিদেশ ভ্রমণে একমাত্র কাজ ছিলো একটি ডিজিটাল রেডিও কেনা। ১৯৯০ সালে ষ্টকহোমে কেনা সেই ফিলিপস ডি ২৯৩৫ রেডিও এখনও আছে। দিন-রাত রেডিও শুনে রিসেপশন রিপোর্ট পাঠানো আর QSL কার্ড সংগ্রহ করা - নেশার মতো ছিলো সেসময়। আস্তে আস্তে সেই শখ থিতু হয়ে আসে। জায়গা নেয় ছবি তোলা। এখনও শিখছি এবং তুলছি নানা রকম ছবি। কয়েক মাস ধরে শখ হয়েছে ক্র্যাফটিং এর। মূলত গয়না এবং নানা রকম কার্ড তৈরী, সাথে এক-আধটু স্ক্র্যাপবুকিং। সাথে মাঝে মধ্যে ব্লগ লেখা আর জাবর কাটা। এই নিয়েই চলছে জীবন বেশ।