হার্ডডিস্ক ডকিং ষ্টেশন

কয়েকদিন ধরে হার্ডডিস্ক থেকে একটা শব্দ হচ্ছিলো, রিড-রাইট করার সময়। কিন্তু ঠিক কোন হার্ডডিস্ক থেকে বুঝতে পারছিলাম না। একদিন সকালে বুটিং এর সময় জানান দিলো অমুক হার্ডডিস্ক রিপেয়ার করা প্রয়োজন। কিন্তু সিগেট এই হার্ডডিস্ক ছিলো অপেক্ষাকৃত নতুন। আমার তোলা সব ফটোগ্রাফ এবং মুভি কালেকশন সব এই ড্রাইভেই। আরেকটা পোর্টেবল ড্রাইভে ব্যাকআপ আছে অবশ্য। শেষ পর্যন্ত ঠিক করলাম নতুন আরেকটা হার্ডডিস্ক কিনে সেটাতে সব ফাইল ট্রান্সফার করবো। তবে সমস্যা হলো মাদারবোর্ডে আর নতুন কোন হার্ডডিস্ক লাগানোর উপায় নাই। নতুন হার্ডডিস্ক কিনলে পুরাতনটা খুলে রাখতে হবে। আর খুলে রাখলে দেখা যাবে কয়েকদিন পর হয়তো ডেড হয়ে গেছে। বাসায় খুজলে এরকম ২/৩টা হার্ডডিস্ক পাওয়া যাবে, যেগুলো পেপারওয়েট ছাড়া আর কিছু না।

সমাধান !?! দুটো সমাধান আছে। এক হলো এনক্লোজার কিনে পোর্টেবল হার্ডডিস্ক হিসেবে ব্যবহার করা। দ্বিতীয় হলো একটা ডকিং সিষ্টেম কেনা। ডাবল বে এর হার্ডডিস্ক ডকিং সিষ্টেম কিনলে দুটো হার্ডড্রাইভ রাখতে পারবো। আর ৩.৫ ইঞ্চির এই ড্রাইভগুলো বেশ ভারী, তাই পোর্টেবল হার্ডডিস্ক হিসেবে ব্যবহার করা অসূবিধাজনকই।

কিন্তু উত্তরায় দুটো কম্পিউটার মার্কেট ঘুরে একটাও হার্ডডিস্ক ডক পেলাম না। অনেকে জানান দিলো করোনার কারণে সাপ্লাই নাই। আবার কেউ কেউ ডক বলতে এনক্লোজার বুঝলো। এই নিয়ে ফেসবুকে ষ্ট্যাটাস দেয়ার পর ফারুক আহমেদ ভাই সাজেশন দিলেন Wavlink এর। অনলাইনে খূজতে গিয়ে দারাজে বেশ কিছু Orico / Wavlink এর ডকিং ষ্টেশন পেলাম, কিন্তু সবই চাইনিজ সেলার। আসতে মিনিমাম ২০/২৫ দিন। আবার দাম অপেক্ষাকৃত বেশী। কিছু ছিলো চাইনিজ ব্র্যান্ড, দাম অপেক্ষাকৃত কম। তবে সেগুলোর বে মাত্র একটা এবং বর্ণনায় বলা ছিলো ওয়েষ্টার্ন ডিজিটাল হার্ডডিস্ক কমপ্যাটিবল না। এগুলো যখন দেখছি তখন ফারুক আহমেদ ভাই ইনবক্সে একটা নাম্বার দিলেন, জানালেন এখানে ফোন দিলে হয়তো কিছু পেতে পারি।

পরদিন সকালে কল দিলাম। ভদ্রলোক জানালেন ST336A মডেলটি আছে, দাম ৩৮০০ টাকা মাত্র। সেদিন আবার বৃষ্টি হচ্ছে। কুরিয়ার করে পাঠাতে পারবেন কিনা জানতে চাইলে বললেন সম্ভব। টাকা কিভাবে পাঠাবো জানতে চাইলে একটা নাম্বার দিয়ে বললেন ‘ক্যাশ আউট’ করতে। প্রথমে খেয়াল করি নাই যে উনি সেন্ড মানি না করে ক্যাশ আউট করতে বলেছেন। আমি ক্যাশ আউট করে ঠিকানা এসএমএস করলাম। ফোন করে কনফার্ম হলাম যে উনি টাকাটা পেয়েছেন। এরপর অপেক্ষার পালা। পরদিন পাবো। 

পরদিন ফোন করে জানলাম উনি গতকালই পাঠিয়ে দিয়েছেন। হোয়াটসএপে কুরিয়ার সার্ভিসের রিসিটের ছবি পাঠালেন। বেলা একটার দিকে কুরিয়ারে পেয়ে গেলাম সেই বস্তু। 

গত কয়েকদিন ধরে নিয়মিত ব্যবহার করছি। কম্পিউটার এর সাহায্য ছাড়াই ডাইরেক্ট কপি করা যায়। তবে ডেস্টিনেশন ডিস্ক এর ক্যাপাসিটি সোর্স ডিস্ক এর সমান বা বেশী হতে হবে। ডিভাইসটিতে পাওয়ার অন / অফ সুইচ আছে, মানে প্রয়োজনের সময় ব্যবহার করতে পারেন। এছাড়া ২টি হাইস্পিড চার্জিং পোর্ট, ২টি ইউএসবি ৩.০ পোর্ট এবং কার্ড রিডার আছে। চার্জিং পোর্টগুলি লাল রং এর এবং এগুলি দিয়ে কেবল চার্জই করা যায়, এই কথা সবসময় মাথায় রাখতে হবে। ইউএসবি পোর্টে অন্যান্য ডিভাইসের মতো পো্টেবল হার্ডডিস্ক ব্যবহার করতে পারবেন। ২টি বে আছে, ২,৫ / ৩,৫ ইঞ্চি সাটা হার্ডডিস্ক / এসএসডি ব্যবহার করতে পারবেন। হার্ডডিস্ক এর সর্বোচ্চ ক্যাপাসিটি ১০ জিবি। 

বক্সে ডিভাইস (হার্ডডিস্ক ডকিং সিস্টেম) ছাড়াও ইউজার ম্যানুয়াল, পাওয়ার সাপ্লাই এবং ইউএসবি ক্যাবল ছিলো। আর ছিলো ৪টি থাম্ব স্ক্রু। প্রথমে বুঝতে পারছিলাম না এগুলো কোথায় লাগাবো। পরে এক ইউটিউব ভিডিওতে দেখলাম এগুলো হার্ডডিস্ক গুলিকে শক্তভাবে আটকানোর জন্য ব্যবহার করা হয়। 

এখন প্রশ্ন হলো – কমদামে এনক্লোজার কিনতে পারলে বেশী দাম দিয়ে কেন এই হার্ডডিস্ক ডকিং সিষ্টেম কিনবো। আপনার কাছে যদি ২.৫ ইঞ্চির হার্ডডিস্ক / এসএসডি থাকে তবে এনক্লোজারই ভাল হবে এবং সাশ্রয়ী। কিন্তু ৩.৫ ইঞ্চির হার্ডডিস্ক কিছুটা ভারী এবং সেটি পো্টেবল হার্ডডিস্ক হিসেবে ব্যবহার করা অসূবিধাজনক। এর এনক্লোজারের দামও অপেক্ষাকৃত বেশী (৮০০-১০০০ টাকা) এবং সব জায়গায় সব সময় পাওয়া যায় না।  আবার এরকম হার্ডডিস্ক যদি আপনার একাধিক থেকে থাকে তবে এরকম ডকিং সিষ্টেম হবে চমৎকার সমাধান। বার বার খোলা বা লাগানোর ঝামেলা কম। ২টি বে থাকলে একটা খুলে ৩য় বা ৪র্থ হার্ডডিস্ক ব্যবহার করতে পারবেন। বাজার ৪টি বে সহ ডকিং সিষ্টেম পাওয়া যায় যর দাম ৮.৫ হাজার টাকা। আলি এক্সপ্রেস সাইটে আরো বেশি বে সহ পাওয়া যায়, তবে সেগুলোর দাম আরো বেশী। আমার ২টি হার্ডডিস্ক এই ডকিং সিস্টেমে লাগিয়ে রেখেছি। আর পোর্টেবল যে হার্ডডিস্ক আছে সেটি ইউএসবি পোর্টে লাগিয়ে কাজ করতে পারবো।

আজ এপর্যন্তই।ভাল থাকবেন। 

RASA Technologies  থেকে কিনেছি।

রিফাত জামিল ইউসুফজাই

জাতিতে বাঙ্গালী, তবে পূর্ব পূরুষরা নাকি এসেছিলো আফগানিস্তান থেকে - পাঠান ওসমান খানের নেতৃত্বে মোঘলদের বিরুদ্ধে লড়াই করতে। লড়াই এ ওসমান খান নিহত এবং তার বাহিনী পরাজিত ও পর্যূদস্ত হয়ে ছড়িয়ে পড়ে টাঙ্গাইলের ২২ গ্রামে। একসময় কালিহাতি উপজেলার চারাণ গ্রামে থিতু হয় তাদেরই কোন একজন। এখন আমি থাকি বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকায়। কোন এককালে শখ ছিলো শর্টওয়েভ রেডিও শোনা। প্রথম বিদেশ ভ্রমণে একমাত্র কাজ ছিলো একটি ডিজিটাল রেডিও কেনা। ১৯৯০ সালে ষ্টকহোমে কেনা সেই ফিলিপস ডি ২৯৩৫ রেডিও এখনও আছে। দিন-রাত রেডিও শুনে রিসেপশন রিপোর্ট পাঠানো আর QSL কার্ড সংগ্রহ করা - নেশার মতো ছিলো সেসময়। আস্তে আস্তে সেই শখ থিতু হয়ে আসে। জায়গা নেয় ছবি তোলা। এখনও শিখছি এবং তুলছি নানা রকম ছবি। কয়েক মাস ধরে শখ হয়েছে ক্র্যাফটিং এর। মূলত গয়না এবং নানা রকম কার্ড তৈরী, সাথে এক-আধটু স্ক্র্যাপবুকিং। সাথে মাঝে মধ্যে ব্লগ লেখা আর জাবর কাটা। এই নিয়েই চলছে জীবন বেশ।