হ-য-ব-র-ল (৭)

১. ইদানিং ধৈর্য্য ব্যাপক কমে যাচ্ছে। অথচ বয়স বাড়ার সাথে সাথে এটাও বাড়ার কথা ছিলো, আমার মতে। কোন বই পড়তে বসলে কয়েক পাতা পড়ার পর আর ধের্য্য থাকে না। সিনেমা দেখতে বসলে কয়েক মিনিট পরেই সেটা পরিবর্তন করে অন্য আরেকটা চালু করি। সেটা বাদ দিয়ে আবার অন্যটা। ইদানিং ইউটিউব নিয়ে বসলেও কোনটাই পূরো দেখা হয় না। একটা থেকে আরেকটা, এভাবে চলতে্ই থাকে। কেমন যেন অস্থির লাগে। বুঝতেছি না কিছু।

২. পত্রিকা পড়েও আর এখন মজা পাই না। ক্লাস টু থেকে নিয়মিত পত্রিকা পড়ি। কোন একসময় তো পত্রিকার প্রিন্টারস লাইন পর্যন্ত সবই পড়ে ফেলতাম। টেন্ডার নোটিস থেকে শুরু করে ক্রয়-বিক্রয় কিংবা হারানো বিজ্ঞপ্তি কোনটাই বাদ যেতো না। আর এখন ? পত্রিকা জুড়েই কেবল হত্যা-ধর্ষণ আর সড়ক দূর্ঘটনার খবর। সেই সাথে আছে নানা রকম দূর্নীতির কাহিনী। কাহাতক আর এসব ভাল লাগে।

৩. প্রধানমন্ত্রী শিল্পী এন্ড্রু কিশোর এর চিকিৎসার জন্য ১০ লক্ষ টাকা দিয়েছেন এটা দেখে অনেকেই নাখোশ। এতো বড় শিল্পী’র চিকিৎসায় এতো টাকা দেয়া লাগবে কেন এই জাতীয় প্রশ্নে ফেসবুক সয়লাব। আসলে বিতর্ক শুরু হয়েছে অভিনেতা আহমেদ শরীফ’কে ৩৫ লাখ টাকা অনুদান দেয়ার পর থেকেই। এন্ড্রু কিশোর কোন এক সময়ের দাপুটে প্লেব্যাক সিঙ্গার ছিলেন। তার চিকিৎসা ১০ লাখ টাকার জন্যে হচ্ছে না এটা অনেকেই মানতে নারাজ। যারা এক আধটু গান শুনেন তারা জানেন বিগত কয়েক বছর ধরেই গানের শিল্পীদের দূরবস্থার কথা। পাইরেসীর কারণে কেউ ই আর শখ করে এলবাম বের করতে সাহস করেন না। সিনেমায় নায়ক-নায়িক ছাড়া আর কেউ তাদের প্রতিশ্রুত পারিশ্রমিক পান কিনা সে ব্যাপারে নানা কথা প্রচলিত। আর গান বা বই থেকে যে royalty পাওয়ার কথা সেটি মনে হয় না বাংলাদেশে তেমন একটা কেউ পান। বাকি থাকলো রেডিও-টিভি আর কনসার্টের আয়। সেটাও তো আর সারা বছর ধরে নিরবিচ্ছিন্ন ভাবে পাওয়ার জো নেই।

৪. চিকিৎসার ব্যয় এন্ড্রু কিশোরের জন্য যা আমার জন্যও তাই। এখানে নিয়ামক হলো রোগ। সাধারণ জ্বর হলে ২ টাকা দামের প্যারাসিটামল হলেই চলে আর ক্যান্সার, ডায়বেটিস, কিডনি, হার্ট এর রোগ হলে – আর কিছু মনে হয় না বলার আছে। কয়েকদিন আগে জ্বর সহ আরো কিছু লক্ষণ দেখে মনে হয়েছিলো ডেঙ্গু হতে পারে। ডাক্তারের কাছে যাওয়ার পর তিনি টেষ্ট করতে পাঠালেন। খরচ – স্থানীয় ডাক্তার ২০০ টাকা, ডায়গনষ্টিক সেন্টারের ডাক্তার ৫০০ টাকা, ডেঙ্গুর NS1 টেষ্ট ৫০০ টাকা, IgG + IgM টেষ্ট ৫০০ টাকা, CBC টেষ্ট ৪০০ টাকা। সর্বমোট ২১০০ টাকা। কপাল ভালো ডেঙ্গু হয় নাই। আমার না হয় সামর্থ্য ছিলো ২১০০ টাকা খরচ করার। এদেশে অনেকেরই সামর্থ্য নেই একবারে হাজার দূয়েক টাকা খরচ করার। তাদের কি হবে বা হচ্ছে !?! তারা সেই কবিরাজি বা হোমিওপ্যাথি’র উপর ভরসা করে আছেন। এমনকি ক্যান্সারের মতো কঠিন রোগেও তারা এসব চিকিৎসার দ্বারস্থ হন। তারপর !?! তারপর আর কি, ঘটি-বাটি বিক্রি করে হলেও শেষ চেষ্টা করেন।

৫. টেষ্টে ২২৪ রানে বাংলাদেশ আফগানিস্তানের কাছে হেরে গেছে। আজ বৃষ্টিও বাঁচাতে পারে নাই।

রিফাত জামিল ইউসুফজাই

জাতিতে বাঙ্গালী, তবে পূর্ব পূরুষরা নাকি এসেছিলো আফগানিস্তান থেকে - পাঠান ওসমান খানের নেতৃত্বে মোঘলদের বিরুদ্ধে লড়াই করতে। লড়াই এ ওসমান খান নিহত এবং তার বাহিনী পরাজিত ও পর্যূদস্ত হয়ে ছড়িয়ে পড়ে টাঙ্গাইলের ২২ গ্রামে। একসময় কালিহাতি উপজেলার চারাণ গ্রামে থিতু হয় তাদেরই কোন একজন। এখন আমি থাকি বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকায়। কোন এককালে শখ ছিলো শর্টওয়েভ রেডিও শোনা। প্রথম বিদেশ ভ্রমণে একমাত্র কাজ ছিলো একটি ডিজিটাল রেডিও কেনা। ১৯৯০ সালে ষ্টকহোমে কেনা সেই ফিলিপস ডি ২৯৩৫ রেডিও এখনও আছে। দিন-রাত রেডিও শুনে রিসেপশন রিপোর্ট পাঠানো আর QSL কার্ড সংগ্রহ করা - নেশার মতো ছিলো সেসময়। আস্তে আস্তে সেই শখ থিতু হয়ে আসে। জায়গা নেয় ছবি তোলা। এখনও শিখছি এবং তুলছি নানা রকম ছবি। কয়েক মাস ধরে শখ হয়েছে ক্র্যাফটিং এর। মূলত গয়না এবং নানা রকম কার্ড তৈরী, সাথে এক-আধটু স্ক্র্যাপবুকিং। সাথে মাঝে মধ্যে ব্লগ লেখা আর জাবর কাটা। এই নিয়েই চলছে জীবন বেশ।