২০২০ – বিষময়

আজ জুলাই এর ১ তারিখ। মানে গতকাল এই ২০২০ সালের প্রথম ৬ মাস অতিক্রান্ত হয়েছে। আর এই ৬ মাসের অভিজ্ঞতা কেমন ?

মার্চ মাসের ৮ তারিখ মনে হয় বাংলাদেশে প্রথম করোনা আক্রান্ত রোগী পাওয়া যায়। এরপর থেকে ৪ মাস ধরে আমরা কম-বেশী সবাই নিয়ন্ত্রিত জীবন যাপন করছি। বলা চলে করতে বাধ্য হচ্ছি। আশে-পাশের চেনা-পরিচিত অনেকেই আক্রান্ত হয়েছেন। কয়েকজন এর মধ্যেই দুনিয়ার মায়া ত্যাগ করে চলে গেছেন। সরকারী-বেসরকারী পর্যায়ে চিকিৎসা ব্যবস্থার যে চিত্র ফুটে উঠেছে তাতে শংকিত না হয়ে পারা যায় না। ঢাকা শহরের মানুষই রীতিমতো দিশেহারা। সেখানে জেলা সদর কিংবা উপজেলা পর্যায়ে কি হতে পারে বলাই বাহুল্য।

তবে এরই মধ্যে কিছু লোক করোনার সূযোগ নিয়ে টু-পাইস কামানোর ধান্দা করতেছে সেটাও রীতিমতো দৃশ্য মান। জেকেজি হেলথ সার্ভিসেস নামে একটি বেসরকারী প্রতিষ্ঠান সরকারী কর্মকর্তা(দের) মদতে একদিনেই ৩০ লক্ষ টাকা কামনোর খবর পত্রিকায় এসেছে। এর সিইও সহ ৫ জন কর্মকর্তা বর্তমানে গ্রেফতার অবস্থায় আছেন। দূর্নীতির এসব খবরের মাঝে কোন এক চক্র ডাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে একমাসে খাওয়ার খরচ ২০ কোটি টাকা বলে ভুয়া সংবাদ রটিয়ে দেয়।

তবে যে যাই বলেন আমাদের মানে সাধারণ জনগনের এই করোনা ভাইরাস সম্পর্কে ব্যাপক উদাসীনতা আসলে সবচেয়ে ক্ষতিকর। আমরা সবকিছু জানছি, শুনছি, বুঝছি – কিন্তু মার্কেট খুলে দেয়ার সাথে সাথে যেভাবে সবাই হুমড়ি খেয়ে মার্কেটে প্রবেশ করেছি, তাতে মনে হয় না আমাদের কোন ধরনের সচেতনতা আদৌ ছিলো। আবার অন্য দিকে করোনা আক্রান্ত ব্যক্ত বা পরিবারের প্রতি চরম অমানবিক আচরণ করতেও পিছপা হই নাই। অনেক সময়ই করোনা মৃত ব্যক্তির শেষকৃত্যে তার প্রতিবেশী / আত্মীয়স্বজন তো বটেই, পরিবারের একান্ত আপনজনদেরও কাছে পাওয়া যায় নাই। অদ্ভুত এই মানসিকতা।

বছরের ৬ মাসের মধ্যে ৪ মাসই গেলো এই রোগ নিয়ে। বাকি ৬ মাসে কি হয় তা এখনই বলা যাচ্ছে না। তবে ২০২০ এর এই ২০ যে বাস্তবিকই আমাদের জীবন’কে বিষময় করে তুলেছে তা বলার অপেক্ষা রাখে না। সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষ যেমন জীবিকার অভাবে কষ্টে দিন কাটাচ্ছে, সাধারণ চাকুরীজীবি্দের অনেকেই এখন চাকুরী হারানোর চিন্তায় আছেন। সেই সাথে বাসা ভাড়া, সন্তানের স্কুলের খরচ ইত্যাদি নিয়েও টেনশন তো আছেই। স্কুল বন্ধ থাকলেও এখন অনেক স্কুলইবেতন পরিশোধের জন্য নোটিশ দিচ্ছে। সব মিলিয়ে আসলে কারো সময়ই ভাল যাচ্ছে না।

তারপরও বলি – ভাল থাকুন, সুস্থ্য থাকুন।

রিফাত জামিল ইউসুফজাই

জাতিতে বাঙ্গালী, তবে পূর্ব পূরুষরা নাকি এসেছিলো আফগানিস্তান থেকে - পাঠান ওসমান খানের নেতৃত্বে মোঘলদের বিরুদ্ধে লড়াই করতে। লড়াই এ ওসমান খান নিহত এবং তার বাহিনী পরাজিত ও পর্যূদস্ত হয়ে ছড়িয়ে পড়ে টাঙ্গাইলের ২২ গ্রামে। একসময় কালিহাতি উপজেলার চারাণ গ্রামে থিতু হয় তাদেরই কোন একজন। এখন আমি থাকি বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকায়। কোন এককালে শখ ছিলো শর্টওয়েভ রেডিও শোনা। প্রথম বিদেশ ভ্রমণে একমাত্র কাজ ছিলো একটি ডিজিটাল রেডিও কেনা। ১৯৯০ সালে ষ্টকহোমে কেনা সেই ফিলিপস ডি ২৯৩৫ রেডিও এখনও আছে। দিন-রাত রেডিও শুনে রিসেপশন রিপোর্ট পাঠানো আর QSL কার্ড সংগ্রহ করা - নেশার মতো ছিলো সেসময়। আস্তে আস্তে সেই শখ থিতু হয়ে আসে। জায়গা নেয় ছবি তোলা। এখনও শিখছি এবং তুলছি নানা রকম ছবি। কয়েক মাস ধরে শখ হয়েছে ক্র্যাফটিং এর। মূলত গয়না এবং নানা রকম কার্ড তৈরী, সাথে এক-আধটু স্ক্র্যাপবুকিং। সাথে মাঝে মধ্যে ব্লগ লেখা আর জাবর কাটা। এই নিয়েই চলছে জীবন বেশ।