৩ডি প্রিন্টার (০২)

৩ডি প্রিন্টার যেহেতু অর্ডার করা হয়েই গেছে, ভাবলাম একটু পড়াশোনা করা অবশ্য কর্তব্য। অর্ডার করার আগেই অবশ্য খোঁজ নিয়েছিলাম প্রিন্টার দিয়ে প্রিন্ট করতে চাইলে কি নিজে ডিজাইন করে তারপর প্রিন্ট করতে হবে কিনা। এরকম হলে অবশ্য কখনই অর্ডার করতাম না। টুটাফাটা ফটোশপ জানলেও ৩ডি ডিজাইন সম্পর্কে বলতে গেলে কিছুই জানি না। খোঁজ নিতে গিয়ে জানা গেলো পৃথিবীর নানা প্রান্তের মানুষ তাদের তৈরী করা ৩ডি ডিজাইন বিনা মূল্যে ব্যবহারের জন্য অন্তর্জালে ছড়িয়ে দিয়েছেন। আসুন পরিচিত হই এরকম কিছু ওয়েব সাইটের সাথে যেখানে আমি আপনি পেতে পারি প্রয়োজনীয় ডিজাইনটি।

৩ডি ডিজাইন এর ক্ষেত্রে প্রথম যে নামটি আসবে সেটি হলো মেকার বট এর থিঙ্গিভার্স। সবচেয়ে বেশী ডিজাইন মনে হয় এখানেই পাওয়া যায়। তবে এই সাইটের ব্যাপারে একটি সাধারণ অভিযোগ হলো এখানে যে সব ডিজাইন আছে সব গুলি্ কিন্তু মানসম্মত না। এমন অনেক ডিজাইন আছে যেগুলি ত্রুটিপূর্ন।

দ্বিতীয় যে সাই সেটি হলো মাই মিনি ফ্যাক্টরি। এই সাইটে ফ্রি ডিজাইনের পাশাপাশি বেশ কিছু প্রিমিয়াম ডিজাইনও পাওয়া যায়, মানে সেগুলি আপনাকে কিনতে হবে। তবে মাই মিনি ফ্যাক্টরির সব ডিজাইনই আগে চেক করে তারপর ডাউনলোডের জন্য দেয়া হয়। সুতরাং ত্রুটিপূর্ন ডিজাইন আপনি কখনই এই সাইট থেকে পাবেন না।

তৃতীয় যে সাইট এর কথা বলবো সেটি আসলে একটি সার্চ ইঞ্জিন। বিভিন্ন সাইটে থাকা ৩ডি প্রিন্টেবল ডিজাইন খূঁজে বের করাই এই সার্চ ইঞ্জিনের কাজ। এখানে বলে রাখা ভাল এই সব ৩ডি ডিজাইন সাধারণত stl ফরম্যাটে থাকে। আর তাই এই সার্চ ইঞ্জিনের নাম STL Finder, আপনি শুধূ কিওয়ার্ড দিবেন আর এই সার্চ ইঞ্জিন খুঁজে বের করবে ডিজাইন।

আমি আপাতত এই ৩টি সাইট ব্যাপক ভাবে ব্যবহার করছি। কি আছে আর কি নাই, সেটা বুঝার চেষ্টা করছি। এখানে আরো একটু কথা বলে রাখা ভাল। STL ফরম্যাট পেলেই কিন্তু হবে না। এরপর এটিকে আপনার ৩ডি মডেলের উপযোগী করে gcode জেনারেট করতে হবে। আর সে কাজটি করবে স্লাইসার সফটওয়্যার। এসম্পর্কে সামনে কোন একদিন বলা যাবে।

সে পর্যন্ত ভাল থাকুন।

রিফাত জামিল ইউসুফজাই

জাতিতে বাঙ্গালী, তবে পূর্ব পূরুষরা নাকি এসেছিলো আফগানিস্তান থেকে - পাঠান ওসমান খানের নেতৃত্বে মোঘলদের বিরুদ্ধে লড়াই করতে। লড়াই এ ওসমান খান নিহত এবং তার বাহিনী পরাজিত ও পর্যূদস্ত হয়ে ছড়িয়ে পড়ে টাঙ্গাইলের ২২ গ্রামে। একসময় কালিহাতি উপজেলার চারাণ গ্রামে থিতু হয় তাদেরই কোন একজন। এখন আমি থাকি বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকায়। কোন এককালে শখ ছিলো শর্টওয়েভ রেডিও শোনা। প্রথম বিদেশ ভ্রমণে একমাত্র কাজ ছিলো একটি ডিজিটাল রেডিও কেনা। ১৯৯০ সালে ষ্টকহোমে কেনা সেই ফিলিপস ডি ২৯৩৫ রেডিও এখনও আছে। দিন-রাত রেডিও শুনে রিসেপশন রিপোর্ট পাঠানো আর QSL কার্ড সংগ্রহ করা - নেশার মতো ছিলো সেসময়। আস্তে আস্তে সেই শখ থিতু হয়ে আসে। জায়গা নেয় ছবি তোলা। এখনও শিখছি এবং তুলছি নানা রকম ছবি। কয়েক মাস ধরে শখ হয়েছে ক্র্যাফটিং এর। মূলত গয়না এবং নানা রকম কার্ড তৈরী, সাথে এক-আধটু স্ক্র্যাপবুকিং। সাথে মাঝে মধ্যে ব্লগ লেখা আর জাবর কাটা। এই নিয়েই চলছে জীবন বেশ।