আলাপন ১-৪-১৮

আলাপন ১-৪-১৮

এবছরের শুরুতেই একটা অলিখিত রেজোলিউশন ছিলো যে প্রচুর বই পড়বো আর ডকুমেন্টারি দেখবো ইউটিউবে। যাতে ফেসবুকের উপর চাপ কমানো যায়। বেশ কয়েক বছর আগে সামু ব্লগ নিয়েও একই সমস্যায় পড়েছিলাম। সেসময় ব্লগ এবং বাংলা ব্লগ জিনিসটা ছিলো আমার কাছে সম্পূর্ণ নতুন একটা ধারণা। লেখক কোন কালেই ছিলাম না এবং কল্পনাও করি নাই যে লেখক হবো বা এখনও মনে করি না না যে আমি লেখক। খূব বেশী হলে ব্লগার বলা যেতে পারে। তো সেই ২০০৮/৯ এর দিকে বন্ধু মামলুকার যখন সামহোয়্যার ইন এর খবর দিলো তখন এর ভাবগতিক বুঝতেই গিয়েছিলো কয়েকমাস। শুরুতে ব্লগ পড়া আর কমেন্ট পড়া। একসময় সাহস করে একটা একাউন্ট খুলে লিখেই ফেললাম সদ্য কেনা সনি ডিজিটাল ক্যামেরা নিয়ে। কয়েকজন দেখলাম সেটা পড়লো এবং কয়েকজন কমেন্টও করলো। বেশ একটা ফিল হলো। আমি কিছু একটা লিখেছি এবং মানুষ সেটা পড়েছে এবং কমেন্ট করেছে। এরপর থেকে নিয়মিতই সামু ব্লগে ব্লগিং এবং অন্যের লেখা পড়া। একসময় দেখা গেলে রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে যে পোষ্ট পড়ে শেষ করলাম, পরদিন সকালে উঠে সেখান থেকেই শুরু। একসময় তো দেখা গেলো ব্লগিং এর বাইরে ব্লগারদের সাথে দেখা-সাক্ষাৎ আর আড্ডাও হচ্ছে নিয়মিত। মানে শয়নে-স্বপনে জাগরনে ব্লগ আর ব্লগ, আরেকটু ক্লিয়ার করে বললে সামু ব্লগ। একসময় অবশ্য আস্তে-ধীরে ফিকে হওঢা শুরু করলো আকর্ষণ। আর ততোদিনে আকর্ষণ তৈরী হয়েছে ফেসবুকে।

২০১১ সালের দিকে কোন একদিন মেসেজ পেলাম দু’টো। প্রায় ভুলতে বসা নাম দু’টো ছিলো স্কুলের দুই সহপাঠির। আকর্ষন বেড়ে গেলো বহুগুণ। প্রায় হারিয়ে যাওয়া বন্ধু কিংবা বহুদূরে প্রবাসে বসতি গড়া কোন আত্মীয়, মূহুর্তেই খূব কাছাকাছি চলে আসলো। এখানেও বিভিন্ন গ্রুপে জয়েন করে পরিচিতি বাড়লো। তবে ফেসবুকে প্রাথমিক বন্ধু ছিলো কিন্তু সেই সামু ব্লগের ব্লগারকুল। এরপর আরো কত সোশ্যাল মিডিয়ায় একাউন্ট খুললাম। কোনটার পাসওয়ার্ড ভুলে গেলাম। ফেসবুকে সময় কাটানো বাড়তেই থাকলো। মোবাইল ফোন দিয়ে ব্রাউজ করা যায় বলে আরো বেশী বেশী সময় ফেসবুকেই কাটতে লাগলো।

একসময় মনে হলো এই আসক্তিও কাটানো দরকার। কিভাবে ? গতবছর শেষের দিকে রকমারি থেকে বই কিনে এক কনটেষ্টে হাজার পাঁচেক টাকার বই উপহার পেলাম। তখনই মনে হলো নতুন-পুরাতন বই পড়া যেতে পারে। কোন এক কালে পড়ার ইচ্ছা ভালই ছিলো, কিন্তু প্র-চু-র বই কেনার মতো সামর্থ্য ছিলো না। তখন পড়া হতো কেবল পত্রিকা, ম্যাগাজিন আর ধার করে আনা সামান্য কিছু বই। আর তাই ঠিক করলাম এখন বই পড়বো বেশী বেশী।

রকমারী থেকে বই পাওয়ার পর হঠাৎ একদিন চোখে পড়লো বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্রের ভামমান লাইব্রেরীর বাস। বাসা থেকে হাটা দূরত্বেই থামে সপ্তাহে একদিন। সদস্য হয়ে গেলাম। এখন ৩টি করে বই আনি, পড়ি। সাথে রকমারি কিংবা অন্যন্য সূত্র থেকে সংগ্রহ করা বই তো আছেই। গত ৩ মাসে ১৫টির মতো বই পড়া হয়েছে। এই মাস (এপ্রিল ২০১৮) শুরু করলাম হ্যারি পটার সিরিজের বই দিয়ে।

জানুয়ারী-ফেব্রুয়ারী-মার্চ ২০১৮
০১. ঢাকা আমার ঢাকা লেখক : সাঈদ আহমেদ
০২. তেইশ নাম্বার তৈলচিত্র লেখক : আলাউদ্দিন আল আজাদ
০৩. বঙ্গবন্ধুর দাফন – প্রত্যক্ষদর্শীর বিবরণ লেখক : মোঃ নুরুল আলম
০৪. ওঙ্কার লেখক : আহমদ ছফা
০৫. মরণ বিলাস লেখক : আহমদ ছফা
০৬. বাংলাদেশের শত্রু মিত্র লেখক : সোহরাব হোসেন
০৭. কালপ্রবাহে আদিবাসী লেখক : সালেক খোকন
০৮. বিজ্ঞানীদের কান্ড কারখানা লেখক : রাগিব হাসান
০৯. উত্তরাধিকার লেখক : সমরেশ মজুমদার
১০. কালবেলা লেখক : সমরেশ মজুমদার
১১. কালপুরুষ লেখক : সমরেশ মজুমদার
১২. মৌষলকাল লেখক : সমরেশ মজুমদার
১৩. উত্তর আমেরিকায় লেখক : মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান
১৪. শরবতে বাজিমাত লেখক : মুনির হাসান
১৫. আদর্শ হিন্দু হোটেল লেখক : বিভূতিভূষণ বন্দোপাধ্যায়

বইগুলো পড়া হয়েছে। এর মধ্যে ০৩/০৮/১৩/১৪ নাম্বার কেবল নিজের কেনা, বাকিগুলো বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্র ভ্রামমান লাইব্রেরী থেকে ধার নেয়া। ১০ নাম্বার পিডিএফ।