অন্তর্বাস

ইংরেজী আন্ডারওয়্যার বলতে আমরা এদেশে কেবল জাঙ্গিয়া বুঝে থাকি। কিন্তু পূরুষ-মহিলা নির্বিশেষে মূল পোষাকের নিচে যা পরে থাকেন সেটাই আন্ডারওয়্যার। অনেকে অবশ্য ইনারওয়্যার ও বলেন। আবার কেউ বা বলেন আন্ডারগার্মেন্টস। তবে এসবই সাধারণ অর্থে বলা। কাজ এবং ধরণ অনুযায়ী এবং ক্ষেত্র বিশেষে ব্যবহারকারী (পূরুষ / মহিলা) ভেদে ভিন্ন ভিন্ন অন্তর্বাসের এর ভিন্ন ভিন্ন নাম।

সেদিন ফেসবুক দেখার সময় একটি প্রবন্ধের লিংক পেলাম যেখানে বিভিন্ন অন্তর্বাসের ছোট ছোট ইতিহাস তুলে ধরা হয়েছে। সেখান থেকেই কয়েকটি আপনাদের জন্য।

১. টিশার্ট : ১৯৫০ সালের আগে টিশার্ট ব্যবহার করা হতো অন্তর্বাস হিসেবে। তবে শ্রমিক এবং খেলোয়ার এই দুই শ্রেণীর লোক হয়তো কাজ / খেলার সময় মূল পোষাক হিসেবেই ব্যবহার করতেন। অভিনেতা মার্লোন ব্র্যান্ডো ১৯৫১ সালে A Streetcar Named Desire ছায়ছবিতে টিশার্ট পরেই অভিনয় করেছিলেন। পরবর্তীতে আরো কিছু ছায়াছবিতে টিশার্ট পরে অভিনয় করে ব্যাপক জনপ্রিয় করে তুলেন। এরপর থেকেই আস্তে-ধীরে টিশার্ট প্রতিদিনের পোষাক হিসেবেই গণ্য হয়ে আসছে।

২. স্পোর্টস ব্রা : ১৯৭৭ সালে ৩ মহিলা (Hinda Miller, Lisa Lindahl, এবং Polly Palmer Smith) দৌড়বিদ মিলে জগব্রা (JogBra) পেটেন্ট করেন। এটাই আজকের স্পোর্টস ব্রা এর আদিরুপ। তবে জগব্রা তৈরী করা হয়েছিলো পূরুষদের অন্তর্বাস দিয়ে।

৩. রাতের পোষাক : কোন একসময় সাধারণ মানুষ কাজের পোষাক পরেই ঘুমাতো কিংবা দিগম্বর হয়ে। রাতের পোষাক (Nightgown) নামে বিশেষ বস্তুটি ব্যবহার করতেন কেবল উচ্চশ্রেণীর লোকজন। উনিশ শতকের শেষ দিকে এসে সর্ব সাধারণ এটি ব্যবহার শুরু করে। এরপর পায়জামা ব্যবহার শুরু করে রাতের পোষাক হিসেবে।

৪. বক্ষবন্ধনী : আগেকার দিনে Corset ব্যবহার করতেন মহিলারা। সেটিরই একটি সংক্ষিপ্ত রুপ বক্ষবন্ধনী হিসাবে ব্যবহৃত হতো। তবে এই করসেট পরা রীতিমতো ঝামেলার ছিলো। নিউইয়র্কের বাসিন্দা Mary Phelps Jacob কয়েকঘন্টার প্রচেষ্টায় দুটো পাতলা রুমাল দিয়ে একটি বক্ষবন্ধনী তৈরী করে ফেলেন। প্রায় স্বচ্ছ এবং পিঠ খোলা ড্রেসের নিচে করসেট পরার কোন সূযোগ ছিলো না। এই বক্ষবন্ধনী চমৎকার ভাবে ফিট হয়েছিলো তার ড্রেসের সাথে।

তিনি পরে তার এই ডিজাইন পেটেন্ট করিয়েছিলেন এবং তৈরী করাও শুরু করেছিলেন। কিন্তু স্বামীর আপত্তির কারণে তিনি তার পেটেন্ট বিক্রি করে দেন। ওয়ার্নার ব্রাদার্স করসেট কোম্পানি তার এই পেটেণ্ট ১৫০০ ডলারে কিনেছিলো এবং পরবর্তীতে তা থেকে কমপক্ষে ১৫ মিলিয়ন ডলার আয় করেছিলো।

পুরো প্রবন্ধটি পড়তে চাইলে এই লিঙ্কে টোকা দিন।

ভাল থাকুন নিরন্তর।

ফটো ক্রেডিট : উইকিমিডিয়া কমন্স

রিফাত জামিল ইউসুফজাই

জাতিতে বাঙ্গালী, তবে পূর্ব পূরুষরা নাকি এসেছিলো আফগানিস্তান থেকে - পাঠান ওসমান খানের নেতৃত্বে মোঘলদের বিরুদ্ধে লড়াই করতে। লড়াই এ ওসমান খান নিহত এবং তার বাহিনী পরাজিত ও পর্যূদস্ত হয়ে ছড়িয়ে পড়ে টাঙ্গাইলের ২২ গ্রামে। একসময় কালিহাতি উপজেলার চারাণ গ্রামে থিতু হয় তাদেরই কোন একজন। এখন আমি থাকি বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকায়। কোন এককালে শখ ছিলো শর্টওয়েভ রেডিও শোনা। প্রথম বিদেশ ভ্রমণে একমাত্র কাজ ছিলো একটি ডিজিটাল রেডিও কেনা। ১৯৯০ সালে ষ্টকহোমে কেনা সেই ফিলিপস ডি ২৯৩৫ রেডিও এখনও আছে। দিন-রাত রেডিও শুনে রিসেপশন রিপোর্ট পাঠানো আর QSL কার্ড সংগ্রহ করা - নেশার মতো ছিলো সেসময়। আস্তে আস্তে সেই শখ থিতু হয়ে আসে। জায়গা নেয় ছবি তোলা। এখনও শিখছি এবং তুলছি নানা রকম ছবি। কয়েক মাস ধরে শখ হয়েছে ক্র্যাফটিং এর। মূলত গয়না এবং নানা রকম কার্ড তৈরী, সাথে এক-আধটু স্ক্র্যাপবুকিং। সাথে মাঝে মধ্যে ব্লগ লেখা আর জাবর কাটা। এই নিয়েই চলছে জীবন বেশ।