আকাশবাণী

ব্রিটিশ রাজত্বে ভারতে প্রথম বেতার অনুষ্ঠান সম্প্রচারিত হয় ১৯২৩ সালের জুন মাসে বোম্বে প্রেসিডেন্সী রেডিও ক্লাব এবং অন্যান্য রেডিও ক্লাবের উদ্যোগে। ১৯২৭ সালের ২৩ শে জুলাই এক চুক্তি অনুসারে বেসরকারী ইন্ডিয়ান ব্রডকাস্টিং কোম্পানি লিমিটেড (আইবিসি) দুটি রেডিও স্টেশন পরিচালনা করার জন্য অনুমোদন পায়: বোম্বে স্টেশন যা ২৩ জুলাই ১৯২৭ সালে শুরু হয়েছিল এবং কলকাতা স্টেশন যা ২৬ আগস্ট ১৯২৭ সালে অনুষ্ঠান সম্প্রচার শুরু করেছিলো। সংস্থাটি দেউলিয়া হয়ে গেলে ১৯৩০ সালের ১ মার্চ সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করে এবং ১৯৩০ সালের ১ লা এপ্রিল পরীক্ষামূলকভাবে ইন্ডিয়ান স্টেট ব্রডকাস্টিং সার্ভিস (আইএসবিএস) এর সম্প্রচার শুরু করে। দুই বছর পরীক্ষামূলক সম্প্রচারের পর ১৯৩২ সালে এটি স্থায়ী হয়। ৮ই জুন, ১৯৩৬ সালে এটি অল ইন্ডিয়া রেডিও নামে পরিচিত হয়। পরবর্তীতে ১৯৫৭ সালে পুনরায় নাম পরিবর্তন করে আকাবাণী করা হয়, যদিও ইংরেজীতে এখনও অল ইন্ডিয়া রেডিও নামটি প্রচলিত আছে। 

১৯৩৯ সালে পূর্ব ভারতের ঢাকায় নতুন আরেকটি রেডিও ষ্টেশন চালু করা হয়। বর্তমানে এটি বাংলাদেশ বেতার। ১৮৪৭ সালের আগষ্ট মাসে অল ইন্ডিয়া রেডিও তাদের প্রথম মহিলা সংবাদ পাঠক নিয়োগ দেয়। সাঈদা বানো উর্দূ ভাষায় সংবাদ পাঠ করতেন।  

১৯৪৭ যখন ভারত স্বাধীনতা লাভ করে তখন অল ইন্ডিয়া রেডিও’র ১৮টি ট্রান্সমিটার সহ ৬টি সম্প্রচার কেন্দ্র ছিল। বেতার সম্প্রচারের ব্যাপ্তি ছিল ভৌগোলিক পরিসীমার ২.৫% এবং জনসংখ্যার ১১%। ভারতের স্বাধীনতার পর অল ইন্ডিয়া রেডিও’র দ্রুত বিকাশ ঘটে।

বর্তমানে অল ইন্ডিয়া রেডিও’র ১৪৪টা মিডিয়াম ওয়েভ ট্রান্সমিটার, ৫৪টি শর্টওয়েভ ট্রান্সমিটার এবং ১৩৯টি এফএম ট্রান্সমিটার সহ ২১৫টি সম্প্রচার কেন্দ্র সমন্বয়ে সম্প্রচার নেটওর্য়াক চালু আছে*। অল ইন্ডিয়া রেডিও ভৌগোলিক পরিব্যাপ্তির ১৯.৪২% এবং ৯৯.১৩% জনসংখ্যাকে এই সম্প্রচার সেবা দিয়ে যাচ্ছে । অভ্যন্তরীণ জনসংখ্যার জন্য অল ইন্ডিয়া রেডিও ২৪টি ভাষা এবং ১৪৬টি উপভাষায় এবং আন্তর্জাতিক শ্রোতাদের জন্য ১৭টি ভারতীয় ও ১০টি বিদেশী ভাষা সমন্বয়ে সর্বমোট ২৭টি ভাষায় বেতার সম্প্রচার করছে। 

* বেশ কিছু মিডিয়াম ওয়েভ এবং বেশীর ভাগ শর্টওয়েভ সম্প্রচার বন্ধ হয়ে গেছে। পরিবর্তে এফএম এবং ডিআরএম সম্প্রচার চালু করা হয়েছে। 

তথ্যসূত্র : উইকিপিডিয়া (বাংলা / ইংরেজী)

 

রিফাত জামিল ইউসুফজাই

জাতিতে বাঙ্গালী, তবে পূর্ব পূরুষরা নাকি এসেছিলো আফগানিস্তান থেকে - পাঠান ওসমান খানের নেতৃত্বে মোঘলদের বিরুদ্ধে লড়াই করতে। লড়াই এ ওসমান খান নিহত এবং তার বাহিনী পরাজিত ও পর্যূদস্ত হয়ে ছড়িয়ে পড়ে টাঙ্গাইলের ২২ গ্রামে। একসময় কালিহাতি উপজেলার চারাণ গ্রামে থিতু হয় তাদেরই কোন একজন। এখন আমি থাকি বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকায়। কোন এককালে শখ ছিলো শর্টওয়েভ রেডিও শোনা। প্রথম বিদেশ ভ্রমণে একমাত্র কাজ ছিলো একটি ডিজিটাল রেডিও কেনা। ১৯৯০ সালে ষ্টকহোমে কেনা সেই ফিলিপস ডি ২৯৩৫ রেডিও এখনও আছে। দিন-রাত রেডিও শুনে রিসেপশন রিপোর্ট পাঠানো আর QSL কার্ড সংগ্রহ করা - নেশার মতো ছিলো সেসময়। আস্তে আস্তে সেই শখ থিতু হয়ে আসে। জায়গা নেয় ছবি তোলা। এখনও শিখছি এবং তুলছি নানা রকম ছবি। কয়েক মাস ধরে শখ হয়েছে ক্র্যাফটিং এর। মূলত গয়না এবং নানা রকম কার্ড তৈরী, সাথে এক-আধটু স্ক্র্যাপবুকিং। সাথে মাঝে মধ্যে ব্লগ লেখা আর জাবর কাটা। এই নিয়েই চলছে জীবন বেশ।