তকদীর

ইদানিং টিভি দেখা হয় খূব কম। দেখলেও খবর আর ডিসকভারী বা এজাতীয় চ্যানেলই দেখি। নাটক / সিনেমা দেখি না বললেই চলে। নাটকের নামে প্রেমের প্যানপ্যানানি আর যাত্রপালার মতো ইচ্চস্বরে চিৎকার কাহাতক সহ্য হয়। বাসায় অবশ্য হিন্দি সিরিয়াল চলে, সেগুলো তো আরও অখাদ্য।

মাঝে মধ্যে ফেসবুকে যখন দেখি লোকজন ধূমায় নেটফ্লিক্স এর বিভিন্ন সিরিজ দেখে প্রশংসা করতেছে তখন বেশ খারাপই লাগে। কয়েকবার নিতে গিয়েও নেটফ্লিক্স নেই নাই। খরচ খূব বেশী মনে হয়েছিলো। কয়েকদিন ধরে টাইম লাইনে তকদীর আর ফেলুদা ফেরতের এড আর কয়েকজনের ষ্ট্যাটাস পড়লাম। মনে হলো নেটফ্লিক্স না নিয়ে বাংলা কোন ষ্ট্রিমিং সাইটের সাবস্ক্রিপশন নেয়া ভাল হবে। শেষতক নিলাম ওয়ানফ্লিক্স, যেটি বিভিন্ন ষ্ট্রিম থেকে ওয়েব সিরিজ ইত্যাদি দেখার সূযোগ করে দিচ্ছে।

অবশেষে দেখলাম তকদীর। আয়নাবাজি দেখে চঞ্জলের বিশেষ ফ্যান হয়েছিলাম। এই ওয়েব সিরিজেও তকদীরের চরিত্রে চঞ্চল হতাশ করেননি। সাথে মনোজ কুমার প্রামানিক (রানা) আর সোহাগ মন্ডল (মন্টু) একটু বেশী রকমের ভাল। অন্যান্য সবার অভিনয়ই কম-বেশী ভাল লেগেছে। তবে হিটম্যানের চরিত্রে পার্থ বড়ুয়া ফ্লপ। পরিচালক হয়তো কঠিন এক মানুষের মধ্যে সাহিত্য প্রীতি দেখাতে চেয়েছিলেন। কিন্তু পার্থ সেই চরিত্র একেবারে ক্লাউন বানিয়ে ফেলেছেন।

য়াই হোক। হইচই ওটিটি প্ল্যাটফর্মের এই সিরিজটি দেখতে পারেন। হতাশ হবেন না। আমি অবশ্য দেখেছি ওয়ানফ্লিক্সে।

রিফাত জামিল ইউসুফজাই

জাতিতে বাঙ্গালী, তবে পূর্ব পূরুষরা নাকি এসেছিলো আফগানিস্তান থেকে - পাঠান ওসমান খানের নেতৃত্বে মোঘলদের বিরুদ্ধে লড়াই করতে। লড়াই এ ওসমান খান নিহত এবং তার বাহিনী পরাজিত ও পর্যূদস্ত হয়ে ছড়িয়ে পড়ে টাঙ্গাইলের ২২ গ্রামে। একসময় কালিহাতি উপজেলার চারাণ গ্রামে থিতু হয় তাদেরই কোন একজন। এখন আমি থাকি বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকায়। কোন এককালে শখ ছিলো শর্টওয়েভ রেডিও শোনা। প্রথম বিদেশ ভ্রমণে একমাত্র কাজ ছিলো একটি ডিজিটাল রেডিও কেনা। ১৯৯০ সালে ষ্টকহোমে কেনা সেই ফিলিপস ডি ২৯৩৫ রেডিও এখনও আছে। দিন-রাত রেডিও শুনে রিসেপশন রিপোর্ট পাঠানো আর QSL কার্ড সংগ্রহ করা - নেশার মতো ছিলো সেসময়। আস্তে আস্তে সেই শখ থিতু হয়ে আসে। জায়গা নেয় ছবি তোলা। এখনও শিখছি এবং তুলছি নানা রকম ছবি। কয়েক মাস ধরে শখ হয়েছে ক্র্যাফটিং এর। মূলত গয়না এবং নানা রকম কার্ড তৈরী, সাথে এক-আধটু স্ক্র্যাপবুকিং। সাথে মাঝে মধ্যে ব্লগ লেখা আর জাবর কাটা। এই নিয়েই চলছে জীবন বেশ।