পূনরাবৃত্তি (ছোট গল্প)

জেসমিন আলীর মনে শান্তি নাই। মেয়েটার মাথায় যদি একটু বুদ্ধি থাকতো, পিছন থেকে তাকেই কেবল ঠেলতে হয়। সেই স্কুল/কলেজে থাকতে তাকেই বলতে হতো এই কর সেই কর, এখন দুই বাচ্চার মা হয়েছে এখনও তাকেই সেই একই কথা বলতে হয়। ছলাকলা অবশ্য ভালই পারে, বান্ধবীর বাবাকে পটিয়ে পূরো হস্তগত করা তো চাট্টিখানি কথা না। কিন্তু নিজে বুদ্ধি করে যে কিছু করবে তা না। এই সেদিন জেএফকে এয়ারপোর্টে সব গুবলেট পাকিয়ে ফেলছিলো। তিনি সময় মতো ব্যাপারটা হ্যান্ডেল করতে পেরেছিলেন বলে রক্ষা। তিনি মরলে যে এই মেয়ে কি করবে আল্লাহ-ই জানে। একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলেন জেসমিন আলী।

– কুসুম ! এই কুসুম !!
– আসছি মা। বলো কি বলবে।
– তুই এরকম হয়ে আছিস কেন ? একটু সাজগোজ করতে পারিস না!
– মা, কি যে বলো না।
– তোর যা বুদ্ধি। এমন কি বয়স হয়েছে তোর। সামনে তো পূরো জীবনটাই পড়ে আছে।

একটু দম নিলেন তহুরা আলী।
– হ্যারে, আজহার ছেলেটাকে দেখি না আজকাল। তোর খোজ খবর নেয় ? আমার কিন্তু বেশ লাগে ছেলেটাকে।
– ছেলে !?! তুমি ছেলে বলছো বলছো কেন মা। ওটা তো বুড়ো ব্যাটা একটা।
– তোর যা বুদ্ধি। পূরুষ মানুষের আবার বয়স কি। একটু মাথাটা খাটা বুঝলি। সামনে বইমেলা আসছে।
– মানে ?
– ছেলেটাকে আসতে বল আজ সন্ধ্যায়।
– আজকে ?

জেসমিন আলী এবার মেয়ের চোখে চোখ রেখে বললেন
– হ্যাঁ। আজকেই। আমি তোর দুই ছেলেকে নিয়ে বেড়াতে যাচ্ছি। রাত দশটার দিকে ফিরবো।

কথাটা বলার সময় জেসমিন আলীর বাম চোখট কি একটু ছোট হয়ে গিয়েছিলো – কে জানে।

ক্রিং ! ক্রিং !! ক্রিং !!!
এই ভর দূপূর বেলায় আবার কে ফোন করলো। একটু বিরক্ত হয়েই ফোনের রিসিভারটা হাতে নিলেন আজহার।
– হ্যালো। আজহার বলছি।
– কেমন আছো আজহার ? একদম কোন খোজ খবর নাও না আমার ?
– ও ভাবী! কেমন আছেন ?
– ভাবী ভাবী করবা না তো। নিজেকে কেমন ভারিক্কি লাগে। আমাকে কুসুম বলে ডাকবা এখন থেকে। আর তুমি করে বলবা বুঝছো।
– জ্বি আচ্ছা। (একটা ঢোক গিললো মাজহার)
– আবার আপনি!!!
– ঠিক আছে ! ঠিক আছে !!
– আজ সন্ধ্যায় কি করছো ? চলে আসো না ‘দখিনা হাওয়া’য়। আমার খূব লোনলি লাগছে।
– কেন তোমার আম্মা আর বাচ্চারা … কথাটা শেষ করলো না মাজহার।
– ওরা বাইরে গেছে বেড়াতে। দশটার আগে ফিরবে না। আসো না, প্লিজ।
– ঠিক আছে। সন্ধ্যা সাতটায় ….
– হুম।

To Be Continued
[এই গল্পের ঘটনা এবং চরিত্র সবই কাল্পনিক। বাস্তবের কোন ঘটনা বা চরিত্রের সাথে সাদৃশ্য নিতান্তই কাকতাল]

রিফাত জামিল ইউসুফজাই

জাতিতে বাঙ্গালী, তবে পূর্ব পূরুষরা নাকি এসেছিলো আফগানিস্তান থেকে - পাঠান ওসমান খানের নেতৃত্বে মোঘলদের বিরুদ্ধে লড়াই করতে। লড়াই এ ওসমান খান নিহত এবং তার বাহিনী পরাজিত ও পর্যূদস্ত হয়ে ছড়িয়ে পড়ে টাঙ্গাইলের ২২ গ্রামে। একসময় কালিহাতি উপজেলার চারাণ গ্রামে থিতু হয় তাদেরই কোন একজন। এখন আমি থাকি বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকায়। কোন এককালে শখ ছিলো শর্টওয়েভ রেডিও শোনা। প্রথম বিদেশ ভ্রমণে একমাত্র কাজ ছিলো একটি ডিজিটাল রেডিও কেনা। ১৯৯০ সালে ষ্টকহোমে কেনা সেই ফিলিপস ডি ২৯৩৫ রেডিও এখনও আছে। দিন-রাত রেডিও শুনে রিসেপশন রিপোর্ট পাঠানো আর QSL কার্ড সংগ্রহ করা - নেশার মতো ছিলো সেসময়। আস্তে আস্তে সেই শখ থিতু হয়ে আসে। জায়গা নেয় ছবি তোলা। এখনও শিখছি এবং তুলছি নানা রকম ছবি। কয়েক মাস ধরে শখ হয়েছে ক্র্যাফটিং এর। মূলত গয়না এবং নানা রকম কার্ড তৈরী, সাথে এক-আধটু স্ক্র্যাপবুকিং। সাথে মাঝে মধ্যে ব্লগ লেখা আর জাবর কাটা। এই নিয়েই চলছে জীবন বেশ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *