বাংলাদেশ বেতার (২)

বাংলাদেশ বেতারের ওয়ার্ল্ড মিউজিক অনুষ্ঠানের সাথে সাথে বাণিজ্যিক কার্যক্রম এর বিভিন্ন স্পন্সর্ড অনুষ্ঠান, দূর্বার, উত্তরণ এসব অনুষ্ঠান শুনতাম। বাণিজ্যিক কার্যক্রমের বিভিন্ন সিনেমার স্পন্সর্ড অনুষ্ঠানে তখন মাজহারুল ইসলাম এবং নাজমুল হুসাইন এর কন্ঠ বেশ পরিচিত ছিলো। মাজহারুল ইসলাম পরিচিত ছিলেন ‘হা ভাই’ নামে। কোন অনুষ্ঠানের শুরুতে ‘হা ভাই’ বলে লম্বা টান দিতেন। বাণিজ্যিক কার্যক্রমের আরেক সুপরিচিত ক্ণ্ঠ ছিলেন হেনা কবির। প্রায় প্রতিদিনই অনুষ্ঠান শুরু করতেন তিনি। সৈনিক ভাইদের জন্য অনুষ্ঠান দূর্বার পরিচালনা করতেন হাবিবুর রহমান জালাল। স্মৃতি যদি ভুল না করে তবে রেডিও ম্যাগাজিন উত্তরণ পরিচালনা করতেন শফি কামাল।

বর্তমানে ফিরে আসি। ইদানিং জনসংখ্যা, স্বাস্থ্য ও পুষ্টি সেল পরিচালিত বিভিন্ন অনুষ্ঠান শুনছি অন্যান্য অনুষ্ঠানের পাশাপাশি। তখন পরিবার পরিকল্পনা সংক্রান্ত বিভিন্ন তথ্যই দেয়া হতো বলে মনে পড়ে। আর সেকারণেই হয়তো এই অনুষ্ঠান শোনা হতো না। বর্তমানে যখন শুনছি, আমার মনে হচ্ছে অনুষ্ঠানগুলি অসাধারণ। বর্তমানে কেবল পরিবার পরিকল্পনা নিয়ে অনুষ্ঠান হচ্ছে না, সাথে বিভিন্ন ডাক্তারী পরামর্শ, পুষ্টি বিষয়ে পরামর্শ সহ আরো নানা বিষয় যোগ হয়েছে। নিয়মিত শুনলে জীবন-যাপন সম্পর্কে নানা প্রয়োজনীয় তথ্য পেতে পারেন। আর সবচেয়ে ভাল লাগে তাদের প্রচারিত বিভিন্ন নাটক। বিনোদনের ফাঁকে ফাঁকে স্বাস্থ্য বিষয়ক নানা তথ্যও দেয়া হয় নাটকের পাত্রপাত্রীদের মাধ্যমে। 

রেডিও সম্প্রচারের পাশাপাশি বাংলাদেশ বেতার তাদের বিভিন্ন অনুষ্ঠান এখন ফেসবুক এবং ইউটিউবে প্রচার করছে। আছে মোবাইল এপ। মানে হলো আপনার অনুষ্ঠান শুনতে কোন সমস্যাই নাই। সেই সাথে বেতার কর্তৃপক্ষ তাদের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে কুইজ চালু করেছেন। কুইজের উত্তর দিয়ে যে কেউ জিততে পারেন আকর্ষণীয় পুরস্কার। কোন অনুষ্ঠানে দেয়া হচ্ছে রেডিও, কোন অনুষ্ঠানে নগদ টাকা অথবা প্রাইজবন্ড। 

গত কয়েকমাস ধরে বাংলাদেশ বেতারের বিভিন্ন অনুষ্ঠান শুনছি সরাসরি কিংবা ফেসবুক / ইউটিউব এর মাধ্যমে। এখনও অনেক অনুষ্ঠান সেভাবে শোনা হচ্ছে না সময়ের অভাবে। যেমন : নাটক। রেডিও’তে সরাসরি শুনি বাংলাদেশ বেতার ঢাকা এবং খুলনার অনুষ্ঠান। বাকি কেন্দ্রের অনুষ্ঠান মাঝে মধ্যে শুনি মোবাইল এপ দিয়ে। 

আপাতত এপর্যন্তই। ভবিষ্যতে হয়তো কোন নির্দিষ্ট অনুষ্ঠান নিয়ে লিখবো।

হ্যাপি লিসেনিং !!!

রিফাত জামিল ইউসুফজাই

জাতিতে বাঙ্গালী, তবে পূর্ব পূরুষরা নাকি এসেছিলো আফগানিস্তান থেকে - পাঠান ওসমান খানের নেতৃত্বে মোঘলদের বিরুদ্ধে লড়াই করতে। লড়াই এ ওসমান খান নিহত এবং তার বাহিনী পরাজিত ও পর্যূদস্ত হয়ে ছড়িয়ে পড়ে টাঙ্গাইলের ২২ গ্রামে। একসময় কালিহাতি উপজেলার চারাণ গ্রামে থিতু হয় তাদেরই কোন একজন। এখন আমি থাকি বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকায়। কোন এককালে শখ ছিলো শর্টওয়েভ রেডিও শোনা। প্রথম বিদেশ ভ্রমণে একমাত্র কাজ ছিলো একটি ডিজিটাল রেডিও কেনা। ১৯৯০ সালে ষ্টকহোমে কেনা সেই ফিলিপস ডি ২৯৩৫ রেডিও এখনও আছে। দিন-রাত রেডিও শুনে রিসেপশন রিপোর্ট পাঠানো আর QSL কার্ড সংগ্রহ করা - নেশার মতো ছিলো সেসময়। আস্তে আস্তে সেই শখ থিতু হয়ে আসে। জায়গা নেয় ছবি তোলা। এখনও শিখছি এবং তুলছি নানা রকম ছবি। কয়েক মাস ধরে শখ হয়েছে ক্র্যাফটিং এর। মূলত গয়না এবং নানা রকম কার্ড তৈরী, সাথে এক-আধটু স্ক্র্যাপবুকিং। সাথে মাঝে মধ্যে ব্লগ লেখা আর জাবর কাটা। এই নিয়েই চলছে জীবন বেশ।