বিত্ত-বৈভব

গতকাল গিয়েছিলাম থানায়, একটা জিডি করতে। দরকারী একটা ডকুমেন্ট বেখেয়ালে হারিয়ে ফেলেছিলাম। নতুন ডকুমেন্ট বের করতে হলে আগে জিডি করতে হবে। অনলাইনে চেষ্টা করেছিলাম, কিন্তু কাজ হয় নাই। এপ এ কি একটা প্যাঁচ লাগিয়ে রেখেছেন তেনারা, রেজিষ্ট্রেশন ই করা যায় না। জিডি তো আরো পরে।

যাই হোক। একটা দরখাস্ত তৈরী করে দুই কপি প্রিন্ট করে চলে গেলাম থানায়। ভিতরে ঢুকতেই এক অস্ত্রধারী পুলিশের দেখা পেলাম। ডিউটি অফিসারের কথা জিজ্ঞাসা করতেই অদূরে থাকা টেবিল-চেয়ারের দিকে ইঙ্গিত করে বসতে বললেন। সাথে যোগ করলেন একটু চা খেতে গেছেন। একটু অবাক হলেও আমি বসে আমার দরখাস্ত বের করলাম। তখন খেয়াল করলাম দরখাস্তে দস্তখত করি নাই এবং ব্যাগে কোন কলমও নাই। কি আর করা। সেই অস্ত্রধারীর দিকে চোখ যেতেই দেখি তার পকেটে কলম। উঠে গিয়ে কলম চাইলাম। উনিও সাথে সাথেই কলম বের করে দিলেন। দস্তখত করার পর কলম ফেরত দিতে গেলে উনি হাতের দরখাস্তের দিকে তাকিয়ে বললেন ‘ও লিখে নিয়ে আসছেন। তাহলে একবারে দোতালায় চলে যান’। আমি তখন বিষয় বুঝার চেষ্টা করতে করতে দোতালার দিকে রওনা দিলাম।

দোতালায় প্রথম যে রুমের দিকে চোখ গেলো সেখানে লেখা ‘ডিউটি অফিসার’। সোজা ঢুকে পড়তেই দেখলাম ভিতরে ৩ জন বসে আছেন। বাকিরা দাড়িয়ে। বসা একজন ওয়্যারলেস সেট নিয়ে ব্যস্ত। বাকি দুজন দর্শনার্থীদের সাথে কথা বলছেন।

আমার আগের জন এসেছেন এফডিআর হারানো বিষয়ে জিডি করতে। ডিউটি অফিসার তাকে দরখাস্তে আরো কি কি তথ্য লেখার পরামর্শ দিলেন। ভদ্রলোক যখন লিখছিলেন পাশে দাড়ানো সাদা পোষাকের এক পুলিশ সদস্য তাকে জিজ্ঞাসা করলেন আপনি ‘অমুক’ না। ভদ্রলোক মাথা নেড়ে হ্যাঁ বলে জানালেন তিনি ঠিক চিনতে পারছেন না। পুলিশ সদস্য তখন তার পরিচয় দিয়ে বললেন আপনি তো ঐ থানার লোক, এই এলাকায় চলে এসেছেন নাকি। ভদ্রলোক এবার হেসে জানালেন এই এলাকায় তার আব্বার বাসা। তারই এফডিআর এর কাগজ হারানো গেছে। পুলিশ ভদ্রলোক হাসতে হাসতে জানতে চাইলেন আপনাদের কি আরো বাসা বাড়ী আছে। সেই ভদ্রলোক ও হাসতে হাসতে বললেন এই ধরেন ৭/৮টা। শুনে পুলিশ সাহেব এবার চোখ কপালে তুলে বললেন আমরা একটাও করতে পারি না আর আপনাগো কত কিছু।

তার কাজ হলে আমি আমার দরখাস্ত পেশ করলাম। ডিউটি অফিসার আমাকে জিজ্ঞাসা করলেন বাসা থেকে হারিয়েছে ? কবে নাগাদ। আমি হ্যাঁ বলতেই উনি বললেন গতকালের ডেট দিয়ে দিলাম। তারপর সিল মেরে পাশের অফিসারের কাছে দিলেন। তিনি এককপি রেখে রেজিস্ট্রার খাতায় সংক্ষেপে লিখে রাখলেন। সাথে অন্য কপিটা আমাকে দিলেন।

আমি কপি হাতে নিয়ে বের হওয়ার সময় দেখি সেই ভদ্রলোক আর পুলিশ সাহেব সিড়িতে দাড়িয়ে কথা বলছেন। আমি তাদের পাশ কাটিয়ে বের হয়ে এলাম। রিক্সা নিয়ে যখন বাসার প্রায় কাছে এসে পড়েছি তখন পাশ দিয়ে যাওয়া এক ভ্যাসপা থেকে সেই ভদ্রলোক বলে উঠলেন বাহ! আপনি তো দেখি চলে এসেছেন। আমি একটু হাসলাম।

কিন্ত আমার মাথায় প্রথম যা আসলো তা হলো ৭/৮ বাড়ীর মালিক কিংবা মালিকের ছেলে ভ্যাসপায় কেন !?! পাজেরো থাকা দরকার ছিলো। 
Photo by Pixabay

রিফাত জামিল ইউসুফজাই

জাতিতে বাঙ্গালী, তবে পূর্ব পূরুষরা নাকি এসেছিলো আফগানিস্তান থেকে - পাঠান ওসমান খানের নেতৃত্বে মোঘলদের বিরুদ্ধে লড়াই করতে। লড়াই এ ওসমান খান নিহত এবং তার বাহিনী পরাজিত ও পর্যূদস্ত হয়ে ছড়িয়ে পড়ে টাঙ্গাইলের ২২ গ্রামে। একসময় কালিহাতি উপজেলার চারাণ গ্রামে থিতু হয় তাদেরই কোন একজন। এখন আমি থাকি বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকায়। কোন এককালে শখ ছিলো শর্টওয়েভ রেডিও শোনা। প্রথম বিদেশ ভ্রমণে একমাত্র কাজ ছিলো একটি ডিজিটাল রেডিও কেনা। ১৯৯০ সালে ষ্টকহোমে কেনা সেই ফিলিপস ডি ২৯৩৫ রেডিও এখনও আছে। দিন-রাত রেডিও শুনে রিসেপশন রিপোর্ট পাঠানো আর QSL কার্ড সংগ্রহ করা - নেশার মতো ছিলো সেসময়। আস্তে আস্তে সেই শখ থিতু হয়ে আসে। জায়গা নেয় ছবি তোলা। এখনও শিখছি এবং তুলছি নানা রকম ছবি। কয়েক মাস ধরে শখ হয়েছে ক্র্যাফটিং এর। মূলত গয়না এবং নানা রকম কার্ড তৈরী, সাথে এক-আধটু স্ক্র্যাপবুকিং। সাথে মাঝে মধ্যে ব্লগ লেখা আর জাবর কাটা। এই নিয়েই চলছে জীবন বেশ।