বেড সোর এবং অন্যান্য

অসুস্থ্য মানুষ যদি দীর্ঘদিন শয্যাগত থাকে এবং নড়াচড়া করতে না পারে বা কম করে তাহলে প্রথমেই যে জিনিস নিয়ে ভয় থাকে তা হলো বেড সোর। এর আরেক নাম প্রেশর আলসার। আম্মারও হয়েছিলো, আব্বারও হয়েছে। 

এই বেড সোর যাতে না হয় তার জন্য প্রাথমিকভাবে দরকার এয়ার ম্যাট্রেস। এই ম্যাট্রেসে ছোট ছোট পকেট থাকে, একটি এয়ার পাম্প দিয়ে সেই পকেট গুলি প্রতিনিয়ত বাতাস দিয়ে পূর্ণ করা হয় এবং খালি করা হয়। এতে চিৎ হয়ে শুয়ে থাকলে পিঠে সবসময় একই রকম চাপ থাকে না, রক্ত চলাচলেও সূবিধা হয়। এই এয়ার ম্যাট্রেসের দাম মোটামুটি ২.৫ হাজার টাকা বা কিছু কম-বেশী। এখন সবাই হয়তো এই ম্যাট্রেস কিনতে পারে না। তখন করণীয় কি ? এয়ার ম্যাট্রেস থাকুক বা নাই থাকুক, রোগীকে কিছুক্ষণ পর পর পাশ ফিরিয়ে ডান কাতে বা বা বা কাতে শোয়ালে এই বেড সোর হওয়ার সম্ভাবনা কমে আসে। সেই সাথে রোগীর বিছানা এবং কাপড়-চোপড় সবসময়ই শুকনা রাখতে হবে। ডায়পার ব্যবহার করলে নিয়মিত বিরতিতে ডায়পার পরিবর্তন করা উচিত। 

এতো কিছুর পরও যদি বেড সোর হয় তখন কি করণীয় ? প্রথমেই আক্রান্ত স্থান পরিস্কার করে শুকানো দরকার। প্রয়োজনে কাপড় সরিয়ে ছোট একটি ফ্যান দিয়ে আক্রান্তস্থানে বাতাস দেয়া দরকার যাতে ক্ষত তাড়াতাড়ি শুকায়। আব্বা-আম্মা দূজনের জন্যই ডাক্তার একধরণের ক্রিম সাজেষ্ট করেছেন। আর একটা স্প্রে পাওয়া যায় যেটি ব্যবহারে ক্ষত তাড়াতাড়ি শুকায়। 

আব্বার এবারের বেড সোর এমন এক জায়গায় হয়েছে (শিড়দাড়ার নিচের দিকে) যে সেটি সবসময়ই প্রস্রাব / পায়খানার সংস্পর্শে আসছে। ফলে পুরোপুরি শুকাচ্ছে না। শেষতক একজনের পরামর্শে কনডম ক্যাথেটার নামে এক জিনিস ব্যবহার শুরু করেছিলাম। জিনিসটা ল্যাটেক্স এর তৈরী, কনডম আকৃতির, তবে শেষ মাথা খোলা নলের মতো। এখানে ইউরিন ব্যাগের নল ঢুকিয়ে দিলে প্রস্রাব সরাসরি ব্যাগে এসে জমা হয়। সমস্যা হলো এই কনডম ক্যাথেটার একদিনের বেশী ব্যবহার করা ঠিক না। কারণ ঐ অংশে আবার ঘা তৈরী হতে পারে। 

সেদিন ডাক্তার সাহেবের সাথে হঠাৎ রাস্তায় দেখা। কুশল বিনিময়ের পর আব্বার কথা জিজ্ঞাসা করলেন। জানালাম, তিনি শুনে বললেন কনডম ক্যাথেটার ব্যবহারের ব্যাপারে সর্তক করলেন। সেই সাথে বললেন নিয়মিত পরিবর্তন করতে এবং কিছুক্ষণ আলো-বাতাসে খোলা রাখতে যাতে ঐ অংশটা শুকিয়ে যায়। এই কনডম ক্যাথেটারটি কনডমের মতো পাতলা না, বেশ মোটাই এবং চামড়ার সাথে লেগে থাকে। ফলে জায়গাটা সবসময়ই ভেজা ভেজা থাকে ঘাম এবং প্রস্রাবের কারণে। 

ডাক্তার সাহেব এ প্রসঙ্গে তার এক রোগীর কথা বললেন। প্যারালাইজড হয়ে যাওয়ার পর ভদ্রলোক কোন এক মফস্বল শহরে চলে যান। সেখানে এসব মেডিকেল সাপ্লাই পাওয়া যেতো না। তারা এক অভিনব জিনিস তৈরী করে ফেলে। পলিথিন ব্যাগের খোলা অংশ আগুন দিয়ে জোড়া দেয়া হয় প্রথমে। তারপর শিশ্ন ঢোকার মতো ছিদ্র করা হয় এক অংশে। প্রস্রাব হলে কিছুক্ষণ পর পর সেই ব্যাগ অপসারণ করে নতুন আরেকটা ব্যাগ দেয়া হতো। ব্যবহৃত ব্যাগগুলি ধূয়ে-শুকিয়ে আবার ব্যবহার করা হতো। 

বুদ্ধি আমার খূব পছন্দ হয়েছে। ভাবতেছি পলিথিন ব্যাগেv সাথে ইউরিন ব্যাগের পাইপ জুড়ে দিতে পারলেই লম্বা সময়ের জন্য এটা ব্যবহার করা যেতে পারে। বিশেষ করে রাতের জন্য এই ব্যবস্থা দরকার যাতে ওভারফ্লো না হয়। 

কবি যথার্থই বলেছেন necessity is the mother of invention 🙂 

কনডম ক্যাথেটার দারাজ
এখন ব্যবহার করছি এই জিনিস । তবে এগুলো যারা সার্জিক্যাল আইটেম বিক্রি করে তাদের কাছেও পাবেন। আমি কনডম ক্যাথেটার স্থানীয় দোকান থেকে কিনেছি। আর পরের আইটেমটি আলি এক্সপ্রেস থেকে আনিয়েছি। 

রিফাত জামিল ইউসুফজাই

জাতিতে বাঙ্গালী, তবে পূর্ব পূরুষরা নাকি এসেছিলো আফগানিস্তান থেকে - পাঠান ওসমান খানের নেতৃত্বে মোঘলদের বিরুদ্ধে লড়াই করতে। লড়াই এ ওসমান খান নিহত এবং তার বাহিনী পরাজিত ও পর্যূদস্ত হয়ে ছড়িয়ে পড়ে টাঙ্গাইলের ২২ গ্রামে। একসময় কালিহাতি উপজেলার চারাণ গ্রামে থিতু হয় তাদেরই কোন একজন। এখন আমি থাকি বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকায়। কোন এককালে শখ ছিলো শর্টওয়েভ রেডিও শোনা। প্রথম বিদেশ ভ্রমণে একমাত্র কাজ ছিলো একটি ডিজিটাল রেডিও কেনা। ১৯৯০ সালে ষ্টকহোমে কেনা সেই ফিলিপস ডি ২৯৩৫ রেডিও এখনও আছে। দিন-রাত রেডিও শুনে রিসেপশন রিপোর্ট পাঠানো আর QSL কার্ড সংগ্রহ করা - নেশার মতো ছিলো সেসময়। আস্তে আস্তে সেই শখ থিতু হয়ে আসে। জায়গা নেয় ছবি তোলা। এখনও শিখছি এবং তুলছি নানা রকম ছবি। কয়েক মাস ধরে শখ হয়েছে ক্র্যাফটিং এর। মূলত গয়না এবং নানা রকম কার্ড তৈরী, সাথে এক-আধটু স্ক্র্যাপবুকিং। সাথে মাঝে মধ্যে ব্লগ লেখা আর জাবর কাটা। এই নিয়েই চলছে জীবন বেশ।