রেডিও কিনবেন ?

আপনার একটা রেডিও লাগবে। কিন্তু কোন রেডিও কিনবেন ?
 
আমি তাহলে প্রথমেই প্রশ্ন করবো আপনার রেডিও কেনার উদ্দেশ্য কি ?
 
উদ্দেশ্য যদি হয় রেডিও শোনা / অনুষ্ঠান উপভোগ করা / বিনোদন তাহলে যে কোন রেডিও আপনি কিনতে পারেন। এমন কি রেডিও না কিনে মোবাইলে বা পিসি / ল্যাপটপে অনলাইন রেডিও শুনতে পারেন। এতে বরং আপনি অনেক ভালভাবে অনুষ্ঠান উপভোগ করতে পারবেন। কারণ রেডিও সেটে অনুষ্ঠান শুনতে গেলে আজকাল প্রচুর নয়েজ হয়, ষ্টেশন দূরে হলে সাউন্ড কোয়ালিটি ততোটা ভাল থাকে না, আবার ফেডিং এর কারণে উঠানামাও হয়।
 
এখানে আরেকটা কথা বলে রাখা ভাল, অনুষ্ঠান উপভোগ করতে চাইলে আপনাকে মূলত স্থানীয় মিডিয়াম ওয়েভ এবং এফএম ষ্টেশনের উপর নির্ভর করতে হবে। আর স্থানীয় মিডিয়াম ওয়েভ এবং এফএম ষ্টেশনের জন্য খূব দামী কোন রেডিও সেটের দরকার নাই। ৫০০ টাকার পকেট রেডিও থেকে শুরু করে ১৫০০ টাকার সাধারন এনালগ / ডিজিটাল রেডিও হলেই চলে।
 
এখন আপনার উদ্দেশ্য কেবল অনুষ্ঠান শোনা না, আপনি দূনিয়ার কোথায় কোন রেডিও ষ্টেশন অনুষ্ঠান প্রচার করছে তা খূঁজে খূঁজে বের করতে চান। মানে ডিএক্সইং করতে চান। তাহলে বলবো শুরুতে ১ / ১.৫ হাজার টাকার রেডিও দিয়ে শুরু করুন। লম্বা তাঁর দিয়ে এন্টেনা তৈরী করুন। এরপর মিডিয়াম ওয়েভ বা শর্টওয়েভে ধীরে ধীরে টিউন করুন। সাধারণ রেডিও’তে দূর্বল ষ্টেশন খূঁজে পাওয়ার জন্য ধৈর্য্য প্রয়োজন সবচেয়ে বেশী। একটা দূর্বল কিংবা দূরের ষ্টেশন খূঁজে বের করার জন্য দিনের পর দিন বা মাসের পর মাস ও অপেক্ষা করতে হতে পারে। আজ হয়তো শুনতে পারলেন না, কয়েকদিন পর আবহাওয়া পরিবর্তনের কারণে হয়তো সেটা ঠিকই শুনতে পারবেন। আবার কোন কোন দূরবর্তী ষ্টেশন হয়তো এই গ্রীষ্মে শোনা যাবে না, শরৎ এর শুরুতে বা শীতকালে রাতের বেলা ঠিকই হয়তো ধরা পড়বে।
 
মনে করেন এই ১ / ১.৫ হাজার টাকা দামের রেডিও দিয়ে আপনি অনেকটাই এক্সপার্ট হয়ে গেছেন। আরেকটু ভাল রেডিও সেট দরকার। বাজেট বাড়ান, এই ধরেন ৫-৭ হাজার টাকা। টাকা জমানোর চেষ্টা করেন। তারপর অনলাইন রিভিউ দেখে বা কারো সাথে আলাপ করে বাজার চলতি একটা রেডিও সেট কিনেন। ডিএক্সইং করতে চাইলে কখনও সেকেন্ডহ্যান্ড / পুরাতন বা আগের কোন নামকরা ব্র্যান্ডের রেডিও কিনতে যাবেন না। কেউ যদি বলে আমেরিকা থেকে আনা এই নামকরা ব্র্যান্ডের পুরাতন সেটে স্যাটেলাইট এর কথা শুনতে পারবেন – পুরা ইগনোর করুন। হয় তার মাথায় প্রব, না হয় তার রেডিও’তে প্রব না হয় সে যেন তেন ভাবে একটা রেডিও আপনাকে গছিয়ে দিতে চাচ্ছে।
 
আবারও বলি ডিএক্সিং করতে চাইলে লেটেষ্ট টেকনোলজির লেটেষ্ট মডেলের রেডিও সেট কিনবেন, আপনার সাধ্যের মধ্যে।
আর সবচেয়ে বড় কথা হলো এই রেডিও দিয়ে আপনি দূনিয়ার সব ষ্টেশন ধরতে পারবেন এমন কোন কথা নাই। আপনার রেডিও সেটের লোকেশন, এন্টেনা কি ব্যবহার করছেন বা কোথায় বসিয়েছেন, সাথে আবহাওয়া, দিন নাকি রাত এসব নানা বিষয় জড়িত, আবার সূর্যের নানা বিষয় এবং আয়নোস্ফিয়ার এর ব্যাপার স্যাপার তো থাকছেই।
 
তাই আমার শেষ কথা হলো, অনুষ্ঠান উপভোগ করতে চাইলে সাধারণ রেডিও সেট দিয়ে স্থানীয় মিডিয়াম ওয়েভ বা এফএম ষ্টেশন শোনাই ভাল। আন্তর্জাতিক রেডিও ষ্টেশন উপভোগ করতে চাইলে এখন ইন্টারনেট ব্যবহার করাটাই শ্রেয়। ডিএক্সইং করতে চাইলে একটু ভাল মানের ডিজিটাল রেডিও এবং ভাল এন্টেনা দরকার। তারপরও ঢাকায় বসে ওয়াশিংটন ডিসির কোন রেডিও ষ্টেশন ধরা যাবে এমন কোন রেডিও সেটের খোঁজ করতে যাবেন না।
 
হ্যাপি ডিএক্সইং

রিফাত জামিল ইউসুফজাই

জাতিতে বাঙ্গালী, তবে পূর্ব পূরুষরা নাকি এসেছিলো আফগানিস্তান থেকে - পাঠান ওসমান খানের নেতৃত্বে মোঘলদের বিরুদ্ধে লড়াই করতে। লড়াই এ ওসমান খান নিহত এবং তার বাহিনী পরাজিত ও পর্যূদস্ত হয়ে ছড়িয়ে পড়ে টাঙ্গাইলের ২২ গ্রামে। একসময় কালিহাতি উপজেলার চারাণ গ্রামে থিতু হয় তাদেরই কোন একজন। এখন আমি থাকি বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকায়। কোন এককালে শখ ছিলো শর্টওয়েভ রেডিও শোনা। প্রথম বিদেশ ভ্রমণে একমাত্র কাজ ছিলো একটি ডিজিটাল রেডিও কেনা। ১৯৯০ সালে ষ্টকহোমে কেনা সেই ফিলিপস ডি ২৯৩৫ রেডিও এখনও আছে। দিন-রাত রেডিও শুনে রিসেপশন রিপোর্ট পাঠানো আর QSL কার্ড সংগ্রহ করা - নেশার মতো ছিলো সেসময়। আস্তে আস্তে সেই শখ থিতু হয়ে আসে। জায়গা নেয় ছবি তোলা। এখনও শিখছি এবং তুলছি নানা রকম ছবি। কয়েক মাস ধরে শখ হয়েছে ক্র্যাফটিং এর। মূলত গয়না এবং নানা রকম কার্ড তৈরী, সাথে এক-আধটু স্ক্র্যাপবুকিং। সাথে মাঝে মধ্যে ব্লগ লেখা আর জাবর কাটা। এই নিয়েই চলছে জীবন বেশ।