ষ্ট্রিমিং সার্ভিস

নেটফ্লিক্স আর আমাজন প্রাইম এর কথা আগে কেবল শুনতামই। গ্রাহক হওয়ার চিন্তাই করতে পারতাম না। এক তো ফি আমার জন্য বেশী ছিলো, তারপর আবার ডলারে পেমেন্ট করার প্রক্রিয়া আবার বেশ জটিল। সেই সাথে ছিলো স্লো নেট স্পিড। নেট স্পিড এখন অনেক ভাল হয়েছে আগের তুলনায়। প্রিপেইড ডুয়াল কারেন্সি কার্ডের বদৌলতে অবশ্য ডলারে পেমেন্ট করার প্রক্রিয়া সহজতর হয়েছে। তবে ভ্যাট ইত্যাদি দিয়ে খরচ অনেক বেশী পরে যায়।

এদিকে আবার কিছু দেশী বা ভারতীয় ষ্ট্রিমিং সাইট আত্মপ্রকাশ করেছে। তাই ভাবছিলাম এরকম কোন সাইটেরই গ্রাহক হই। ফেসবুকে ‘তকদীর’ ওয়েব সিরিজের অব্যাহত ভাল রেটিং এবং রিভিউ দেখে ইচ্ছেটা আরো বেশী হলো।

খোঁজ নেয়া শুরু করলাম। মোটামুটি ৩টা ষ্ট্রিমিং সার্ভিস পছন্দ করলাম। ক. হইচই খ. আড্ডাটাইমস আর ৩. Binge, আরো ২/৩টা লিষ্টে ছিলো। আপাতত এই ৩টা নিয়েই ভাবছিলাম। ‘তকদীর’ ছিলো হইচই এর প্রোডাকশন আর আড্ডাটাইমস সাম্প্রতিক সময়ে সত্যজিৎ রায়ের ‘ফেলুদা’ নিয়ে ওয়েব সিরিজ শুরু করেছে। আর Binge পছন্দ করার কারণ ছিলো তাদের সার্ভিস না কিনলেও ১২০টি টিভি চ্যানেল ফ্রি দেখা যেতো। তবে এর জন্য একটা ছোট এন্ড্রয়েড ডিভাইস কিনতে হতো, যার দাম ৪ হাজার টাকা। তবে সবগুলোরই বাৎসরিক ফি ৪/৫ শত টাকা। ফেসবুকে পোষ্ট দেয়ার পর সবাই একবাক্যে হইচই এর কথা বললো।

এইসব সার্ভিস নিয়ে যখন ভাবছি তখনই ফেসবুকে একটি স্পন্সর্ড এড চোখে পরলো। নাম ওয়ানফ্লিক্স। তবে এরা সরাসরি কোন প্রোডাকশনের সাথে জড়িত না। তারা বিভিন্ন ষ্ট্রিমিং সার্ভিসের প্ল্যাটফর্ম হিসাবে কাজ করে। মানে ভিভিন্ন সার্ভিসের ওয়েব সিরিজগুলি তাদের মাধ্যমেই পাওয়া যায়। তার মধ্যে হইচই ও আছে। অনেক ভেবে চিন্তে এদের সার্ভিসই নেয়া ঠিক করলাম। সার্ভিস চার্জ অবশ্য একটু বেশী ১৫০ / ১৯০ টাকা প্রতি মাস। বাৎসরিক হিসাবে হইচই / আড্ডাটাইমস এর চাইতে অনেক বেশী। তারপরও নিতে চাইলাম কারণ এদের মাধ্যমে প্রোডাকশনগুলোর ভালমন্দ বুঝা যাবে। প্রয়োজনে ভবিষ্যতে এরকম কোন সার্ভিস নেয়াও যেতে পারে।

কয়েকদিন আগে বিকাশে পেমেন্ট করে সার্ভিস নিলাম। কয়েক মিনিটের মধ্যেই ইমেইলে ইউজারনেম আর পাসওয়ার্ড পেয়ে গেলাম। সাথে ষ্ট্রিমিং সার্ভার এর লিংক। যদিও সার্ভিস চালু হতে পরদিন পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়েছিলো। গতকাল আর আজ হইচই এর ‘তকদীর’ ওয়েব সিরিজটি দেখে শেষ করলাম। ২/৩ বার কয়েক সেকেন্ড এর জন্য এরর দেখিয়েছিলো। আর চলার সময় ২/৩বার আটকে গিয়েছিলো। তবে প্রতিবারই কয়েক সেকেন্ডের মদ্যে আবার চালু হয়েছিলো। আমি ডেস্কটপ পিসিতে ৭২০পি রেজ্যুলিউশনে দেখেছি। ছবির কোয়ালিটি তাতে মোটামুটি মনে হয়েছে। ফুল এইচডি চেষ্টা করি নাই, তাতে নেটস্পিডে হয়তো প্রভাব পরতো।

আপাতত ভালই মনে হচ্ছে। সামনের দিনগুলিতে হয়তো বলতে পারবো এই সার্ভিস চালিয়ে যাওয়া যাবে কি না।

রিফাত জামিল ইউসুফজাই

জাতিতে বাঙ্গালী, তবে পূর্ব পূরুষরা নাকি এসেছিলো আফগানিস্তান থেকে - পাঠান ওসমান খানের নেতৃত্বে মোঘলদের বিরুদ্ধে লড়াই করতে। লড়াই এ ওসমান খান নিহত এবং তার বাহিনী পরাজিত ও পর্যূদস্ত হয়ে ছড়িয়ে পড়ে টাঙ্গাইলের ২২ গ্রামে। একসময় কালিহাতি উপজেলার চারাণ গ্রামে থিতু হয় তাদেরই কোন একজন। এখন আমি থাকি বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকায়। কোন এককালে শখ ছিলো শর্টওয়েভ রেডিও শোনা। প্রথম বিদেশ ভ্রমণে একমাত্র কাজ ছিলো একটি ডিজিটাল রেডিও কেনা। ১৯৯০ সালে ষ্টকহোমে কেনা সেই ফিলিপস ডি ২৯৩৫ রেডিও এখনও আছে। দিন-রাত রেডিও শুনে রিসেপশন রিপোর্ট পাঠানো আর QSL কার্ড সংগ্রহ করা - নেশার মতো ছিলো সেসময়। আস্তে আস্তে সেই শখ থিতু হয়ে আসে। জায়গা নেয় ছবি তোলা। এখনও শিখছি এবং তুলছি নানা রকম ছবি। কয়েক মাস ধরে শখ হয়েছে ক্র্যাফটিং এর। মূলত গয়না এবং নানা রকম কার্ড তৈরী, সাথে এক-আধটু স্ক্র্যাপবুকিং। সাথে মাঝে মধ্যে ব্লগ লেখা আর জাবর কাটা। এই নিয়েই চলছে জীবন বেশ।