১. আজ (২৬শে ফেব্রুয়ারী, ২০২৩) ঘুম থেকে উঠে মোবাইলে এসএমএস চেক করে দেখি আমার ৪র্থ ডোজ কোভিট ভ্যাকসিনের মেসেজ এসেছে ২৩ তারিখে। কিন্তু এটা চোখে পড়ে নাই। যাই হোক ১১টার দিকে প্রিন্টআউট বের করলাম। অতঃপর কুয়েত-বাংলাদেশ মৈত্রী হাসপাতালের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করলাম। ইদানিং উত্তরার ভিতর সাধারণত রিক্সা ছাড়াই হেটে যাতায়াত করি, যদি না কোন তাড়া থাকে। প্রথমে হেটে গেলাম আজমপুর বাস ষ্ট্যান্ড। ওভার ব্রিজ দিয়ে রাস্তা পার হয়ে হাটতে হাটতে হাসপাতালে।
হাসপাতালে পৌছে টিকা কার্ড বের করে দিতেই কাউন্টারের ভদ্রলোক বললেন টিকা শেষ। সামনে রাখা কাগজের দিকে দেখিয়ে বললেন এই ফোন নাম্বারটা নিয়ে যান। ফোন করে খবর নিয়েন টিকা আসছে কিনা। জানতে চাইলাম কবে নাগাদ আসতে পারে। তিনি বললেন সেটাও বলতে পারছি না। কি আর করা।
২. এবারের গস্তব্য সেক্টর ১১, দারাজের কালেকশন পয়েন্ট। ৩ জোড়া জুতা (স্নিকার্স) অর্ডার করেছিলাম। তারমধ্যে দু’টো কালেকশন পয়েন্টে চলে এসেছে। ৩য়টি বাসায় ডেলিভারী দিবে, ফ্রি শিপমেন্ট ছিলো। হাসপাতাল থেকে বের হয়ে হাটতে হাটতে গেলাম হাউজ বিল্ডিং এর মোড়ে। এখানে আপাতত কোন ওভার ব্রীজ নাই, অপেক্ষা করতে হয় ট্রাফিক সিগনালে গাড়ী দাড়ানোর জন্য। দুই দিকের সিগনাল বন্ধ হলেও আরেক দিকে সিগনাল খোলা থাকে। ফলে খূব দেখে শুনে পার হতে হয়। যাই হোক ধীরে সুস্থে রাস্তা পার হলাম।
এরপর জমজম মোড়, সেখান থেকে ১১ নাম্বার সেক্টরে জুয়েল টাওয়ার। প্যাকেট নিয়ে যখন ব্যাগে ভরতে যাবো তখন ফোন এলো। দারাজের ডেলিভারীম্যান জানালো সে আমার প্রোডাক্ট নিয়ে বাসার সামনে। তাকে বললাম কাকে দিতে হবে। অতঃপর আবার হাটতে হাটতে বাসায়। বাসায় সে দেখি ঠিকমতো রিসিভ করেছে দারাজের প্রোডাক্ট।
৪. দারাজ থেকে এর আগে একজোড়া স্নিকার্স কিনেছিলাম। জিনিস ভাল ছিলো, কিন্তু আমি অর্ডার করার সময় ইউকে সাইজ আর ইইউ সাইজ গরবর করে ফেলায় সেটা একটু টাইট হচ্ছিলো। মোজা সহ পড়তে গেলে তো গলদঘর্ম অবস্থা। এবার তাই রীতিমতো চার্ট দেখে তারপর অর্ডার করেছিলাম।
এই স্নিকার্স গুলো মনে হয় লটে ইম্পোর্ট করা। হয়তো কোন ত্রুটি আছে। এমনিতে মনে হয় আমার পায়ে কোন সমস্যা আছে। চামড়ার জুতা কিছুদিন ব্যবহার করলে দেখা যায় হিলের একসাইড বেশী ক্ষয় হয়। মানে জুতা বেশীদিন টেকে না। যখন থেকে নিজের জুতা নিজে কিনি, সব সময়ই বাটার জুতা কিনতাম। এটা টিকতো বেশী দিন।
ইদানিং চামড়ার জুতা পড়া হয় কম। কোন অনুষ্ঠান থাকলেই কেবল ফর্মাল ড্রেস কোড। নাহলে সাধারণ প্যান্ট কিংবা স্পোর্টস ট্রাউজার্স, টিশার্ট বা পোলো শার্ট আর পায়ে স্নিকার্স। কোনটাই দামী না, মানেও সাধারণ। আমি অবশ্য কোনদিনই পশ না। ড্রেসের চাইতে আমার টাকা খরচ হয় বেশী ইলেক্ট্রনিক্সে। যেমন কম্পিউটার, ক্যামেরা, রেডিও আর নানা গ্যাজেট। ড্রেস একটা পরলেই হলো, ন্যাংটা হয়ে তো আর বের হচ্ছি না।
৩ জোড়া স্নিকার্স কিনতে খরচ হলো ১০০০ টাকার মতো। জ্বি জনাব, ঠিকই শুনেছেন। ১ম জোড়া ৪৩২ টাকা, ২য় জোড়া ৩০৫ টাকা (+ ১৫ টাকা শিপিং) এবং ৩য় জোড়া ২৪৯ টাকা (+ ১৫ টাকা শিপিং)। মানে সর্বমোট ৯৮৬ টাকা। সাথে ৩০ টাকা শিপিং। বছর তিনেক আগে Lotto থেকে ৭০০ টাকা দিয়ে একজোড়া ক্যানভাসের স্নিকার্স কিনেছিলাম। সেটা ভালই সার্ভিস দিয়েছে। মাস খানেক আগে সেটার গোড়ালির দিকের কাপড়টা ছিড়ে গেছে। নতুনগুলো কয়দিন যায় দেখা যাক। চামড়ার এক জোড়া ভাল মানের জুতা কেনার ইচ্ছে আছে, ভাল দাম দিয়েই কিনবো। সাথে একসেট ভাল শার্ট-প্যান্ট।
৪. আজ সারাদিনে মোট হাজার দশেক ষ্টেপস হয়েছে। আরেকটু বেশী আশা করেছিলাম। তাও মন্দ না।
ফেসবুক মন্তব্য